বাড়িখালিঃ পূরবী বসুর কবিতা

বাড়িখালি-১
যশোরের বাড়িখালি।
তিরিশ জনের বাড়ি খালি।
কিন্তু ক্যান্‌?
শাহীন চেয়ারম্যান।
ঘর ছেড়ে সব বনে গেছে ভাই
বাড়িখালির তিরিশ বাড়ি খালি আছে তাই।

বাড়িখালি-২
(শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের “অবনী বাড়ি আছো” অবলম্বনে)

দুয়ার খুলে পালিয়ে গেছে তারা
তবু শুনি রাতের কড়ানাড়া
‘অবনী, বাড়ি আছো?’

এখানে বৃষ্টি পড়ে বারোমাস
মেঘেরা এখানে দানবের মতো চরে
ভিটেসাপ, কোলাব্যাঙ আর বালিহাঁস
বাড়িখালির দুয়ার চেপে ধরে–
‘অবনী, তুমি যেয়ো না।’

আধেকলীন হৃদয়ে দূরগামী
ব্যথার মাঝে জেগে থাকি আমি
বাড়ি খালি; তবু শুনি রাতের কড়ানাড়া
‘অবনী, বাড়ি আছো?’

বাড়িখালি-৩
(শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের “অবনী বাড়ি আছো” ও শহীদ কাদরীর“অগ্রজের উত্তর” পড়ে)
“অবনী বাড়ি আছো?
অবনী বাড়ি আছে।?”
অবনী বাড়ি আছে।
মিলেছে উত্তর।

শহীদ কাদরী বাড়ি আছো?
“শহীদ কাদরী বাড়ি নেই।” অগ্রজের উত্তর।
“জানি না কোথায় যায়, কী করে, কেমন করে দিনরাত কাটে।
…না, না তার কথা আর নয়।“

বাড়ি খালি করে যারা চলে গেছে,
এবার তাদের উদ্দেশে হাঁক ছাড়ি,
“তিরিশ বাড়ি খালি! তোমরা কোথায়?”
“মৃত্যু ছাড়া আর যেখানে গেলে কেউ ফেরে না,
আমরা সেখানে – সেই জায়গায়।“

সন্ধ্যা নামে; ধীরে ধীরে রাত্রি যুবতী হয়।
শেয়াল কিংবা তক্ষক ডাকে আশেপাশে;
ভূতুম প্যাঁচা ঝিমোয় ডালে বসে।
আবছা অন্ধকারে অনড় দাঁড়িয়ে থাকে বাড়িখালি।
শূণ্য ঘরের খোলা দরজায় বাতাস কড়া নাড়ে,
অস্পষ্ট এক গোঙানির শব্দ ভেসে আসে,
“একদা আমরা এখানে ছিলাম।“

Comments are closed.