পুনর্বাসন এলাকায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ, চলে অসামাজিক কাজ

মঈনউদ্দিন সুমন: স্কুলভবন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার পরও বন্ধ রয়েছে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কুমারভোগ ও যশলদিয়া পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পুনর্বাসন এলাকার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা প্রদান। এতে করে বঞ্চিত হচ্ছে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী।

পদ্মা পুনর্বাসন এলাকায় বসবাস করা এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিক্ষা কার্যক্রম চালু না হওয়ায় স্কুল ভবনে চলছে মাদক সেবনসহ নানা অনৈতিক কার্যকলাপ। এতে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক জানান, স্কুলের কার্যক্রম শুরু করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন তাঁরা।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মূল সেতুর কাজ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করলেও পদ্মা সেতু প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন কাজ শুরু হয় ২০০৯ সাল থেকে। লৌহজংয়ের মাওয়া, মেদেনীমণ্ডল, খানবাড়ী, কান্দিপাড়া, দোগাছি কুমারভোগ এলাকার এ জমি অধিকৃত এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য লৌহজংয়ের কুমারভোগ এলাকায় একটি ও যশলদিয়ায় একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে পুনর্বাসিত করা হয়। পুনর্বাসন প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর কুমারভোগ পুনর্বাসন সাইটে ২০১২ সাল থেকে বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করতে শুরু করেন। বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগসহ এ এলাকায় প্রশস্ত সড়ক, মসজিদ, খেলার মাঠসহ নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও কোনো প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এ এলাকায় বসবাস করা ৭০০ পরিবারের প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী। প্রাথমিক শিক্ষা নেওয়ার জন্য তাদের পুনর্বাসন এলাকার বাইরে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরের স্কুলে যেতে হচ্ছে।

এদিকে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের অর্থায়নে স্কুল ভবন নির্মিত হলেও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু না করায় ভবনটি দখল করে নিয়েছে মাদকসেবীরা। এ ছাড়া নানা রকম অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলায় উদ্বিগ্ন এলাকার অভিভাবক শ্রেণি।

এ বিষয়ে যশলদিয়া পদ্মা বহুমুখী প্রকল্প পুনর্বাসন কেন্দ্রের সভাপতি সুজল খান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, বিদ্যালয়ের ক্লাস না চলায় এতে মাদকসহ অসামাজিক কার্যকলাপ হয়।

এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্কুল ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম খুব শিগগির শুরু করার সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের পুনর্বাসন কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী তোফাজ্জাল হোসেন বলেন, অচিরেই চালু হবে বিদ্যালয়।

এনটিভি

Comments are closed.