প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩১৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি

২০১৬-১৭ সালের বাজেটে দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ১৪টি মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিতে ৩ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানিয়েছে জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে লিখিত এই দাবি সম্বলিত প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি বাজেট প্রস্তাবনা তুলে ধরে সংস্থাটি। প্রতিবন্ধী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক সাবেক আইনমন্ত্রী আব্দুল মতিন খসরু সংস্থার নেতাদের নিয়ে মন্ত্রীর কাছে যান।

মতিন খসরু বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ চাই, যাতে তারা নিজের পায়ে স্বাবলম্বী হিসাবে দাঁড়াতে পারে। আমরা কারও ভিক্ষাবৃত্তি বা করুণার উপর বাঁচতে চাই না। সম্মান ও সম মর্যাদার ভিত্তিতে বাঁচতে চাই।”

প্রস্তাবনায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু, স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া, গণপূর্ত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, আইসিটি, সংস্কৃতি, পরিকল্পনা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান- এই ১২টি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২৪০ কোটি টাকা থোক বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচিভিত্তিক কাজে বাকি অর্থ বরাদ্দের দাবি জানানো হয়।

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন বলেন, “প্রতিবন্ধীরা যে মানুষ, তাদের কাজ ও সব কিছুকে নিয়েই যে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে-সেটা কয়েক বছর আগেও আমরা জানতাম না।”

নিজের পরিবারে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার স্বামী। চার্টার্ড অ্যাকাউটেন্ট, বর্তমানে সিএ ইনস্টিটিউটের কনসালটেন্ট। সে সব জায়গায় যেতে চায়। সব মিটিংয়ে সব কিছুতে। কিন্তু প্রায় প্রতিটা জায়গার পরিবেশ প্রতিবন্ধীবান্ধব না। দুইজন মানুষ টেনে উঠায়, নাহলে চারজন মানুষ টেনে চেয়ারসহ উঠায়।”

শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রতিবন্ধীদের এই অবস্থা হলে অন্য প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কী অবস্থা হতে পারে- সেই দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, তাদের চলাফেরা সহজ করে দিতে হবে। তাদের চলাফেরা খুবই কঠিন।

জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরামের মহাসচিব সেলিনা আখতার বলেন, প্রতিবন্ধীরা মানুষ। তারা দেশের অলঙ্কার। তাদের অনেক মেধা আছে। তাদের সেই মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়নে সম্পৃক্ত করতে পারলে দেশ সমৃদ্ধশালী হবে। তারা বোঝা হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি পড়াশোনা করছি এবং কর্মজীবনে প্রতিবন্ধিতা নিয়ে ১৩ বছর কাজ করছি। বাংলাদেশের জাতীয় সেনসাসে প্রতিবন্ধী মানুষের যে সংখ্যার কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল। প্রতিবন্ধী মানুষের সংখ্যা এত কম নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ১০ শতাংশ। আমার ধারণা এর চেয়েও বেশি।”

প্রতিবন্ধীদের সবাই সরকারি ভাতা পায় না অভিযোগ করে তিনি বলেন, “একটা গ্রামে ১০০ প্রতিবন্ধী মানুষকে জিজ্ঞেস করে দেখা যায় ১০ জন পায়। গ্রামে প্রতিবন্ধী ভাতা একটা বিশাল ইস্যু। টাকার পরিমাণ যদিও খুবই কম। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ৫০ জনের মধ্যে ৪-৫ জন পায়।”

বিডিনিউজ

Comments are closed.