কল্পনা বহিষ্কার: আলোচনায় মুন্সীগঞ্জ আওয়ামী লীগ

দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ করে প্রার্থী হওয়ায় জেলা সদরের চরাঞ্চলের মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী মহাসিনা হক কল্পনাকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।তিনি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

এদিকে, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে বুধবার মহাসিনা হক কল্পনাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করায় মোল্লাকান্দির তৃণমূলের নেতারা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককের প্রতি ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।তারা জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিষ্কার করার দাবি তুলেছেন কেন্দ্রের কাছে। এদিকে মহাসিনা হক কল্পনাকে পদ থেকে বহিষ্কারের সতত্যা স্বীকার করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ লুৎফর রহমান।তিনি বলেছেন, কল্পনাকে দল থেকে নয়, তিনি যে পদে ছিলেন, সে পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

এদিকে, পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে মোল্লাকান্দির পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন আধারায় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুল কবির। একই ধাপের নির্বাচনে গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দি ইউনিয়নে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মাহবুবুল হক (মজনু), ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল মতিন মন্টু, গজারিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শফিউল্লাহ, ইমামপুরে বর্তমান চেয়ারম্যান মসছুর আহমেদ খান, আজিম খান, সাইদুর রহমান, ভবেরচরে শাহ আলম শামীম, ইউসুফ, সাহিদ মো. লিটন, বালুয়াকান্দিতে শহীদুজ্জামান, মো. শাহআলম, টেঙ্গারচরে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান খান, মো. কামরুল হাছান, এসএম ছালাহউদ্দিন এবং গুয়াগাছিয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক চৌধুরী বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর আগে ৭ই মে চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে টঙ্গীবাড়ীর বেতকা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আলম শিকদার বাচ্চু ও আউটশাহী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি জহিরুল হক লিটন ঢালী বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বনিদ্বতা করছেন।

পঞ্চসারে বিদ্রোহী প্রার্থী গোলাম মোস্তফার পক্ষে মাঠে সরাসরি প্রচারণা চালান জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বড় ছেলে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক ফয়সাল বিপ্লব। এখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরাও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। তাদের বহিষ্কার না করায় আওয়ামী লীগের একাংশে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছেন।

মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ খা, সাধারণ সম্পাদক আজহার উদ্দিন মোল্লা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. স্বপন দেওয়ান বলেন, মহাসিনা হক কল্পনা আমাদের তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. মহিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান কোনো কাউন্সিল না দিয়ে তারা একক সিদ্ধান্তে বিপুল অর্থের বিনিময়ে রিপন পাটোয়ারিকে মনোনীত করে। কিন্তু গত ৭ মে চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদরের পঞ্চসারে ও সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান বেতকায় বিদ্রোহী প্রার্থী দেয়। বেতকা ও পঞ্চসারে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বাধ্য হয়। কিন্তু তখন তারা প্রার্থীসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের পদ থেকে বহিষ্কার করেননি।পঞ্চম ধাপের নির্বাচনেও আধারাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে তাদের অনুসারী বিদ্রোহী প্রার্থীদের বহিষ্কার করেননি।

বিদ্রোহী প্রার্থী মহাসিনা হক কল্পনা একই অপরাধে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি করে বলেন, তারা আধারায় সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সামছুল কবিরকে প্রার্থী করিয়েছেন।জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির ছোট ভাই সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছউজ্জামান আনিছ আধারায় প্রকাশ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীরও প্রচারণা চালান। তাকে বহিষ্কার করা হচ্ছে না কেন?

আবার জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা যে পঞ্চসার ইউনিয়নে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী দিয়ে গোলাম মোস্তফার পক্ষে নির্বাচন করলেন, সেখানে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হলো-তার বিচার করবে কে।একইভাবে তারা আধারায়ও নৌকা ছেড়ে বিদ্রোহী প্রার্থীর নির্বাচন করছেন, তাদেরতো বিচার হওয়া উচিত।দলীয় সিদ্ধান্ত ভঙ্গ করার অভিযোগে কেন্দ্রের কাছে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, আমাকে বহিষ্কারের কোনো কাগজপত্র হাতে পাইনি।এলাকার জনগণ ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবির মুখে আমি নির্বাচন করছি।’

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান বিদ্রোহী প্রার্থী মহাসিনা হক কল্পনার বক্তব্যের ব্যাখ্যা করে বলেন, কল্পনা পার্টির সঙ্গে ৪০-৪৫ বছর ধরে রয়েছে।দলীয় নিয়মনীতি ভঙ্গের দায়ে তাকে দল থেকে নয়, তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

কামসুল আলম কবির সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা তাকে মনোনীত করেছিলাম, তাই তার ব্যাপারটি ভিন্ন।আমার পার্টির শৃঙ্খলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত আমার।পার্টির দায়-দায়িত্বও আমার।

তিনি আরও বলেন, টঙ্গীবাড়ির বেতকা ও আব্দুল্লাহপুরে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও নির্বাচন চলাকালীন সেখানে একদিনের জন্যও যাইনি।

পূর্ব পশ্চিম

Comments are closed.