গজারিয়ায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৩৫০ একর জমি অধিগ্রহণ হচ্ছে

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ৩৫০ একর জমি অধিগ্রহণ করছে সরকার। এ জন্য ইমামপুর ইউনিয়নে ষোলআনী ও দৌলতপুর মৌজায় এই জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় জমি। ৩৫০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি যাতে বাস্তবায়নে কোনো সমস্যার সৃষ্টি না হয় এজন্য আগে থেকেই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

জমি অধিগ্রহণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৫০৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ৪৫৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং বাস্তববায়নকারী সংস্থার তহবিল থেকে ৪৬ কোটি ৯৮ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য জুয়েনা আজিজ পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, ‘প্রকল্পটির আরপিসিএল মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় স্থাপিত ৩৫০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়নসহ অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো তৈরি করা হবে। তাই পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে।’

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি কর্মসূচির অংশ হিসেবে রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলায় একটি ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলাধীন ইমামপুর ইউনিয়নের ষোলআনী ও দৌলতপুর মৌজায় ৩৫০ দশমিক ২২ একর ভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচিত স্থানটি মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত।

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রশাসনিক অনুমোদন নিয়ে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ইতোমধ্যেই মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসককে ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম হিসেবে ৩৫০ দশমিক ২২ একর ভূমি অধিগ্রহণের জন্য এ প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি, ভূমি উন্নয়ন, উন্নয়নকৃত ভূমি রক্ষার জন্য চতুর্দিকে বাঁধ নির্মাণ ও সুরক্ষা এবং বৈদ্যুতিক সুবিধাদি স্থাপনার কাজ করা হবে। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে তা মূল বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্প অর্থাৎ ৩৫০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে- প্রস্তাবিত গজারিয়া ৩৫০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, অধিগ্রহণকৃত ভূমি উন্নয়ন, ভূমির সুরক্ষার নিমিত্ত বাঁধ নির্মাণ (৭ দশমিক ৩০১ কিলোমিটার), বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য বৈদ্যুতিক সুবিধা স্থাপন কেন্দ্র এবং প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের পুনর্বাসন করা হবে।

প্রকল্পের মূল ব্যয় হবে জমি অধিগ্রহণে ১৭০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, পুনর্বাসন কাজে ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৪৬ হাজার টাকা, ভূমি উন্নয়ন খাতে ১১৭ কোটি ৭১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, পরামর্শক খাতে ১৪ কোটি, বাঁধ নির্মাণে ২৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ভূমি রক্ষামূলক কাজে ১৩১ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.