নববর্ষকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জে পর্যটকদের ঢল

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জে পর্যটকদের ভিড় পড়েছে। সকাল থেকে সভ্যতার জনপদ মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে এ ভীড় ছিল লক্ষনীয়।

সকালে এ ভীড় লৌহজং উপজেলার মাওয়া থেকে ছড়িয়ে পড়ে লৌহজংয়ের পদ্মা রির্সোট, মাওয়া রির্সোট, পদ্মাসেতু এলাকা ও পদ্মা পারের শিমুলিয়া নতুন ফেরি ঘাটসহ কয়েক কি.মি. বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে। রাজধানী ঢাকাসহ আশে পাশের জেলা-উপজেলা থেকে পর্যটকরা এসেছিলেন স্বপরিবারে। পদ্মা সেতুর কাজের জন্য মাওয়া চৌরাস্তা বরাবর দক্ষিণের পদ্মা সংরক্ষিত থাকলেও পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় ছড়িয়ে পড়ে সংরক্ষিত এলাকার ভিতরে পদ্মা পারে। শুধু পদ্মা পারই নয় পর্যটকদের ভিড় ছিল সদর উপজেলার ধলেশ্বরীর মুক্তারপুর ব্রীজ, ইদ্রাকপুরের কেল্লা, বৌদ্ধ বিহার ,অতীশ দিপঙ্করের ভিটা, বাবা আদমের মসজিদ, টঙ্গীবাড়ি উপজেলার জোড়মঠ, বৌদ্ধ মন্দির, শ্রীনগরের রাঢ়িখালের স্যার জগদিস চন্দ্র বসু ইনিস্টিটিউশনের পিকনিক স্পট, বালাসুরে রাজা যদু নাথ রায়ের বাড়িতে জাদুঘরেও।

রাজধানী ঢাকার যানজটে আবহ ফেলে মুক্ত বাতাস অনুভব করতে পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছিলেন রাজধানী ঢাকার অনতি দূরে মুন্সীগঞ্জে। রাজধানীসহ দোহার, মুন্সীগঞ্জ, সিরাজদিখানসহ কাছাকাছি বিভিন্ন জেলা উপজেলা থেকেও পর্যটক এসেছিলেন পদ্মার নির্মল আনন্দ উপভোগ করতে। ঘুড়ে বেড়িয়েছেন বালুময় পদ্মা পারে। অনেকে আবার নৌকা বা ট্রলার ভাড়া করে চলে গেছেন পদ্মা নদীর মাঝে জেগে উঠা চরগুলোতে ঘুরে বেড়াতে। অনেকে আবার সিবোর্টে চড়ে বেড়িয়েছন পদ্মার বুকে। বিভিন্ন স্পটে যুগলদের দেখা গেছে হাত ধরে ঘুরে বেড়াতে। ছাড়াও পদ্মা পারের বালু চরে পাশাপাশি বসে নিজেদের ঘর বাধাঁর স্বপ্নে শলা-পরামর্শে ছিলেন মগ্ন।

পর্যটকরা মুন্সীগঞ্জ পর্যটনের জন্য যথেষ্ট সম্ভাবনাময় স্থান। এটি হতে পারে দেশের সম্ভবনাময় পর্যটন জোন। বিশেস করে লৌহজংয়ের পদ্মাপারের তো তুলনা হয় না। সরকারীভাবে সুন্দর একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে পর্যটকদের আর কষ্ট করে কক্সবাজার বা কুয়াকাটায় যেতে হবে না। ঢাকার অতি কাছের এই জায়গাটিতে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অতি অল্প সময়ের মধ্যে পদ্মা পারের এই নৈসর্গিক লিলাভূমিতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখাসহ বেড়িয়ে যেতে পারবেন।

জনকন্ঠ

Comments are closed.