ড. আশির আহমেদ-এর ‘জাপান কাহিনি’ নিছক কোনো গল্প কাহিনি নয়

Moni1211qজাপানকে জানার জ্ঞানকোষ
রাহমান মনি: বাংলা একাডেমি বইমেলা বাঙালির প্রাণের মেলা। মেলাতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। অনেকে আবার ভালো লিখছেন ও সেগুলো পাঠকপ্রিয়তাও পাচ্ছে। তেমনি একটি বইয়ের নাম ‘জাপান কাহিনি’। বইটি ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি বইমেলায় প্রথম বের হয়। বইটির প্রকাশক ঐতিহ্য। বইটির লেখক ড. আশির আহমেদ। একজন শিক্ষক, গবেষক এবং দীর্ঘদিন ধরে জাপান প্রবাসী।

ড. আশির আহমেদ-এর ‘জাপান কাহিনি’ নিছক কোনো গল্প কাহিনি কিংবা কল্প কাহিনি নয়। জাপান সম্পর্কে, জাপানের সংস্কৃতি, সামাজিক শিক্ষা বোধ, জীবনযাপন, নৈতিক শিক্ষা ব্যবস্থা, দেশপ্রেম, নিজ ভাষার প্রতি ভালোবাসা, স্থাপনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, কুসংস্কার বা অন্যান্য বিষয়ে জানতে আগ্রহীদের সম্যক ধারণা দিতে সক্ষম বলে আমার মনে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা জাপান সম্পর্কে অজানাদের জন্য উইকি পিডিয়ার কাজ দিবে।

অত্যন্ত সহজ ভাষায় সাবলীলভাবে নিজ অভিজ্ঞতার কথা এমনভাবে উল্লেখ করেছেন যে, পাঠ করার পর মনে হতে পারে পাঠক নিজেও যেন লেখকের সাথে জাপান দেখছেন বা কল্পনা করে নিচ্ছেন। জাপান কাহিনির প্রতিটি গল্প বা কাহিনিতে রয়েছে শিক্ষামূলক তথ্য, যা জাপান না এসেও জাপান সম্পর্কে জানার দ্বার খুলে দিবে।
অনেক নামিদামি লেখক বিদেশ ঘুরে নিজ অভিজ্ঞতার কথা লিখে থাকেন। এই ক্ষেত্রে তারা নিজ অভিজ্ঞতার সাথে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে দুইটির সমন্বয়ে বই আকারে প্রকাশ করে থাকেন।
Moni1211q
কিন্তু ড. আশির আহমেদ নিজে জাপানে থেকে জাপানের একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত ঘুরে নিজ অভিজ্ঞতার কথা সহজ ভাষায় সতেজ ও প্রাণবন্ত করে তুলেছেন, যার স্বীকৃতি শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার বইটির মুখবন্ধে উল্লেখ করেছেন।

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার লিখেছেন, ‘আশির আহমেদ ছাত্রাবস্থায় পুরো আলাদা একটা সাংস্কৃতিক থেকে সেখানে গিয়ে সে দেশের নানা কিছু দেখে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়েছে। বিচিত্র বিষয় নিয়ে ব্যক্তিগত ঢঙে লেখা এই বইয়ের ছোট ছোট রচনাগুলো তার সেই অবাক হওয়ার গল্প।
Moni1211
জাপানি জীবনের নানা ব্যাপার দেখে আশির একাই শুধু অবাক হয়েছে তা নয়, তার স্বাদু চিত্তাকর্ষক আর আমেজি লেখার মৌতাতে পাঠক হিসেবে আমরাও যেমন কিছুটা অবাক হয়েছি। লেখাগুলো ছোট মজাদার বুদ্ধিদীপ্ত ও গতিশীল। বিচিত্র তথ্যে ভরা। লেখার এই প্রসাদগুণ দিয়ে আশির ছোট ছোট বেশকিছু মানবিক গল্পের পাশাপাশি জাপানি জীবনের নানা পরিচয়-ওখানকার মানুষের আত্মহত্যা, তাদের ভূতে বিশ্বাস, ফিউনারালের পরিপাটি ব্যবস্থা, শ্মশান, কাস্ট সমস্যা, কুসংস্কার, সামাজিক শিক্ষা, ভাষা, মিডিয়াÑ এমনকি হরেক বিষয়কে রমণীয় করে তুলেছে।

