দুই দলের মাথাব্যথা বিদ্রোহীরা: আজ ভোট মুন্সীগঞ্জে

মোজাম্মেল হোসেন সজল: মুন্সীগঞ্জে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে চলছে প্রচারণা। তবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীদের মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীরা। রামপাল, পঞ্চসার, বেতকা ও আউটশাহী ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের প্রার্থীরা বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। এর মধ্যে পঞ্চসার ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাজী মো. গোলাম মোস্তফা দলীয় দুই গ্রুপের মারামারি মামলায় রয়েছেন ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে।

রামপাল ইউনিয়ন: মুন্সীগঞ্জ সদরের একটি ঐতিহ্যবাহী এই ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের মো. মোশারফ হোসেন (নৌকা), স্বতন্ত্র হিসেবে মো. বাচ্চু শেখ (আনারস) ও ধানের শীষের মোহাম্মদ হোসেন। প্রথমবার নির্বাচনে দাঁড়িয়ে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন আনারস প্রতীকের মো. বাচ্চু শেখ। আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে বাকযুদ্ধ চলছে।

পঞ্চসার ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে তিন প্রার্থী নিয়ে শুরু হয়েছে জেলার তিন শীর্ষ নেতার লড়াই। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, পঞ্চসার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের প্রার্থী হিসেবে স্বতন্ত্র হয়ে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন হাজী মো. গোলাম মোস্তফা। এদিকে মুক্তারপুরে জেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল হাইয়ের বাড়ি। বর্তমান চেয়ারম্যান, জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে ধানের শীষের জয় আনতে মাঠে নেমেছেন জেলা বিএনপির ওই শীর্ষ নেতা।

বজ্রযোগিনী ইউনিয়ন: বজ্রযোগিনীতে তিনজন প্রার্থী হয়েছেন। এখানে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ধানের শীষ প্রতীকের মো. তোতা মিয়া মুন্সী ও নৌকার মো. আমির হোসেন ব্যাপারীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে সদরের সোনারং টঙ্গীবাড়ী ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী না দেয়ায় নৌকার প্রার্থী বেলায়েত হোসেন লিটন মাঝি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এ ইউনিয়নের বাসিন্দা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আসগর মল্লিক রিপন। চলতি চেয়ারম্যান আবদুল কাদের মল্লিকের অভিযোগ, ধানের শীষ প্রতীক আনার পরও তাকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়া হয়নি।

ধীপুর ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে চারজন প্রার্থী হলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন বড় দুই দলের দুই প্রার্থী। এ ইউনিয়নের বিএনপির প্রার্থী মো. আখতার হোসেন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে নৌকার প্রার্থী মনির হোসেন মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। একটিতে ইউনিয়নের ৬টি কেন্দ্র অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ আখ্যায়িত করেছেন। অপরটিতে নৌকার প্রার্থী কর্তৃক ভয়ভীতি, হত্যার হুমকি ও মারধরের অভিযোগ করেছেন।

বালিগাঁও ইউনিয়ন:
এ ইউনিয়নে ৫ জন প্রার্থী থাকলেও এখানে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ধানের শীষ প্রতীকের মো. আমির হোসেন (দোলন) ও নৌকার প্রার্থী হাজী মো. দুলালের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আমির হোসেন দোলন বলেছেন, তারা পথসভার নামে জনসভা করে মাইক বাজিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন। আমার পোস্টার, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলছেন। সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছেন।

বেতকা ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে বিএনপির কোনো চেয়ারম্যান প্রার্থী দেয়া হয়নি। টঙ্গীবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি খান মনিরুল মনি পল্টন উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তারা খান বংশের প্রার্থী নৌকা প্রতীকের শওকত আলী খানকে (মুক্তার খান) নিয়ে মাঠে রয়েছেন। বর্তমান চেয়ারম্যান মুক্তার খান নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। এরপর তৃণমূলের দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) হন আলম সিকদার (বাচ্চু সিকদার)। তার জন্য মাঠে রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান।

আউটশাহী ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ, বিদ্রোহী ও বিএনপির তিনজন প্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী শাখাওয়াত খান নির্বাচন থেকে সরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক ঢালী লিটনকে সমর্থন করেছেন বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। এখানে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান সেকান্দার ব্যাপারীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারসের জহিরুল হক লিটন ঢালী মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

যশলং ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে ৬ জন প্রার্থী রয়েছেন। এদের মধ্যে বিএনপির মো. খায়রুল কবির (কাজল হালদার) ও নৌকার মো. আলমাস চোকদারের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে।

কামারখাড়া ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে প্রার্থী সংখ্যা ৬ জন হলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষের আছান উদ্দিন মাদবর ও নৌকার মহিউদ্দিন হালদারের।

কাঠাদিয়া শিমুলিয়া ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে প্রার্থী ৩ জন। এরা হলেন ধানের শীষের আঃ খালেক ব্যাপারী, নৌকার মো. নূর হোসেন ব্যাপারী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোশারফ হোসেন।

হাসাইল বানারী ইউনিয়ন: প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন, নৌকা প্রতীকের আনোয়ার হোসেন হাওলাদার, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র মো. কামরুল হাসান ও ধানের শীষের নূরুুজ্জামান দেওয়ান।

দিঘীরপাড় ইউনিয়ন: এ ইউনিয়নে তিনজন প্রার্থীর মধ্যে নৌকার বর্তমান চেয়ারম্যান আরিফ হালদার ও ধানের শীষের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ওয়ালী উল্লাহ খানের মধ্যে লড়াই হবে।

আব্দুল্লাপুর ইউনিয়ন: এখানে প্রার্থীর সংখ্যা ৩ জন হলেও ধানের শীষের মো. গোলাম হোসেন ও নৌকার বর্তমান চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহিম মিয়ার মধ্যে লড়াই হবে বলে ভোটাররা জানান।

মানবজমিন

Comments are closed.