আ. লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীসহ ২৫ জন গ্রেপ্তার

মঈনউদ্দিন সুমন: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফা ও তাঁর ২৪ সমর্থককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে মুক্তারপুর-বাগবাড়ি এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সমর্থকদের গ্রেপ্তার করা হয় বিভিন্ন স্থান থেকে।

জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম চেয়ারম্যান প্রার্থী মোস্তফাসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গোলাম মোস্তফা সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েই ইউপি নির্বাচনে দলের মনোনয়ন চান। আগামী ৭ মে জেলা সদরের পঞ্চসার ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে গোলাম মোস্তফা বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হন।

জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব বিজয় তালুকদার জানিয়েছেন, গত ১২ এপ্রিলের একটি সহিংস ঘটনায় সদর থানায় করা মামলায় আজ বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফাসহ বাকিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ১২ এপ্রিল শহরের উপকণ্ঠ মুক্তারপুর এলাকায় বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর লোকজন জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ পাভেল, জেলা তরুণ লীগের সভাপতি মৃদুল দেওয়ান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মৃণাল কান্তি দাসের ভাতিজা আদর দাসসহ ছয়জনকে পিটিয়ে আহত করে।

এ ছাড়া ওই দিন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফার মালিকানাধীন কিং ফিশার নামের একটি জাল তৈরির কারখানা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। ছাত্রলীগ ও তরুণ লীগ নেতাদের মারধর ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সদর থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।

এদিকে জেলার কোর্ট ইন্সপেক্টর হারুনুর রশিদ জানান, গোলাম মোস্তফাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করে। আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে গোলাম মোস্তফাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

এনটিভি

=========================

আ.লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী কারাগারে, পাল্টাপাল্টি মামলা

ই্‌উনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদসের দুই গ্রুপের সহিংস ঘটনার এক মামলায় পুলিশ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করে পাঠানো হয়েছে।

রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় গোলাম মোস্তফাকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জসিমউদ্দিন আগামী ২০ এপ্রিল রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তার জামিন মঞ্জুর না করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। বিকেল সোয়া ৫টায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত ১২ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফার মুক্তারপুরের শাওবান ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজে বিবাদমান জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে।

এ ঘটনায় এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের আপন ভাতিজা জেলা তরুণলীগের সহসভাপতি আদর দাস, জেলা তরুণলীগের সভাপতি মৃদুল দেওয়ান, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়েজ আহমেদ পাভেল ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রুপের গোলাম মোস্তফা সমর্থক তার ম্যানেজার মাসুদ রানা, হাসান, শ্রমিক রিয়াদুল ও রাসেলসহ উভয় গ্রুপের ১০-১৫ জন আহত হয়।

পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ২টি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গত ১৬ এপ্রিল উভয়পক্ষের পাল্টা পাল্টি মামলা হয়।

এদিকে, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী গোলাম মোস্তফাকে গ্রেফতার করায় আওয়ামী লীগের একাংশ ও গোলাম মোস্তফা সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ওদিকে, পরিত্যক্ত অবস্থায় দুইটি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে আরেকটি মামলা করেছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ৭ মে এ ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

পূর্বপশ্চিম

Comments are closed.