সাঁকোয় চলে না, সেতুর দাবি

মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষকে এখনো বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। গ্রাম তিনটি হলো ছোট গুহেরকান্দি, বড় গুহেরকান্দি ও গজারিয়াকান্দি। দৈনন্দিন কাজসহ জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় এ সাঁকো দিয়ে আর চলছে না। তাই গ্রামবাসী সাঁকোর জায়গায় সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার পর চরাঞ্চলের দিকে প্রথম ইউনিয়নটি হচ্ছে চরকেওয়ার। জেলা শহর থেকে চরকেওয়ারের দূরত্ব মাত্র তিন কিলোমিটার। এ ইউনিয়নের তিন গ্রাম ছোট গুহেরকান্দি, বড় গুহেরকান্দি ও গজারিয়াকান্দির জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার। জেলা শহরসহ আশপাশের উপজেলায় যাতায়াতে এ জনগোষ্ঠীকে মাকহাটি-লোহারপুল-কাটাখালী সড়ক ব্যবহার করতে হয়। তিন গ্রাম ছাড়াও পাশের ভিটিহোগলাকান্দির লোকজনকেও জরুরি প্রয়োজনে এ পথে যেতে হয়।

এলাকাবাসী বলেন, যাতায়াতের সুবিধার জন্য তিন গ্রামের মানুষ একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেন। এ সড়ক মাকহাটি-লোহারপুর-কাটাখালি সড়কের লোহারপুলের অংশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ সংযোগ সড়কটির এক প্রান্ত ছোট গুহেরকান্দি গ্রামের প্রবেশমুখের সঙ্গে এবং অন্য প্রান্ত লোহারপুলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সড়কের লোহারপুলের অংশে খালের ওপরে ছোট একটি কালভার্টও নির্মাণ করা হয়। তবু গ্রামবাসী সরাসরি যাতায়াত করতে পারছেন না। কারণ, কয়েক শ মিটারের সংযোগ সড়কের মাঝখানে পড়েছে কালিদাশ নদী। নদীর ওপরই রয়েছে সেই বাঁশের সাঁকো।

ছোট গুহেরকান্দি গ্রামের আল মামুন বলেন, দুই বছর আগে তিন গ্রামের মানুষ নিজেদের খরচে মাটি ভরাট করে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করেন। এরপর সড়কের মুখে একটি কালভার্টও নির্মাণ করা হয়। এখন সেতুর অভাবে গ্রামের স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েসহ হাজারো মানুষকে প্রতিদিন কষ্ট করে সাঁকো পার হয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

বড় গুহেরকান্দি গ্রামের হানিফ সরকার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা জনপ্রতিনিধিদের কাছে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছি।’

এলজিইডির সদর উপজেলার প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চাইলে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারেন। তাই এলাকাবাসী তাঁদের কাছে দাবিটি পেশ করতে পারেন।

স্থানীয় সাংসদ মৃণাল কান্তি দাস গতকাল শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, সেতুটি করার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রথম আলো

Comments are closed.