বিএনপির দুর্গ পঞ্চসার দখলের চেষ্টা

মোজাম্মেল হোসেন সজল: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ঘিরে নির্বাচনে শহর লাগোয়া বিএনপির দুর্গ পঞ্চসার নিয়ে শুরু হয়েছে আধিপত্যের লড়াই। তফসিল ঘোষণা না হলেও আগামী মে মাসে শুরু হচ্ছে এ ইউনিয়নের নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখানে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী নানা খেলা।

এদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ আবদুল হাই ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহাম্মেদের চাচাতো ভাই গোলাম মোস্তফা সদ্য আওয়ামী লীগে যোগদান করায় এ ইউনিয়ন নিয়ে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে।

বিএনপিতে পদ-পদবি বিহীন গোলাম মোস্তফার সঙ্গে আবদুল হাই ও তার আপন ছোট ভাই মহিউদ্দিন আহাম্মেদের নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। তারপরও জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতা আবদুল হাইয়ের চাচাতো ভাই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে পঞ্চসারের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ায় পঞ্চসার এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গোলাম মোস্তফা তার আপন ভাইদের নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের হাতে নৌকার স্মারক তুলে দিয়ে যোগদান করেন। এরপর থেকে পঞ্চসার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিএনপির এ দুর্গকে আওয়ামী লীগের দুর্গ বানাতে গোলাম মোস্তফা মাঠে নামেন। তার বিরোধী বিএনপির নেতাকর্মীদের নানা রকম হুমকি-ধমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন আহাম্মেদ জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পঞ্চসার ইউনিয়ন এলাকায় তাদের বিভিন্ন পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ছিড়ে ফেলা হচ্ছে। ব্যানার-ফেস্টুনের ওপরে তাদেরটা লাগানো হচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ বানচালের চেষ্টা চালিয়ে নেতাকর্মীদের রাস্তাঘাটে হুমকি-ধমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে, সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মনেও নানা শঙ্কা বিরাজ করছে।

ওদিকে, চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের লক্ষ্যে গোলাম মোস্তফা আওয়ামী লীগে যোগদান করলেও পঞ্চসার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেকেই তাকে গ্রহণ করে নিতে পারছেন না।

মুক্তারপুরে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা বছির মাদবরকে প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা ঘটনা আজও ভুলতে পারেনি সেখানকার আওয়ামী লীগ। ২০০০ সালের ২৯ অক্টোবর মুক্তারপুর ফেরিঘাট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় সেখানকার এই প্রবীণ নেতাকে। এ ঘটনায় সেখানে টানা ৫দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধসহ অর্ধমাস মুক্তারপুর-পঞ্চসার এলাকায় এক ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করে। গোলাম মোস্তফা বশির মাদবরকে হত্যার অভিযোগে এ মামলায় জেলা বিএনপির সভাপতি ও গোলাম মোস্তফাসহ ২৫ জন বিএনপির নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছিল।

স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী এ ইউনিয়নে বেশির ভাগ সময় বিএনপি সমর্থিতরা চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করেন। ৫০ হাজার ভোটার অধ্যুষিত পঞ্চসার ইউনিয়নে বর্তমানে দুই মেয়াদে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ হাবিবুর রহমান। তিনি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ মহিউদ্দিন আহাম্মেদ-এর প্রিয়ভাজন হিসেবে পরিচিত। পঞ্চসারের আধিপত্যের ভাগ বসাতে বার বার ব্যর্থ হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। গোলাম মোস্তফার যোগদানে এবার সে সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন আওয়ামী লীগ। এ ইউনিয়নের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিগত দিনে অসংখ্য রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে। এ রাজনৈতিক সহিংসতা ও আক্রোশের কারণে খুনের শিকার হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

এদের মধ্যে সরকারপাড়ার ছাত্রলীগ নেতা শাহীন (৩০), জোরপুকুরপাড়ের হীরা লাল ফকিরের ছেলে শহীদ (৩৫), মুক্তারপুরের মাদবর বাড়ির আওয়ামী লীগ নেতা বশির মাদবর (৫০), মালিরপাথর গ্রামের যুবলীগ কর্মী আনিস (৪০), নয়াগাঁওয়ের যুবলীগ কর্মী আব্দুল আজিজ (৩৫), নয়াগাঁওয়ের যুবদল কর্মী মুক্তার হোসেন (৪৬) একই গ্রামের যুবদল কর্মী মো. মাসুম (২২) ও মিরেশ্বরাই গ্রামের বিএনপি সমর্থক মাছ বিক্রেতা সাইজউদ্দিন (২২) উল্লেখ্যযোগ্য। এসব হত্যাকাণ্ড ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালে সংঘটিত হয়। ৯৬ জমানায় পঞ্চসার হয়ে উঠে এক দৈত্যপুরীতে।

আধিপত্য রক্ষার সেইদিনের কথা মনে পড়লে এখনও আঁতকে ওঠেন পঞ্চসার ইউনিয়নবাসী। সেই আধিপত্য রক্ষার রাজনীতি এখনও থেমে নেই।

পূর্ব পশ্চিম

Comments are closed.