প্রাণী জাদুঘর হচ্ছে পদ্মা সেতু এলাকায়

থাকবে প্রজাপতি পার্ক দ্রুত এগিয়ে চলেছে মূল অংশের কাজ
পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকার পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য একটি প্রাণী জাদুঘর গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে একটি প্রজাপতি পার্কও স্থাপন করা হচ্ছে। ওই এলাকার জীববৈচিত্র্য ঠিক রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সেতু বিভাগ। পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় যেসব প্রাণী রয়েছে, বা যেসব প্রাণিকুল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলো টিকিয়ে রাখাই হবে এ জাদুঘরের প্রধান উদ্দেশ্য। আর এটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ। ইতিমধ্যে সেতু কর্তৃপক্ষ ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। একটি জরিপও সম্পন্ন হয়েছে।

এ প্রাণী জাদুঘর ও প্রজাপতি পার্ক স্থাপনে প্রায় ৩০ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন জাদুঘর বাস্তবায়ন টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. এম এ বাশার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সাবেক এই চেয়ারম্যান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে মুঠোফোনে বলেন, পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য জাদুঘর আর পার্কটি হবে অত্যন্ত গোছানো ও দৃষ্টিনন্দন। এটি পদ্মা সেতু প্রকল্পেরই একটি অংশ। ওই এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর বাস্তবায়কাল ধরা হয়েছে পাঁচ বছর। সূত্র জানায়, প্রাণী জাদুঘর ও প্রজাপতি পার্কের জন্য ইতিমধ্যে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে গাজীপুরের ভাওয়ালে ন্যাশনাল পার্কে একটি প্রজাপতি পার্ক স্থাপন করা হয়। সেই আদলেই পদ্মা সেতু এলাকায় প্রজাপতি পার্ক স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া এর আগে যমুনা সেতু নির্মাণের সময় ওই এলাকায় একটি প্রাণী জাদুঘর স্থাপন করা হয়। কিন্তু সেটির কলেবর অত্যন্ত ছোট। এবার পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় দেশের সর্ববৃহৎ প্রাণী জাদুঘর ও প্রজাপতি পার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্যমতে, দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে এ প্রকল্পের মূল অংশের কাজ। ফেব্রুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত সেতুর মূল অংশের ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে তিন হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল সেতুর পিয়ার-৭-এ তিনটি পাইল এবং পিয়ার-৬-এর দুটি পাইলের বটম ৭০ মিটার সেকশন ড্রাইভ সম্পন্ন হয়েছে।

এর বাইরে আরও একটি পাইলের বটম সেকশন ড্রাইভ করার প্রস্তুতি চলছে। ট্রায়াল পাইলের ভেতরের বালি অপসারণ করা হয়েছে। বটম কাজে ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করা হয়েছে এক লাখ ২৯ হাজার টন স্টিল প্লেট। চীনে থ্রিডি স্ট্রাকচারের এসেব্লিংয়ের কাজ চলছে। ইতিমধ্যে মূল সেতুর ১০টি টেস্ট পাইলের মধ্যে ছয়টি, ভায়াডাক্টের ১৬টি টেস্ট পাইলের মধ্যে সাতটি টেস্ট পাইল সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া দুটি টেস্ট পাইল ড্রাইভের কাজ চলমান রয়েছে। মূল সেতুর অ্যালাইনমেন্ট বরাবর ১৫০ মিটার করে চ্যানেল তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

নদীশাসন কাজের ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ-সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৫৭ ও ৬৫ শতাংশ। চলতি শুকনো মৌসুমে মূল সেতুর কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ প্রকল্পের মোট বরাদ্দের বিপরীতে ১৭ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা ছাড় করা হয়েছে। এর মধ্যে খরচ করা হয়েছে ১৫ হাজার ১২৭ কোটি টাকা। এ সময় পর্যন্ত পুঞ্জীভূত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৩৪ শতাংশ। সর্বশেষ সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক তাদের অর্থায়ন বাতিল করার আগ পর্যন্ত পদ্মা সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৮ হাজার কোটি টাকার মতো। সময় অতিবাহিত হওয়ায় এবং নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুতে বিলম্ব হওয়ায় ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালের আগেই প্রকল্প সমাপ্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

মানিক মুনতাসির
বাংলাদেশ প্রতিদিন

Comments are closed.