বিএনপির দূর্গ মুন্সীগঞ্জ এখন আ”লীগের দখলে

দলীয় কর্মকান্ড বিলুপ্তির পথে
এম.এম.রহমান: এক সময়ে মুন্সীগঞ্জ জেলাকে বিএনপির ঘাঁটি বলা হতো । কালের বিবর্তনে তৃণমূল নেতা কর্মীদের বিভিন্নভাবে অবমূল্যায়ন, টাকার বিনিময়ে পকেট কমিটিসহ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য জেলা বিএনপির কর্মকান্ড এখন বিলুপ্তির পথে। এক নেতার আধিপত্য বিস্তার , নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে ব্যর্থতা এবং নেতৃত্ব হীনতার কারণে দিন দিন দলের একনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা কর্মীরা দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

শত শত নেতা কর্মী বিএনপির দল করে হামলা এবং মামলায় পরে অর্থ সম্পদ হারিয়েও কোন মর্যাদা পায়নি তৃণমূল নেতা কর্মীরা। দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করা কর্মীদের অবমূল্যায়ন না করার ফলে গত ১ বছরে মুন্সীগঞ্জের অধিকাংশ বিএনপির নেতা কর্মী আওয়ামীলীগে যোগদান করেছে বলে জানান একাধিক তৃণমূল নেতা কর্মী। মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই এর পঞ্চসার ইউনিয়নটি ছিল বিএনপির মূল ঘাঁটি।এখানে স্বাধীনতার তেতাল্লিশ বছরে পঞ্চসারে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রচার করতে পারেনি আওয়ামীলীগ। পারিনি ১৫ই আগস্টসহ বিভিন্ন দিবসে আওয়ামী লীগের কোন অনুষ্ঠান করতেও। এমনকি বিরোধী আন্দোলনেও আওয়ামিলীগ কোন কর্মসূচি পালন করতে পারেনি পঞ্চসারে।

কিন্তু পঞ্চসারে এখন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজে এবং বিভিন্ন দিবস পালিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে পঞ্চসার এখন আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে পঞ্চসারের বিএনপির অন্যতম শক্তি গোলাম মোস্তফাকে আওয়ামী লীগে এনে। ৫০ হাজারের বেশি ভোটার অধ্যষিত শিল্প নগরী খ্যাত পঞ্চসার এখন আওয়ামিলীগের শক্ত দুর্গে পরিণত হয়েছে।

গত ২৭ শে ফেব্রুয়ারি জেলা বিএনপির সভাপতির আপন চাচাতো ভাই গোলাম মো¯ত্মফা তার ১০-১২ হাজার কর্মী সমর্থক নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এবং বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের হাতে নৌকার স্মারক তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। তাছাড়া এক কালের রাজপথ কাঁপানো নেতা আক্তার হাজীও আওয়ামিলীগে যোগদান করেন।

তাছাড়া ৬টি উপজেলাতেও বিএনপির হাজার হাজার নেতা,কর্মী ও সমর্থকরা আওয়ামিলীগে যোগদান করেন। পঞ্চসারে শতকরা আশি ভাগ ভোটার ছিল বিএনপির। গোলাম মোস্থফা আওয়ামিলীগে যোগ দেওয়ার কারণে বর্র্তমানে সেটা পালটে গিয়ে আওয়ামিলীগের পাল্লা ভারী হয়েছে । পঞ্চসার ইউনিয়নে ৫০ হাজারের বেশি ভোটার রয়েছে। যা জাতীয় নির্বাচনে এ ভোট ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে বলে অনেকে মনে করছেন। মুন্সীগঞ্জ সদর, গজারিয়া,টংগীবাড়ী, লৌহজং, শ্রীনগর, সিরাজদিখানেও বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী সমর্থক আওয়ামিলীগে যোগদান করেছেন।

পুরো জেলার পরিসংখানে দেখা গেছে অধিকাংশ জায়গাতেই নেতৃত্বের কারণে বিএনপির কর্মীর সংখ্যা কমে গেছে। উল্লেখ্য, নেতৃত্ব-হীনতার কারণে এবং এক নেতার আধিপত্যের কারণেই গোলাম মোস্তাফার আওয়ামিলীগে যোগদান।জেলা বিএনপি দলীয় যে কোন কর্মকান্ডে কোন কর্মী সমর্থক খূঁজে পাওয়া যায় না এখন। তাছাড়া বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচী যেমন ১৬ই ডিসেম্বর, ২৬ শে মার্চ ও ২১ শে ফেব্রুয়ারির মতো জাতীয় অনুষ্ঠান গুলোতে শহীদ ব্যাধিতে ফুল দেওয়ার মতো কর্মীও খুঁজে পায়না জেলা বিএনপি।

তাছাড়া দলীয় যে কোন কর্মসূচীতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে পুরো জেলার বিএনপিও তার সকল অংগসংগঠন মিলিয়ে ৫০জন লোক সমাবেত করতে পারেনা এখন।

উল্লেখ্য, এবারে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তাদের দলের চেয়ারম্যান প্রার্থী দিতে পারেনি। আবার কোথাও দিলেও তাদের মধ্যে তেমন একটা তৎপরতা দেখা যায়নি। স্বাধীনতার পর অধিকাংশ সময়ই সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ের পাল্লা ছিল ভারী পঞ্চসারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক তৃণমূল নেতা বলেন, আমাদের বিএনপিতে এক নেতার আধিপত্য বিস্তার, নানা সময়ে কর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং টাকার বিনিময়ে কমিটি বাণিজ্য করার কারণে দল থেকে অধিকাংশ নেতা কর্মী মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অনেকে আবার দল ছেড়ে আওয়ামিলীগে যোগদান করেছে।

জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, সরকার দলীয় লোক রাতের আঁধারে ফোন করে বলে তাদের কথার বাহিরে গেলে খুন করে গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। এ কারণে ভয়ে নেতা কর্মীরা কোন দলীয় কর্মকান্ডে আসতে সাহস পাচ্ছে না। সবারইতো জীবনের প্রতি মায়া আছে। বিরোধী দলকে রাজনীতি করতে দেওয়ার দায়িত্ব ছিল সরকারের সে দায়িত্ব সরকার পালন করে না। সব কাজে সরকারী বাঁধা হুমকি । বিরোধী দলকে দমন করে নিজেদের ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায় সরকার। সত্য কথা বললে খুন গুম হওয়ার সম্ভাবনা আবার কেউ জীবন বাঁচাতে দল ছেড়ে চলে গেছে এটা কোন বিষয় না । দেশে সুষ্ঠু রাজনীতির পরিবেশ নাই।

বিগত দিনের কর্মকান্ড পর্যালচনা করে রাজনীতিক বিশেষকরা মনে করছেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপি কর্মকান্ড প্রায় বিলুপ্তির পথে যাচ্ছে। এ থেকে উত্তোলনের জন্য জেলা বিএনপিকে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে হবে। অন্যথায় জেলা বিএনপির কর্মকান্ড বিলুপ্তি হয়ে যাবে অচিরেই এমনটা ধারণা করছেন তৃণমূলের নেতা কর্মী ও সমর্থকরা।

চমক নিউজ

Comments are closed.