নিউইয়র্কে নিখোঁজ নার্সের স্বামী গা ঢাকা দিলেন বাংলাদেশে

নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালের নিখোঁজ প্রবাসী বাংলাদেশি নার্স মাহফুজা রহমানের স্বামী তাঁর কুমিল্লার বাসা থেকে গা ঢাকা দিয়েছেন। পুলিশ তাঁর খোঁজে দুই দফায় তাঁর বাসায় গেলেও তাঁকে পায়নি।

গত ৮ ডিসেম্বর নিউইয়র্ক থেকে নিখোঁজ হন মাহফুজা রহমান। এর পরপরই ১৬ ডিসেম্বর তাঁর স্বামী মেজবাউল হক খান তাঁদের একমাত্র কন্যাসন্তানকে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। স্ত্রীর অন্তর্ধানের ব্যাপারে নিউইয়র্ক পুলিশ এবং বাংলাদেশে মাহফুজার বাবা-মাকে তিনি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। ‘অপরাধমূলক ঘটনা’ সন্দেহে নিউইয়র্ক পুলিশ এই অন্তর্ধান তদন্ত শুরু করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জগৎপুর গ্রামে মেজবাউল হক খানের বাড়িতে গিয়ে সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মা শিরিন আফরোজ জানান, বুধবার দুপুরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মেজবাউল আর ফিরে আসেননি। মায়ের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগও নেই। স্থানীয় থানা-পুলিশ তাঁর খোঁজে বুধবার রাতে দুই দফায় বাসায় এসেছিল বলে জানান শিরিন আফরোজ।

শিরিন আফরোজ দাবি করেন, তাঁর ছেলে ও ছেলের বউয়ের সম্পর্ক খুবই ভালো। স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ায় দেশে ফিরে বিমর্ষ হয়ে পড়েন মেজবাউল হক, যুক্তরাষ্ট্রে যিনি দাপ্তরিকভাবে মোহাম্মদ চৌধুরী নামে পরিচিত। ২০০৫ সালে বিয়ের পর ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী অভিবাসনের ভিসা (ডিভি লটারি) পেয়ে মেজবাউল সস্ত্রীক যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। জুয়েরিয়া খান নামে তাঁদের ১০ বছরের একটি কন্যাসন্তান আছে।

শিরিন আফরোজ জানান, গত বুধবার বুড়িচং বাজারে গিয়ে স্ত্রীর অন্তর্ধান ও নিউইয়র্ক পুলিশের তদন্ত-সংক্রান্ত খবরটি পত্রিকায় ছাপা হওয়ার কথা জানতে পারেন মেজবাউল। এরপর দুপুরের দিকে কাউকে কিছু না বলে তিনি বাড়ি থেকে চলে যান।

শিরিন আফরোজ দাবি করেন, মেজবাউলের মেয়ে জুয়েরিয়া বুড়িচংয়ের বাড়িতেই আছে। তবে তাকে তিনি এই প্রতিবেদকের সামনে হাজির করতে রাজি হননি।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার বড়ুয়া প্রথম আলোকে জানান, পুলিশ মেজবাউলের খোঁজে তাঁর গ্রামের বাড়িতে কয়েক দফা অভিযান চালিয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে। মোবাইল ট্র্যাকিং করে তাঁর অবস্থান জানার চেষ্টা অব্যাহত আছে।

এদিকে, মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, মেজবাউলের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা এখনই ভাবছে না মাহফুজার পরিবার। বৃহস্পতিবার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার চাষিড়ি গ্রামে মাহফুজার পৈতৃক বাড়িতে গেলে তাঁর বাবা মহিউর রহমান ও মা রাহিমা বেগম জানান, যেহেতু তাঁদের মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে হারিয়েছেন, তাঁকে খুঁজে বের করার দায়িত্বটি সেখানকার পুলিশ পালন করবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

মেয়ের অন্তর্ধানের পর থেকে মেজবাউলের আচরণ তাঁদের কাছেও রহস্যজনক মনে হচ্ছে বলে স্বীকার করে রাহিমা বেগম জানান, এর আগে পর্যন্ত মেয়ে ও মেয়েজামাইয়ের দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েনের কোনো আভাস তাঁরা পাননি। বরং দুজনের মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল বলেই তাঁদের মনে হয়েছে।

এ ব্যাপারে টঙ্গিবাড়ী থানার ওসি আলমগীর হোসাইন বলেন, মাহফুজার নিখোঁজ থাকার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের সঙ্গে এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে পুলিশ মেজবাউলকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

তথ্য চেয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ: যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ প্রতিনিধি জানান, নিউইয়র্কের পুলিশ মাহফুজা রহমানকে উদ্ধারে তথ্য-সাহায্য আহ্বান করেছে। প্রথম আলোর কাছে লিখিত বক্তব্যে পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ৩০ বছর বয়স্ক এই বাংলাদেশি নার্স তিন মাস ধরে নিখোঁজ। গত বছরের ৮ ডিসেম্বর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে কাজ শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর তাঁর আর কোনো খোঁজ মেলেনি। মাহফুজা রহমানের কোনো খোঁজ কারও জানা থাকলে নিউইয়র্ক পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

প্রথম আলো

Comments are closed.