জনপ্রতিনিধিদের ভোটে হবেন জেলা পরিষদ প্রশাসক

জেলা পরিষদ আইন সংশোধন হচ্ছে
আগামী দিনে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদ প্রশাসক নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী (এলজিআরডি মন্ত্রী) ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদের বার্ষিক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, “নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভোটে জেলা পরিষদ প্রশাসক নির্বাচনের জন্য আমরা জেলা পরিষদ আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। শিগগিরই এটা সংশোধন করা হবে।”

সরাসরি ভোটে জেলা পরিষদ প্রশাসক নির্বাচনের অসুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,“এই পদে যদি সাধারণ জনগণের ভোটে নির্বাচন করতে হয়, তাহলে বিশৃঙ্খলার ‍সৃষ্টি হবে। বিশাল কর্মযজ্ঞ। কঠিন কাজ। আমরা চাই জেলার বিভিন্ন জায়গায় যারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক তাদের ভোটে নির্বাচিত হবেন।”

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “যারা জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদে আছেন, তাদের জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। জেলা পরিষদকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে যাতে জেলা পরিষদের টাকায় কেন্দ্রীয় সরকার চলে। এ জন্য যা যা করা দরকার প্রশাসকরা তা করবেন।” মন্ত্রণালয় থেকে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

গ্রামীণ উন্নয়নের বিকল্প নেই এমন দাবি করে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উচ্চ আয়ের দেশ গড়তে হলে গ্রামীণ উন্নয়ন অপরিহার্য।”

জেলা পরিষদ প্রশাসকদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পূরণের আশ্বাস দিয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমার যা করণীয় তা যত শিগগির সম্ভব পূরণ করব। আর যেসব বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব।”

মন্ত্রী জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে জেলা পরিষদ প্রশাসকদের ক্ষমতায়ন করা হবে এবং জেলা পরিষদকে শক্তিশালী করা হবে। দুর্নীতি কমাতে জেলা পরিষদকে ডিজিটালাইজেশন করার কথাও বলেন এলজিইআরডি মন্ত্রী।

সভায় বিভিন্ন জেলা পরিষদের প্রশাসকরাও বক্তব্য দেন।

রংপুরের জেলা পরিষদ প্রশাসক মমতাজ উদ্দিন এডিপির বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলেন, “আমাদের ২০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দের জন্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগে।” তিনি এটাকে ৫ লাখ টাকা করার দাবি জানান। এ ছাড়া তিনি ভূমিকর ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ শতাংশ করার দাবি জানান।

জেলা পরিষদের সম্পত্তি জেলা প্রশাসকদের নামে রেকর্ড দেয়া আছে জানিয়ে মমতাজ উদ্দিন এটা জেলা পরিষদকে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান। এ ছাড়া জেলা পরিষদের প্রশাসকদের ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়ার ক্ষমতা দেয়ারও দাবি জানান তিনি।

মমতাজ উদ্দিন বলেন, মাস্টার রোলের কর্মচারীরা ১৮০ টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। তিনি এই টাকার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০০ টাকা করার দাবি জানান।

পটুয়াখালী জেলা পরিষদ প্রশাসক খান মোশারফ হোসেন জানান, মন্ত্রণালয় থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ওপেন টেন্ডারের জন্য একটি অর্ডার দেয়া হয়েছে। এটির বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ওপেন টেন্ডার দেয়া হলে খুনোখুনি-মারামারি অনেক বাড়বে। যার বাড়ির কাছে জমি থাকবে তিনিই পাবেন, আর এটাই হওয়া উচিত।

মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক মহিউদ্দিন বলেন, “আমি সাবেক সাংসদ ছিলাম। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে ডিসিকে স্যার সম্বোধন করতে হয়। তা না হলে মনে হয় তিনি অসন্তুষ্ট হন। আমি মনে করি, ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স অনুযায়ী জেলা পরিষদ প্রশাসকদের মর্যাদা নির্ধারণ করা উচিত। তাহলে এ সমস্যা থাকবে না।”

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী।

আরও বক্তব্য দেন- এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী, খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক শেখ হারুনুর রশিদ, গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আখতারউজ্জামান, কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক ওমর ফারুক, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক জহিরুল হক, রংপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুস সালাম, পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসন খান মোশারফ হোসেন, সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খান এনামুল কবির ইমন, মুন্সীগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মহিউদ্দিন, জয়পুরহাটের জেলা পরিষদের প্রশাসক সোলায়মান আলী, কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার জহিরুল ইসলাম, রংপুর জেলা পরিষদ সচিব আরজু আরা বেগম প্রমুখ।

ঢাকাটাইমস
– See more at: http://www.dhakatimes24.com/2016/03/31/107641#sthash.mAvNKNGw.dpuf

Comments are closed.