শ্রীনগরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে বিএনপি প্রার্থীর লিয়াঁজো!

৬০ লাখ টাকায় লিয়াঁজো করার অভিযোগ
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে ইউপি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে ৬০ লাখ টাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সাথে লিয়াঁজো করার অভিযোগ উঠেছে। ইউপি নির্বাচন নিয়ে উপজেলার ষোলঘর ইউনিয়নে এখনো পর্যন্ত কোন মামলা-হামলার ঘটনা না ঘটলেও ওই ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইটালী প্রবাসী মো: জুলহাস উদ্দিন ইতিমধ্যে তার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের জন্য রির্টানিং অফিসারের কাছে আবেদন করেছেন। রিটার্নিং অফিসার উপজেলা মৎস কর্মকর্তা এলিজ ফারজানা মনোনয়ন প্রত্যাহারের আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ফলে ওই ইউনিয়নে আর কোন প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজিজুল ইসলামের চেয়ারম্যান হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র । ষোলঘর ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা জানান এঘটনায় সর্বত্র বইছে আলোচনার ঝড়। তারা জানান, শ্রীনগরে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর পরই উপজেলা বিএনপির বিবাদমান দুগ্রুপের মধ্যে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়।

পরে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মমিন আলী গ্রুপ সমর্থীত প্রার্থী ্ইটালী প্রবাসী জুলহাস উদ্দিন ওই ইউনিয়নে বিএনপির টিকেট পান।এ ইউনিয়নে বিএনপির টিকেট পাওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দীতা করেছিলেন উপজেলা সেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি কাজী শামীম ঈমাম সাচ্চু। মনোনয়ন দৌড়ে জুলহাস উদ্দিন ও সাচ্চুর জন্য বিএনপির দুগ্রুপের জোড় লবিং চলে। মনোনয়ন জমা দানের শেষ দিনের আগের রাতে বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে অনেক বাক-বিতন্ডার পর মমিন আলী গ্রুপের জুলহাস উদ্দিনের টিকেট নিশ্চিত হয়।

পরদিন উপজেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ইউনিয়ন ব্যাপী প্রচারণায় নামেন। নির্বাচনে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন ঢাকার বংশালের মোটর পার্টস ব্যবসায়ী আওয়ামী লীগ প্রার্থী আজিজুল ইসলাম। জুলহাস উদ্দিন কিছুদিন প্রচার প্রচারণা চালিয়ে হঠাৎ করে গত ৯ মার্চ চুপিসারে আওয়ামী প্রার্থীর সাথে ৬০ লাখ টাকায় লিয়াঁজো করে মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য রির্টানিং অফিসারের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন। ষোলঘর ইউনিয়ন বিএনপির একটি সূত্র জানায়, লিয়াঁজোর একাজে মূল ভূমিকা পালন করেছে জুলহাস উদ্দিনের আপন ভাই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন দেওয়ান ।

সূত্রটি জানায়, চুক্তির ৬০ লাখ টাকার মধ্যে নজরুলের হাত ধরে ৩০ লাখ টাকা গত ৯ মার্চ লেনদেন হয়েছে। টাকা লেনদেন করে নজরুল ওই দিনই মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমায়। বাকী ৩০ লাখ টাকা লেনদেন হবে ১৩ মার্চ রিটার্নিং অফিসার মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়ার পর। ইউনিয়ন বিএনপির অনেক প্রবীন নেতা সাংবাদিকদের কাছে বলেন, জুলহাস উদ্দিন মূলত ইতালী প্রবাসী। সে ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মাত্র। ৫-৬ বছর পর পর দেশে আসায় তার পরিচিতিও কম। তারপরও টাকার জোড়ে সে বিএনপির মনোনয়ন নিশ্চিত করেছে।

এঘটনায় উপজেলা বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে বইছে নিন্দার ঝড়। উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মমিন আলী বলেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনায় আমরা বিব্রত। এব্যাপারে জুলহাস উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য অসুস্থতার কারণ দাঁড় করাণ। কিন্তু অসুস্থ হয়ে কোন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এর কোন উত্তর তিনি দিতে পারেননি। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নাসির উদ্দিন দেওয়ানের বক্তব্য নেওয়ার জন্য বারবার ফোন দেওয়া হলেও সে ফোন ধরেননি।

Comments are closed.