সিরাজদিখানে আইন অমান্য করে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে আইন অমান্য করে ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়। এতে এলাকার ফসলি জমি পরিমাণ কমে জাতীয় ফসল উৎপাদনে ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষক। অনেকটা জোড় জুলুম করেই কেটে নেয়া হচ্ছে ফসলি জমির এসব মাটি। ফলে কমছে ফসল আর বেকার হচ্ছে কৃষক। পরিবেশও পরছে হুমকির মুখে। সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের গুয়াখোলা-উত্তর গুয়াখোলা গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় এ পর্যন্ত প্রায় তিনশত বিঘা ফসলি জমির মাটি ইট ভাটায় কেটে নেয়া হয়েছে। এখনও চলেছে মাটি কাটার এ মহোৎসব। ফলে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি পন্য উৎপাদন ক্ষমতা।

সিরাজদিখানের ওই এলাকাটিতে প্রচুর কৃষি জমি রয়েছে। প্রতি বছর ফসলও হয় ভাল। এ থেকে কৃষকের আয় রোজগারও ছিল ভাল। কিন্তু গত কয়েক বছর যাবত সাইফুল বাহিনী নামে একটি প্রভাবশালি চক্র কৃষকদের বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, ওয়ারিশ পাওনা ও বিভিন্ন লোভ-লালসা দেখিয়ে সামান্য মাটির কথা বলে জমিতে মাটি কাটতে শুরু করে। কিন্তু একবার জমিতে মাটি কাটা শুর করতে পারলেই তাদের আর ঠেকায় কে। পুরো জমিটিা তাদের দখলে চলে যায়। তারা মাটি কাটার মেশিন (ভ্যাকু) বসিয়ে পুরো জমি এমন গভীরভাবে কাটে যে, তাতে পাশ্ববর্তী জমির মাটিও কয়েক ঘন্টার মধ্যে ভেঙ্গে পরতে শুরু করে। তখন পাশ্ববর্তী জমি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ওই জমির মালিকও তখন তার জমি ওই ভুমি দস্যুদের কাছে চাপে পরে লামছাম মূল্যে জমিটির মাটি বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এমনকি ঐ মাটি ইট ভাটায় নেয়ার কোন রাস্তা না থাকায় সাইফুল বাহিনী পার্শ্ববর্তী ফসলী জমির উপর দিয়ে জোর করে ট্রাক ভর্তি মাটি নিয়ে য়ায়। এতে এ সকল জমির ফসলও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইট বাটার মালিক জানান, আমরা সাইফুল চেয়ারম্যানের কাছে জিম্মি হয়ে আছি । ইট বাটায় মাটি আনতে হলে তার কাছ থেকেই চড়া মুল্যে কিনতে হয় ।

এ বছরসহ গত কয়েক বছরে এভাবে মাটি কাটায় ওই এলাকার শত শত বিঘা জমি এখন খালে (প্রায় ১০/১৫ ফুট গভীর) পরিণত হয়েছে। ভূমি দস্যু এই চক্রটি এতই প্রভাবশালী যে, তাদের ভয়ে কোন জমির মালিক কিছু বলতে সাহস পায়না। অথচ আইনে ধারা ৫ এর ১ উপধারা অনুযায়ী এসব অপরাধীর শাস্তি হচ্ছে অনধিক দুই বছরের কারাদন্ড বা দুই লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।গুয়াখোলা নগর জামে মসজিদের সেক্রেটারী সাহাবুদ্দিন শেখ জানান,

মসজিদের নামে এক একর জমি ছিল ওই এলাকায়। তা থেকে বছরে প্রায় পনর হাজার টাকা আয় হত। কিন্তু পার্শ্ববর্তী জমির মাটি কাটার পর মসজিদের জমির অনেক অংশ ভেঙ্গে গেছে। তাই এখন এ জমি থেকে পাঁচ হাজার টাকা আয় করা কঠিন হয়ে পরছে। এমনি অভিযোগ করলেন গুয়াখোলা গ্রামের জমির মালিক ইউনুছ শেখ, ফারুক বেপারী, আসলাম বেপারীসহ আরো অনেকে।এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, জমির উপরিভাগের ১০ থেকে ১৫ ইঞ্চির মধ্যে থাকে পলি মাটি। একে বলে মাটির প্রাণ। মাটি কাটার ফলে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যায়, যা পঞ্চাশ বছরেও পূরন করা সম্ভব হয়না। তাই জমিতে ভাল ফসল পেতে হলে জমির উরি ভাগের মাটি কোন মতেই কেটে নেয়া যাবেনা। সাইফুল বাহিনীর প্রধান সাইফুল ইসলামের সাথে আলাপ করলে তিনি জানান, আমি টাকার বিনিময়ে জমির মাটি ক্রয় করে বিভিন্ন ইট ভাটায় সাপ্লাই দেই। আইনে কি আছে তা আমার জানার দরকার নাই।উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) শাহিনা পারভিন বলেন, এ ধরনের লিখিত কোন অভিযোগ পেলে ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৭১সংবাদ

Comments are closed.