মাওয়ায় ১ হালি ইলিশের দাম ৪২ হাজার টাকা !

আরিফ হোসেন: বাংলা বর্ষবরণকে সামনে রেখে সুস্বাদু পদ্মার ইলিশের দাম এখন আকাশচুম্মী। গতকাল শনিবার সকালে লৌহজং উপজেলার মাওয়া মৎস আড়ত ও শ্রীনগর উপজেলার পদ্মা তীরবর্তী বাঘড়া, ভাগ্যকূল, বালাশুর ও কবুতর খোলা বাজার ঘুরে দেখা গেছে পদ্মার ইলিশ সোনার হরিনে পরিনত হয়েছে। পদ্মার ইলিশের জন্য বিখ্যাত মাওয়া বাজার সংলগ্ন আড়তে পদ্মার ইলিশ কেনার জন্য ঢাকা থেকে প্রতিদিন সূর্য উঠার আগেই বহু ক্রেতার সমাগম ঘটছে। গতকাল এ আড়তে বড় সাইজের এক হালি ইলশ বিক্রি হয়েছে ৪২ হাজার টাকায়। এ আড়ত থেকে নিয়মিত মাছ কিনে ঢাকার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন এমন একাধিক পাইকাররা জানান, গত এক সপ্তাহে ইলিশের দাম বেড়েছে তিন থেকে চার গুন। ফলে তা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। ইলিশের এমন চাহিদার কারণে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী ক্রেতাদের সরলতার সুযোগকে কাজে লগিয়ে চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও বরিশাল সহ দেশের অন্য অঞ্চল থেকে হিমাগারে সংরক্ষিত ইলিশ এনে তা পদ্মার ইলিশ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে।

গতকাল সকালে মাওয়া ঘাটের আড়ৎদার কেশব দাস জানান, তিনি প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এখানে পাইকারী ভাবে ইলিশ বিক্রি করেন। এবছরের মতো এতো দাম তিনি অতীতে কখনো দেখেননি। তিনি আরো জানান, অন্য বছরের তুলনায় এসময়ে পদ্মার ইলিশ অনেক বেশী ধরা পড়লেও তা সাইজে ছোট। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আড়ৎদার জানান, পদ্মার ইলিশের বাড়তি চাহিদার কারনে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থেকে শেষ রাতে ট্রাকে করে ইলিশ এনে সেগুলো পদ্মার বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

শনিবার সকালে মাওয়া মৎস আড়তে অরুন দাস নামে এক মাছ ব্যবসায়ী জানান, তিনি মাওয়া থেকে মাছ কিনে ঢাকার নয়াবাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। শনিবার ভোরে তিনি মাওয়া থেকে ১২ টি ইলিশ ৮৬ হাজার টাকায় কেনেন। কেনার সাথে সাথে ছোট ৪ টি ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। বাকি ৮ টির মধ্যে বড় চারটি পুলিশের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার কাছে বিক্রি করেন ৪২ হাজার টাকায়। ওই ক্রেতার কাছে তিনি ৪ টি ইলিশের দাম হাকেন ৫০ হাজার টাকা। দামাদামির পর তা ৪২ হাজার টাকা নির্ধারিত হয়।

তবে ওগুলো পদ্মার ইলিশ নয় স্বীকার করে অরুন দাস জানান, পদ্মায় এখন এত বড় ইলিশ ধরা পরেনা। এখানে আটশ’ গ্রাম থেকে এক কেজি ওজনের এক একটি পদ্মার ইলিশের দাম এখন তিন থেকে চার হাজার টাকা। যা গত বছরের তুলনায় কয়েকগুন বেশী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাওয়া ঘাটের এক মাছ বিক্রেতা জানান, অনেকে বিশেষ কায়দায় তৈরি ফিশারি বাক্সে পদ্মার ইলিশ সংরক্ষণ করে বেনাপোল দিয়ে কলকাতায় নিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দামের বিষয়টি গৌণ।

ভাগ্যকূল বাজারের মাছ বিক্রেতা নীল কমল দাস জানান, এক সপ্তাহ আগে ইলিশের যে দাম ছিল এখন তা তিন থেকে চারগুণ বেড়েছে। ভাগ্যকূল পয়েন্টে এখন বড় ইলিশ ধরা পড়ছেনা। এখানে এখনো ইলিশ ধরার মৌসুম শুরু হয়নি। তার পরও দু-একটি যা ধরা পড়ছে তা এখানকার জেলেরা বেশী দাম পাওয়ার আশায় স্থানীয় বালাসুর বাজারে বিকাল বেলা বিক্রি করছে। ঢাকা-দোহার সড়কের পাশের এ বাজারে প্রতিদিন বিকালে এমনিতে পদ্মার বিভিন্ন মাছের পসরা বসে। বরফবিহীন তরতাজা ইলিশ কেনার জন্য অনেকেই ভিড় জমান এখানে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সেখানে গিয়ে চোখে পড়ে কয়েকজন জেলে ঝাটকা সাইজের ইলিশ বিক্রি করছেন। আড়াইশ’ থেকে তিনশ’ গ্রাম ওজনের প্রতি হালি ইলিশের বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায়।

Comments are closed.