জাপান: বসন্ত উৎসব

রাহমান মনি: ‘সারাটা জীবন হোক বসন্তকাল’ সেøাগান নিয়ে টোকিওতে ২০১৩ সালে ‘বাংলাদেশ আর্ট ফোরাম’ নামের ব্যানারে যাত্রা শুরু হয় টোকিও বসন্ত উৎসবের। সেই থেকে প্রতি বছর পালিত হয়ে আসছে বসন্ত উৎসব। আর এর নেপথ্যে কাজ করছেন প্রবাসীদের প্রিয় শিল্পী তানিয়া ইসলাম মিথুন এবং শরাফুল ইসলাম। এই শিল্পী দম্পতির উভয়ে ‘উত্তরণ’ বাংলাদেশি কালচারাল গ্রুপের সক্রিয় সদস্যও বটে।

বসন্ত উৎসবের এবারের আয়োজনটি ছিল চতুর্থবারের মতো। টোকিওর অদূরে সাইতামা প্রিফেকচারের সোকা সিটি সেজাকি কমিউনিটি সেন্টারে ৬ মার্চ রোববারের এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা। জাপানে নিযুক্তি পাবার পর রাষ্ট্রদূত এই প্রথম প্রবাসীদের দ্বারা আয়োজিত কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন। সেই হিসেবে প্রবাসীদের আয়োজনে রাষ্ট্রদূতের অভিষেক বলা যায়।

সংগঠনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এক শুভেচ্ছা বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, এই প্রথম কোনো আয়োজনে আমার যোগদান সেই হিসেবে ভালো লাগছে। আরও ভালো লাগছে আপনাদের কাছে পেয়ে। প্রবাসে আপনারা নিরলস পরিশ্রম করার পরও দেশীয় সংস্কৃতিকে ধরে রেখেছেন এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। এই জন্য আমি আমার পক্ষ থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

বাংলা সংস্কৃতিকে লালন করায় যেকোনো জাতীয় আয়োজনে দূতাবাস আপনাদের পাশে থাকবে এবং জাতীয় দিবসের আয়োজনগুলোতে বা দূতাবাস কর্তৃক যেকোনো আয়োজনে আপনাদের সহযোগিতা ও সমর্থন থাকবে বলে দূতাবাস আশা করে।

চতুর্থ টোকিও বসন্ত উৎসবের থিম ছিল পুরনো দিনের বাংলা ছায়াছবি। তানিয়া ইসলাম মিথুনের পরিকল্পনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি ঢেলে সাজানো হয়। কিন্তু দুর্বল সাউন্ড সিস্টেমে অনুষ্ঠানের বারোটা বেজে যায়। এর উপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে আগত অতিথিদের অপরিকল্পিত গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে বারবার সতর্ক বাণী প্রচার সার্বিক অনুষ্ঠানের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। কিছুক্ষণ পরপর জাপান পুলিশ কর্তৃক সতর্ক এবং তা পুনঃপুনঃ ঘোষণা সত্ত্বেও যথা ব্যবস্থা না নেয়াতে দর্শকদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

এমনিতেই অসাবধানতার কারণে হল পাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য সংকুচিত হয়ে আসছে তার মধ্যে নতুন যোগ হয়েছে বিভিন্ন হল এবং পুলিশে ফোন করে নালিশের মাধ্যমে হল দেয়া বন্ধ করানোর প্রবণতা। তারপরও যে দু’একটি হল পাওয়া যেত তাও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হচ্ছে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে। অথচ যারা বা যিনি গাড়ি চালান তারা বা তিনি গাড়ি চালানো সম্পর্কিত যাবতীয় নিয়মকানুন ভালো করেই জানেন এবং মানেনও। ব্যতিক্রম কেবল বাংলাদেশিদের কোনো আয়োজনেই।
বরাবরের মতো এবারও মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা করে উত্তরণ বাংলাদেশি সাংস্কৃতিক দল। এছাড়াও বেশকিছু শিশুর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানের জৌলুসতা বৃদ্ধি পায়।

সাপ্তাহিক

Comments are closed.