সিরাজদিখানে বিএনপি প্রার্থীদের পরাজয়ের নেপথ্যে…

মোজাম্মেল হোসেন সজল: দলীয় কোন্দল, সাংগঠনিক দুর্বলতা, মনোনয়নে দুর্বল-বিতর্কিত প্রার্থী সিলেকশন ও কেন্দ্রেগুলোতে মাঠের কর্মীর অনুপস্থিতি- এসব কারণে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের ৯টি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীদের ব্যাপক ভরাডুবি হয়েছে।

কোনো ইউনিয়নেই তারা জয় আনতে পারেননি। দেশের নির্বাচনের প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত গত ২২ মার্চ সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দিতে দেখা গেছে। কিন্তু কেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের চোঁখে পড়েনি। খুঁজে পাওয়া যায়নি প্রার্থীদেরও। যারা রাজনীতির মাঠ দাবিয়ে বেড়ান-তাদেরও দেখা মিলেনি। আবার গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দিতেও ব্যর্থ হয়েছেন উপজেলা বিএনপি। এসব কারণেই উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীদের ব্যাপক ভরাডুবি হয়েছে বলে সেখানকার ভোটাররা মনে করছেন। কেন্দ্রগুলোতে যথেষ্ট পরিমাণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যর মোতায়েন ছিল। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি ও র‌্যাবও ছিল সক্রিয়। কিন্তু ভোটের মাঠে বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুপস্থিত থাকায় যা হবার তাই হয়েছে বলে সেখানকার ভোটারদের অভিমত।

সরজমিন ওই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রে গিয়েও চোখে পড়ে বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীদের অনুপস্থিতির চিত্র। যে কারণে উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নেই মাঠে দাঁড়াতে পারেননি বিএনপি। কোথাও কোথাও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। এসব প্রার্থী আবার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। মধ্যপাড়া ইউনিয়নে জমিতে অস্থায়ী ভোট কেন্দ্রেও ভোটারদের দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা গেছে। তবে, এ ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী আজিম আল রাজি আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাজী করিম শেখের কলাকৌশলের কাছে হেরে যায়। এ ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রের বাইরে কোন রকম সহিংসতা না ঘটলেও ভোট কেন্দ্রের বুথের ভেতর হয়েছে ভোট দখলের খেলা। ভোটারের কাছ থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে নৌকা মার্কার ব্যালটে সিল মারতে দেখা গেছে। তবে, বাসাইল, কোলা, ইছাপুরা ও লতব্দী ইউনিয়নের অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থীদের চোঁখেই পড়েনি, সেখানে নির্বাচন হয়েছে অনেকটা সুষ্ঠুই। বালুরচরেও দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখানে বিএনপির জনসমর্থন থাকলেও বিতর্কিত ও দুর্বল প্রার্থী দেয়ায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী আলহাজ আবু বকর সিদ্দিকের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছে বিএনপির প্রার্থী আমিন উদ্দিন চৌধুরী। আওয়ামী লীগ প্রার্থী পেয়েছেন ১৩ হাজার ৫২৫ ভোট, বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৯৮ ভোট।

ওদিকে, আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকদের হামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও মনোনয়নপত্র ছিনিয়ে নেবার অভিযোগে এ উপজেলার জৈনসার ইউনিয়নে ইসলামী আন্দোলনের চেয়ারম্যান প্রার্থী রতন তালুকদার ও বিএনপি চেয়ারম্যান প্রার্থী শেখ নাজিম উদ্দিন মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় এ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম দুদু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

এদিকে, উপজেলার যে সব ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, তাদের ভোট প্রাপ্তিও ছিল নগন্য।

চেয়ারম্যান পদে (বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একটি) উপজেলার নির্বাচন হওয়া ৯ টি ইউনিয়নের মধ্যে লতব্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এস এম সোহরাব হোসেনের সঙ্গে নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হাফেজ ফজলুল হক।

রশুনিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ইকবাল হোসেন চোকদারের সঙ্গে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহিদ হাসান।

বয়রাগাদী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের গাজী মো. আলাউদ্দিনের সঙ্গে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী বর্তমান চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সোহাগ।

বাসাইল ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাইফুল ইসলাম যুবরাজের সঙ্গে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক শামসুজ্জামান পনির।

এদিকে, নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে কেন্দ্র দখল, হামলা, ধাওয়া, জোরজবরদস্তির অভিযোগে বিএনপির ৪ চেয়ারম্যান প্রার্থী বালুরচর ইউনিয়নে আমিন উদ্দিন চৌধুরী, বয়রাগাদী ইউনিয়নে মাহমুদুর রহমান কুট্রি, মধ্যপাড়া ইউনিয়নে আজিম আল রাজি, মালখানগর ইউনিয়নে আজিজুল হক খান ও একই ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমা বেগম আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

পূর্ব পশ্চিম

Comments are closed.