প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সম্মানে জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ী সংগঠনের নৈশভোজ

রাহমান মনি: অতি সম্প্রতি জাপানে অনুষ্ঠিত জি-সেভেন বৈঠকের আউটরিচ প্রোগ্রামে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিলেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যথারীতি এবারও তার সফরসঙ্গীদের বহরে ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা। যার নেতৃত্বে ছিলেন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) বা বণিক সমিতির সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

২৬ ও ২৭ মে দুই দিনব্যাপী জি-সেভেনের বৈঠকটি হয় মিএ প্রিফেকচারের ইসেশিমাতে। বৈঠক শেষে প্রতিনিধি দল ২৮ মে দুপুরের পর টোকিও পৌঁছায়। এই দিন বিকেলে টোকিওতে নিজস্ব জমিতে বাংলাদেশ দূতাবাস ভবন উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন করেন।

২৮ মে রাতে হোটেল নিউ ওতানি টাওয়ার বিল্ডিংয়ের টাওয়ার গার্ডেনে প্রতিনিধি দলের ব্যবসায়ী সদস্যদের সৌজন্যে বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ইন জাপান (বিসিসিআইজে)-এর নেতৃত্বে জাপান প্রবসী ব্যবসায়ীরা এক নৈশভোজের আয়োজন করে।

নৈশভোজে বাংলাদেশ থেকে আগত এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ছাড়াও মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। জাপান ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিসিসিআইজের সভাপতি বাদল চাকলাদার, সাধারণ সম্পাদক হাকিম মো. নাসিরুল। অপরদিকে সফররত ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন এফবিসিসিআইর সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ, চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাহবুব আলম এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বারভিডা নেতা হাবিব উল্লাহ ডন প্রমুখ।

নৈশভোজে ব্যবসায়ী নেতারা একে অপরের সঙ্গে পরিচিতি পর্ব, ভিজিটিং কার্ড বিনিময় এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি উভয় দেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জন্য সফররত ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল জাপান প্রবাসী ব্যবসায়ীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

জাপান ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাই এবং অনেক জাপানি কোম্পানিও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী কিন্তু এই ক্ষেত্রে বড় বাধা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা। এই সময় তারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, এইসব পরিস্থিতির শিকার হয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই অনেক জাপানিজের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এখন আর আগ্রহ প্রকাশ করেন না। জাপানি ব্যবসায়ীরা চান নির্ভরতা। ব্যবসা হলো কি হলো না তা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। নির্ভরভাবে ব্যবসা করার সুযোগ পেলে সাফল্য একদিন আসবেইÑ এ কথাটি জাপানি ব্যবসায়ীরা ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন।

আমন্ত্রিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ বাস্তব সত্যতা স্বীকার করেন এবং এই ব্যাপারে তাদের তরফ থেকে যদি কোনো প্রকার সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তবে আন্তরিকভাবেই সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তারা বলেন, এই আমাদের দেশ এভাবেই আমাদের এগুতে হবে।

অত্যন্ত সৌহার্দ্য ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে নৈশভোজ সমাপ্ত হয়।

সাপ্তাহিক

Comments are closed.