দেশটিকে আশির ট্যুরিস্টদের মতো বাইরে থেকে দেখেনিÑ দেখেছে একজন বিদেশি হিসেবে যে বহু দিন সে দেশে থাকতে থাকতে নানা বাস্তব ও মানবিক অভিজ্ঞতায় ভরে উঠেছে। এ বই তারই উষ্ণ সজীব বিবরণ। এ জন্যে বইটিতে জাপানের অন্তর্জীবনের খবর মেলে।

বছর আট-দশ আগে জাপানে বেড়াতে গিয়ে আমি ওদেশের ওপর একটা ভালো বই নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু বইটি পড়ে জাপান সম্বন্ধে আমি যতটুকু জেনেছিলাম, আশিরের জাপান কাহিনি পড়ে জাপানকে জেনেছি তার চেয়ে বেশি। এর কারণ এ গল্প জাপানের একেবারে ভেতরের গল্প। লেখকের ব্যক্তিগত রসবোধ, চাউনি, বর্ণনাভঙ্গি একে প্রাণবন্ত করেছে।

বইটি আমাকে জাপানের বাসিন্দা করে তুলেছে। পড়ার সময় মনে হয়েছে সব পাঠকেরই হয়তো তাই মনে হবে। শ্রদ্ধেয় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের এই মূল্যায়ন নিশ্চয়ই আশির আহমেদকে উৎসাহিত করেছে এবং তার জন্য বড় পাওয়া, বড় স্বীকৃতি।

যেহেতু আমি বহুদিন ধরে জাপানে বসবাস করছি, আশিরেরও আরও পূর্ব থেকে তাই কাহিনির অনেক গল্পের সাথেই আমারও বেশ কিছু অভিজ্ঞতার সাদৃশ্য রয়েছে। আমারও খুব কাছ থেকে ওইসব ঘটনার প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। অথচ আশিরের মতো করে আমি লিখতে পারিনি। এখানেই আশির পাণ্ডিত্য, দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। আশির পেরেছে, আমি পারিনি। এই যে পাঠকদেরকে জাগিয়ে তোলা বা তুলতে পারা একজন লেখকের বড় কৃতিত্ব বলে আমি মনে করি।

আমার দুর্ভাগ্য যে, ২০১৪ সালে যখন আশির আহমেদ ফেসবুকে জাপান কাহিনি লেখা শুরু করেন তখন তার লেখাগুলো পড়ে এতই ভালো লেগেছিল যে, লেখাগুলো আরও বৃহৎ আকারে পাঠকদের জানান দেয়ার জন্য ‘সাপ্তাহিক’-এর পক্ষ থেকে ড. আশিরের সাথে যোগাযোগ করি। তার সম্মতি পাওয়ার পর ‘সাপ্তাহিক’ সম্পাদক গোলাম মোর্তোজার সাথে যোগাযোগ করে ২/৩টি পর্ব পাঠাই। সম্পাদক নিয়মিত বিভাগে ছাপানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ড. আশির উৎসাহ প্রকাশ করে নিয়মিত লিখা পাঠানোর আশ্বাস দেন। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো কারণ ছাড়াই তিনি আর কোনো লেখা পাঠাননি। তাই ‘সাপ্তাহিক’-এও স্থান পায়নি। ব্যস্ততার কারণে উভয়পক্ষ তা বেমালুম ভুলে যাই। আজ এতদিন পর বই আকারে হাতে পেয়ে বইটি পড়ার পর নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ না করে পারছি না।

আশির আহমেদের জাপান কাহিনির প্রায় প্রতিটি গল্পের সাথেই অল্প বেশি পরিচিত। অনেক গল্পের সাথেই একমত, দ্বিমত হবার সুযোগও নেই। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতা থেকে মতপার্থক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। এ ক্ষেত্রে হয়েছেও তাই। দু’একটি গল্প নিয়ে মতামত জানানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছি না।

জাপানের আত্মহত্যা : আত্মহত্যার ইচ্ছে নেই বলে আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কোনোটাই না করা ভালো। তবে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার সময় কিংবা কর্মক্ষেত্র থেকে ফেরার সময় আত্মহত্যাজনিত কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেনের ভেতর কিংবা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করার বিড়ম্বনার কথা ভুক্তভোগী মানেই উপলব্ধি করতে পারেন। আরে ব্যাটা তুই আত্মহত্যা করবি তো কর, ১০০ বার কর। অন্যকে বিড়ম্বনায় ফেলে কেন?

