ল কলেজের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

শেখ মো. রতন: মুন্সীগঞ্জ ল কলেজের তহবিলের প্রায় সোয়া কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে প্রভাবশালী মহল। এ লক্ষ্যে অডিট কমিটির প্রতিবেদন মিথ্যা প্রমাণ করতে পাল্টা অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুন্সীগঞ্জ ল কলেজ পরিচালনা কমিটির নির্দেশে কলেজের হিসাব নিরীক্ষার জন্য শিক্ষক প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট রাধাকৃষ্ণ শীল ও শিক্ষক অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেনের সমন্বয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট অডিট কমিটি গঠন করা হয়। গত মাসের ১৭ তারিখে অডিট কমিটি কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আর্শেদউদ্দিন চৌধুরীর কাছে প্রতিবেদন দাখিল করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত কলেজে এলএলবি প্রথম পর্বে ৪১৪ জন ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে ফরম ফিলাপসহ ১৭ হাজার ৩০০ টাকা হারে ৭১ লাখ ৬২ হাজার ২০০ টাকা এবং দ্বিতীয় পর্বে ২৩৮ জন ছাত্রছাত্রীর কাছ থেকে একইভাবে ৪১ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা এবং ২০১৫ সালে প্রথম পর্বে ৭৪ জন ও দ্বিতীয় পর্বে ৮৭ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি বাবদ যথাক্রমে ৫ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ও ৫ লাখ ৬ হাজার টাকা সর্বমোট ১ কোটি ২৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু তার কোনো হিসাব না রেখেই লোপাট করা হয়। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের কাছে সরবরাহ করা আদায় রশিদের সঙ্গে সংরক্ষিত রশিদের মুড়ি ও আদায়কৃত টাকার পরিমাণের কোনো মিল নেই। একই সঙ্গে একই নম্বরে একাধিক রশিদ বই ছাপিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বেশি বেশি টাকা আদায় করে অডিটকালে কম টাকা আদায় দেখানো রশিদও হাজির করা হয়। আদায়কৃত টাকার সব তথ্য নষ্ট করা হয়েছে।

আরো জানা যায়, এ অডিট প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য গত ৮ মার্চ কলেজ পরিচালনা কমিটির সভা হয়। সভায় কলেজের কেরাণী মজিবর রহমানের সহযোগিতায় আত্মসাৎকৃত এ বিপুল পরিমাণ টাকা গায়েব হওয়ার বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করা হলে কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সময়ের প্রয়োজন বলে জানান। পরে পরিচালনা কমিটি কর্তৃক চলতি মাসের মধ্যে হিসাব বুঝিয়ে দিতে অধ্যক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ বেরিয়ে পড়ার আশঙ্কায় প্রভাবশালী মহলের তদবিরে তা ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে।

এ প্রসঙ্গে অডিট কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাডভোকেট মো. দেলোয়ার হোসেন সোমবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘টাকার অভাবে অনেক সময় আমরা শিক্ষকরা বেতন না নিয়েও রশিদে সই করে দিয়েছি। অথচ কলেজ তহবিলের ১ কোটি ২৩ লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ টাকার কোনো হিসাব নেই। এমনকি ছাত্রছাত্রীদের কাছে সরবরাহ করা আদায় রশিদের সঙ্গে সংরক্ষিত রশিদের মুড়ি ও আদায়কৃত টাকার পরিমাণের কোনো মিল নেই। একই সঙ্গে একই নম্বরে একাধিক বই ছাপিয়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায়ের রশিদও হাজির করা হয়। তা ছাড়া কেরাণী মজিবর রহমান বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে।’

কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আর্শেদউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রেস্টে আছেন জানিয়ে কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বলেন।

এ প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম জানান, ‘অডিট কমিটি কাগজপত্র যাচাইবাছাই না করেই এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। পুনঃনিরীক্ষার জন্য পরে আমরা অভ্যন্তরীণ অডিট কমিটি গঠন করেছি।’

রাইজিংবিডি

Comments are closed.