বিবাহ, জন্মদিন ও গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে বেড়ে যায় মাদক ও অশ্লীলতা

এম.এম.রহমান: মুন্সীগঞ্জে বিবাহ ,জন্মদিন ও গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শহরের অলি- গলিতে মাদক সেবীদের আড্ডা বেড়ে যায়। মুন্সীগঞ্জে সাধারণত শুক্রবারে বিবাহ জন্মদিন হয়ে থাকে বেশি। আর বৃহস্পতিবার থাকে গায়ে হলুদের আয়োজন এতে থাকে ভাড়া করা সাউন্ড সিস্টেম এর উচ্চস্বরে গান। রাত বিরাতে ভয়ংকর আতস বাজি করে এতে স্কুল কলেজে পড়ুয়া মেয়েরা পড়াশোনায় নানা সমস্যা হয়। অনেক অসুস্থ রোগী ঘুম থেকে চিৎকার করে ওঠে ভয়ে ভয়ে বলে কোথাও কোন সংঘর্ষ হচ্ছে কি না। মাঝে মধ্যে একাত্তর সালের যুদ্ধের আলামত মনে করে এলাকার সাধারণ মুক্তিযোদ্ধারা। সেই সাথে বাড়তি বিনোদনের জন্য ঢাকা -নারায়ণগঞ্জ থেকে বিভিন্ন ডেন্সক্লাবের সুন্দরী মেয়েদের ভাড়া করে আনে গানের তালে তালে নাচার জন্য। আর এসব অনুষ্ঠানে নাচনেওয়ালারা অনুষ্ঠানে আগত মেহমানদের মনোরঞ্জন করার জন্য অনেকটাই খোলামেলা এবং অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করেন। আর মাদক বিক্রেতারা সহজে এ ধরনের অনুষ্ঠান গুলোতে সব ধরনের মাদক পোঁছে দেয়।

ফলে ছোট বড় সব বয়সের ছেলে- মেয়েরা এসব মাদক গ্রহণ করে গানের তালে তালে মাতলামি করে। অনেক সময় মাদক সেবন করে ছেলে – মেয়েরা ভাড়া করা ডেন্সারদের সাথে নাচতে নাচতে শরীরের কাপড় চোপড় কি অবস্থা সেটা লক্ষ্য করে না। এসব অনুষ্ঠান দেখলে মনে হয় আমরা আজ দেশের বাহিরের কোন ডেন্সক্লাব বা কোন মদের ভাঁড়ে আনন্দফূর্তি করছে সেটা ঘুরে দেখলাম। আগত ডেন্সাররা নাচের মাধ্যমে এমন ভঙ্গি দেখায় যেন আগের দিনের কোন রাজা নিজে বসে প্রজাদের নিয়ে কোন নর্তুকির নাচ দেখছেন। আর এসব অশ্লীল নাচ সব বয়সের লোকেরা বসে বসে দেখে আবার হাতে তালি দেয়। উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা এ সুযোগে বিয়ার, মদ, গাঁজা, ইয়াবা, দেশি ও বিদেশি মদ পান করে মাতলামি করে। এতে করে সমাজে দ্রুত সামাজিক অবক্ষয় নেমে আসবে যা থেকে সামাজিক অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব হবে না। পুলিশ প্রশাসন বেশ কয়েকবার সাউন্ড সিস্টেম এর মালিকদের একাধিকবার সতর্ক করেছে কিন্তু তারা মুনাফা লাভের আশায় চালিয়ে যাচ্ছে যথারীতি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক এলাকা-বাসী জানান, ছেলে মেয়েরা বিবাহ জন্মদিনে আনন্দ করবে এটা স্বাভাবিক কিন্তু রাত বিরাতে উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম এর গান বাজনা এবং ছোট ছোট উঠতি বয়সের ছেলে মেয়েরা শখের বসবতী হয়ে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়বে এটা হতে দেয়া যায় না। এখান থেকে আমাদের ছেলে মেয়েদের বাঁচাতে হবে।

সচেতনমহল মনে করেন পুলিশ প্রশাসন সাউন্ড সিস্টেম এর ব্যাপারে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে এখন মাদকের ব্যাপারে এসব অনুষ্ঠান গুলোতে নজরদারিতে রাখলে ছেলে মেয়েদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করা যাবে।

দেওভোগ এলাকার ফকির আহম্মেদ জানান, মাদক বিক্রেতারা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এসব অনুষ্ঠানে মাদক সরবরাহ করে যুব সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এখুনি এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে প্রশাসন এমনটাই দাবী মুন্সি গঞ্জ বাসীর।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানান, এ সকল ব্যাপারে এলাকাবাসী আমাদেরকে জানালে সাথে সাথে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

চমক নিউজ

Comments are closed.