সদর উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে নৌকার ধস

আব্দুস সালাম: ৪র্থ ধাপে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার ইউপি নির্বাচনে ৩ টি ইউনিয়নেই নৌকার ধস নেমেছে। সকাল থেকে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩ টি ইউনিয়নে আওয়ামিলীগ প্রার্থী ও আওয়ামিলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর চরম দ্বন্দ্বের কারনে নীরব ভোটে বিএনপি, আওয়ামিলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ৩ টি ইউনিয়নের প্রতিটি কেন্দ্র ব্যাপক নিরাপত্তার মাধ্যমে ভোট গ্রহন করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রশাসনের সুষ্ট ও নিরপেক্ষ তদারকির কারনে ভোটাররা নির্বিগ্নে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পেরেছেন বলে জানান সাধারন ভোটাররা।

পঞ্চসারে আওয়ামিলীগের প্রার্থী মো: আব্দুস সাত্তার নৌকা মার্কা প্রতীকে পেয়েছেন ৬,৯৭৪ ভোট, স্বতন্ত্রপ্রার্থী গোলাম মোস্তফা আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ১১,৩৬৮ ভোট। বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রহমান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১০,৮৫৫ ভোট। এতে স্বতন্ত্রপ্রার্থী গোলাম মোস্তফা নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রতীক হাবিবুর এর চেয়ে ৫১৩ ভোট বেশী পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়। পঞ্চসার ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৫০,১৭৭ ভোট কাষ্ট হয়েছে ২৯,১৯৭ ভোট। রামপাল ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যানের ছোট ভাই মোহাম্মদ হোসেন পুস্তি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৩,৯৩১ ভোট, মো: মোশারফ হোসেন মোল্লা নৌকা মার্কা প্রতীকে পেয়েছেন ৪,২১৪ ভোট। মো: বাচ্চু শেখ স্বতন্ত্রপ্রার্থী প্রার্থী আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ৭,৫১২ ভোট।

রামপাল ইউনিয়নে মো: বাচ্চু শেখ নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকের চেয়ে ৩,২৯৮ ভোট বেশী পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হয়। রামপাল ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮,৭৪৫ ভোট, কাষ্ট হয়েছে ১৫,৬৫৭ ভোট। অপরদিকে বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান চেয়ারম্যান তোতামিয়া মুন্সী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৬,০৭২ ভোট। মো: আমির হোসেন বেপারী নৌকা মার্কা প্রতীকে পেয়েছেন ৩,৬৭৬ ভোট। স্বতন্ত্রপ্রার্থী মো: হাসান আনারস প্রতীকে পেয়েছেন ২৬২ ভোট।

বজ্রযোগিনী ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী তোতা মিয়া মুন্সী নিকটতম প্রতীদ্বন্দ্বী আমির হোসেনের চেয়ে ২,৩৯৬ ভোট বেশী পেয়ে বেসরকারীভাবে নির্বাচিত হন। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪,৬০৭ জন কাষ্ট হয়েছে ১০,০১০ ভোট।

পঞ্চসার ইউনিয়নের সর্দার পাড়া ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ৭০ বছরের বৃদ্ধ আবুল হাসেম জানান, আমার জীবনে এতো সুষ্ঠ, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখিনি। অনেক দিন পর সুষ্ঠ পরিবেশে ভোট দিতে পারলাম।

৩টি ইউনিয়নের একাধিক ভোটারদের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, দীর্ঘদিন পর উৎসব মূখর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি। এবার ভোট দিতে কোন ধরনের সমস্যা হয়নি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো: মুরাদ উদ্দিন হাওলাদার ৩টি ইউনিয়নের বিজয়ী প্রার্থীদের বেসরকারীভাবে নির্বাচিত ঘোষনা করেন।

ক্রাইম ভিশন

Comments are closed.