পুরুষ শূন্য গ্রাম!

সিরাজদিখান উপজেলার প্রথম ধাপের ২২ মার্চ নির্বাচনে রামানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ১০০ ভোট সিল মারাকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী সহিংসতার সৃষ্টি হয়। এ সহিংসতায় নিরপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলা ও পুলিশের হয়রানির কারণে পুরুষ শূন্য হওয়ায় রামানন্দ গ্রামের মহিলারা নিরাপত্তা হিনতায় ভুগছে।

জানা যায়, প্রকৃত অপরাধিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। স্থানীয় প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে ঘটনায় জড়িতদের বাহিরেও অনেককে প্রথম সাড়ির আসামী বানানো হয়েছে।

এলাকাবাসী অনেকেই জানান, ওই কেন্দ্রে ১২১৩ ভোট কাস্টিং হয়। কিন্তু প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল জলিল ১০০ ভোট বাড়িয়ে ১৩১৩ ভোট দেখালে গোলজোগের সৃষ্টি হয়। এসময় ওখানে ৬ মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। ৫ মেম্বার প্রার্থীর শতশত সমর্থকরা ১০০ ভোট কোথা থেকে এল এর জবাব চাই বলে মিছিল করতে থাকে। প্রিজাইডিং অফিসার কেন্দ্রে গোলজোগের সৃষ্টি হয়েছে বলে অতিরিক্ত পুলিশ চাইলে পুলিশ এসে কিছু না বলে রাবার বুলেট ও টিয়ারসেল ছোঁড়তে থাকে। তাতে উত্তেজিত এলাকাবাসী ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এরই মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটসহ র‌্যাব ও অতিরিক্ত পুলিশ কেন্দ্রে চলে আসে। এসময় প্রিজাইডিং অফিসার ব্যালট বক্স নিয়ে দৌড়ে রাস্তায় চলে আসে। তখন সবাই ভাবে ব্যালট ছিনতাই হচ্ছে। এতে জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠে। পরে এ ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশের ২টি আলাদা মামলা হয়। মামলায় যাদের আসামী করা হয়েছে তাদের অনেকেই ঘটনাস্থলে ছিলনা বলে জানান এলাকাবাসী।

মম্বার প্রার্থী আনোয়ার বলেন, আমার এজেন্টসহ সব এজেন্টই বলল ১২১৩ ভোট কাস্টিং হইছে। তাহলে ১০০ ভোট ওই অফিসারই বাড়াইছে।

লতব্দি ইউপি চেয়ারম্যান হাফেজ মো. ফজলুল হক জানান, রামানন্দ কেন্দ্রে ভোট কাস্টিং শেষে মুড়ি গুণে পায় ১২১৩ ভোট। পরে প্রিজাইডিং অফিসার ফাইনাল গুণার সময় ১৩১৩ ভোট বানায়। এজেন্টরা তাকে ঘিরে ধরে বলে আমরা দেখলাম ১২১৩ ভোট আপনি ১০০ ভোট বাড়াইলেন কিভাবে। এর জবাব কি?

এব্যাপারে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শাহিনা পারভীন বলেন, ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত জনতাকে শান্তনা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি। এসময় কেন্দ্রের দোতলা থেকে ব্যালট বক্স নিয়ে প্রিজাইডিং অফিসার দৌড়ে রাস্তায় নেমে আসে। ব্যালট বক্স ছিনতাই হচ্ছে ভেবে আমি তো চিৎকার শুরু করছি। এমন সময় র‌্যাব দৌড়ে আসে। আরেকটু হলে গুলির অর্ডার দিয়ে দিতাম। এরপর জানতে পারলাম ওনিই প্রিজাইডিং অফিসার। আমার সাথে কোন কথা না বলে সে একাজটি করছে। এটি ঠিক করেনি।

প্রিজাইডিং অফিসার মো. আব্দুল জলিল বলেন, যা ভোট কাস্টিং হয়েছ তাই ডিকলেয়ার দেয়া হয়েছে। এজেন্টদের সই করা কাগজ আছে আমার কাছে। ১০০ ভোট বেশির কথাটি ভুয়া। তিনি আরও বলেন, কে বা কারা আমাদের ভিতরে রেখে তালা মেরে দিয়েছে তা আমি জানি না। আমাদের গণনা শেষ কিন্তু বাহিরে গ্যাঞ্জম চলছে দেখে পুলিশ খবর দেই। অতিরিক্ত পুলিশসহ ম্যাজিস্ট্রেট আসছে দেখে আমি নিচে নেমে আসি। এরপর ওদের মাঝে কি হয়েছে তা আমি জানিনা।

বিডিলাইভ

Comments are closed.