অভিযোগ দায়েরের পরও ওসির ‘টালবাহানা’

শ্রীনগরে স্কুল ছাত্রীকে প্রকাশ্যে জুতা পেটা
শ্রীনগরে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় প্রকাশ্যে জনসম্মুখে এক স্কুল ছাত্রীকে জুতাপেটার ঘটনায় বিচার চাওয়াটাই যেন অপরাধ হয়েছে ওই স্কুল ছাত্রীর পরিবারের। গত শুক্রবার বিকালে শ্রীনগর থানায় তিনজনকে আসামী করে লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর পরই এক বখাটেকে আটক করে পুলিশ। অটকের পর থানা হাজতে ২৪ ঘন্টার বেশী পার হলেও পুলিশ কোন মামলা রেকর্ড না করে শনিবার দুপুরে মোবাইল কোর্টের কথা বলে ওই স্কুল ছাত্রীর বাবাকে সাক্ষী সহ থানায় আসতে বলে। স্কুল ছাত্রীর বাবা, ঘটনার সাক্ষী ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে থানায় আসলে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ সাহিদুর রহমান জানান, এখন মোবাইল কোর্ট করার ম্যাজিষ্ট্রেট নেই, সন্ধ্যায় আসেন। সন্ধ্যার পর ওসি মোবাইল ফোনে ওই স্কুল ছাত্রীর বাবাকে তার মেয়ে ও সাক্ষী সহ থানায় আসতে বলেন। রাত হয়ে যাওয়ায় এবং থানা থেকে ওই স্কুল ছাত্রীর বাড়ি কয়েক কিলোমিটার দুরে হওয়ায় স্কুলছাত্রীর বাবা থানায় আসতে অপারগতা প্রকাশ করে পরদিন আসবেন বলে জানান। রাত দশটার দিকে শ্রীনগর থানার এসআই শংকর ফোর্স সহ ওই স্কুল ছাত্রীর বাড়িতে এসে উপস্থিত হয় এবং রাত সাড়ে দশটার দিকে বাবা মাসহ ওই স্কুলছাত্রীকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। ফোন পেয়ে কেন থানায় আসেনি এ অপরাধে ওসি সাহিদুর রহমান স্থানীয় সাংবাদিকেদের উপস্থিতিতে ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা ও স্থানীয় এক মুরুব্বির সাথে খারাপ ব্যবহার করেন।

থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের ও বখাটেকে আটকের পর একদিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ায় রাত ১১ টার দিকে শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যতন মার্মা এঘটনায় মোবাইল কোর্ট করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যতন মার্মা বলেন, ঘটনাটি জটিল এটা নিয়মিত মামলাই হবে। আটকের এতো সময় পরে মোবাইল কোর্ট করা যাবেনা।

এরপর ওসি রবিবার আসামীর সাথে স্কুল ছাত্রীকেও কোর্টে পাঠানো হবে বলে তাদের বসিয়ে রাখেন। এসময় স্কুল ছাত্রী পরদিন তার পরীক্ষা আছে বলে কাকুতি মিনতি করতে থাকেন। এর পরও মন গলেনি ওসির। তিনি আইনের বাইরে যেতে পারবেন না বলে সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। এসময় থানায় ছুটে আসেন উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম। রাত দুইটার দিকে মামলার অপর আসামী তার খালাতো ভাই বীরতারা ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জনি শেখের নাম বাদ দিয়ে নতুন করে এজাহার দেওয়ার শর্তে ওই স্কুল ছাত্রীকে তার পরিবার সহ ছাড়িয়ে নেন।

পরদিন গতকাল রবিবার দুপুর ১১ টার দিকে বখাটেকে আটকের ৪৪ ঘন্টা পর বাদীকে থানায় এনে জনি শেখ ও তার সহযোগীর নাম বাদ দিয়ে পুনরায় নতুন করে অভিযোগ লেখান। রবিবার দুপুর সাড়ে বারটায় এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রীনগর থানায় কোন মামলা রেকর্ড হয়নি এবং আসামীকেও কোর্টে প্রেরণ করা হয়নি।

তবে শ্রীনগর থানার ওসি সাহিদুর রহমান বিকেল ৪টার দিকে জানান, এ ব্যপারে শনিবার রাতেই থানায় মামলা হয়েছে এবং আসামীকে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে। তবে ছাত্রীর বাবাকে হয়রানি ও যুবলীগ নেতার তৎবিরের কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ কথা যে বলেছে সে মিথ্যে বলেছে। জনি শেখের নাম মামলার এজাহারে আছে কিনা বা কতজনকে ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে- এ রকম প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, মামলার কপি দেখে বলা যাবে। এ মুহুর্তে বলতে পারছিনা।

এ ব্যাপারে রবিবার বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে কোর্ট ইন্সপেক্টর হারুণ-অর-রশীদ জানান, এ ধরণের কোন মামলা বা মামলার আসামি সবুজ নামে কাউকে আদালতে পাঠানো হয়নি। তবে, শুনেছি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় একজনকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে, আসামিসহ গাড়ি রাস্তায় রয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি শ্রীনগর সার্কেল) মো. শামসুজ্জামান বাবু বলেন, কোন আসামীকে বাদ দিয়ে বাদীর কাছ থেকে পুনরায় অভিযোগ নেওয়ার সুযোগ নেই। ওসি আমাকে কিছুই জানায়নি। আমি বিয়ষটি সম্পর্কে খোঁজ নিচ্ছি।

উল্লেখ্য গত শুক্রবার সকালে সবুজ (২০) নামের এক বখাটে মজিদপুর দয়হাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়ে প্রকাশ্যে জনসম্মুখে জুতাপেটা করে। পরে স্থানীয় লোকজন সবুজকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে যুবলীগ নেতা জনি ও তার সহযোগী সাইফুল ঘটনাস্থলে এসে ওই ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিম হোসেন খানের দোহাই দিয়ে সবুজকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। শুক্রবার সকাল দশটার দিকে উপজেলার মজিদপুর দয়হাটা বাসষ্ট্যান্ডে এঘটনা ঘটে। এঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা ওই দিনই বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় তিনজনকে আসামী একটি করে অভিযোগ দায়ের করেন।

জনকন্ঠ

Comments are closed.