জাপানি ভূত : ভূত-প্রেত সম্পর্কে জাপানি শিশুরা ছোটবেলা থেকেই জেনে থাকে। এখানকার কিন্ডারগার্টেনগুলোতে ভূত সম্পর্কিত গান শেখানো হয় বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে। যেমন একটি গানের বাংলায় করলে অর্থ দাঁড়ায় এরকমÑ ভূত বলতে আসলেই কিছু নেই, তারপরও ভূতের কথা শুনলে আমারও ভয়ে গা শিউরে ওঠে। আমি কিছুটা হলেও ভয় পাই।

গ্রামবাসীর কদর গল্পে আশির আহমেদ গ্রামবাসীদের সহজ সরলতার যে নিখুঁত বর্ণনা দিয়েছেন তা শাশ্বত। হোক না তা জাপান কিংবা বাংলাদেশ। গ্রামের মানুষের মধ্যে এক ধরনের সততা কাজ করে। অজানা অচেনা মানুষকেও খুব সহজে আপন করে নিতে পারেন। পৃথিবীর বহুদেশ ঘুরেও, জাপানের মতো দেশে থেকেও আশির তার এখলাছপুরের কথা ভোলেননি। প্রাচুর্য তাকে নিজ গ্রাম থেকে, গ্রামের ভালোবাসা থেকে তিল পরিমাণ দূরে সরাতে পারেনি যা সত্যি প্রশংসনীয়।
জাপানের ফিউনারেল গল্পে আশির আহমেদ তার জাপানি বাপজানের যে বর্ণনা দিয়েছেন এবং বাংলাদেশিদের প্রতি তার বাপজানের ভালোবাসার কথা শুনে নিজেকে অপরাধী মনে হয়েছে। আমি কেন আমার দেশের মান উঁচু করতে পারলাম না। যেটা আশির পেরেছেন। এই কাহিনিটি পড়লে জাপানিদের মৃত্যুর পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা জানতে আগ্রহীদের কৌতূহল মিটবে। চোখের সামনে বন্ধু বিমলের শবদেহ সৎকার দেখেছি। মাত্র ৪০ মিনিট পর যে ভস্ম বের করে আনা হলো তা দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে, এটা কোনো মানবদেহের অবশিষ্ট বিশেষ। মনে হয়েছে কতগুলো ছাই, কোনো হাড় নেই, কিছুই নেই।

জাপানিদের সততা প্রশ্নাতীত। গ্রামের একটি স্টেশনে মাত্র দুইজন ব্যক্তি, যার একজন বিদেশি, তাকে ঘুমে রেখে চলে যাবার পরও সবকিছু অক্ষুণœ অবস্থায় পাওয়া জাপান ছাড়া আর কোথাও সম্ভব নয়। বাংলাদেশ হলে তো শরীরের জামাকাপড়গুলোও…।

জাপানিদের বিনয় দুনিয়া সেরা। আর তাদের এই শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই দেয়া হয়ে থাকে। ড. আশির তার জাপান কাহিনির সামাজিক শিক্ষা গল্পে (পৃ. ৫৬) দলগতভাবে দেশকে ভালোবাসার শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলেছেন। জাপানের শিক্ষা ব্যবস্থাটাই হচ্ছে নিজ থেকে দল বড়। আর এই জন্যই জাপানিরা দলগতভাবে ভালো করে থাকে।

জনসচেতনতামূলক গল্প জরুরি নম্বর (পৃ. ৬১) চ্যাপ্টারে আশির আহমেদ বাংলাদেশে সংশ্লিষ্টদের জরুরি বার্তা দিয়েছেন। ১১ ডিজিেিটর নাম্বার (প্রিয়জনদের ছাড়া এবং জরুরি মুহূর্তে) মুখস্থ বা হাতের কাছে থাকার কথা নয়। তাও আবার একাধিক। যা-ও আবার করা হয়ে থাকে ওপার থেকে অদ্ভুত সব ম্যাসেজ পাওয়া যায়। কণ্ঠের কথা না হয় না-ই বললাম। আর বিপদে মানুষের মাথা ঠিকমতো কাজও করে না, তাই স্বল্প জিজিট এবং টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া (বিএনপির রাজনৈতিক স্লোগান নয়) সর্বস্থান থেকেই যেন একই নাম্বারে ফোন করা যায় সেই ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। আধুনিক এবং ডিজিটাল এই যুগে উক্ত ব্যবস্থা কঠিন কিছু নয়।
বন্ধুত্বহীনতা নিয়ে আশির আহমেদ-এর সাথে আমি একমত হতে পারিনি। জাপানিরা এমনিতেই বন্ধুবৎসল। তার উপর ড. আশির আহমেদ-এর মতো একজন চৌকষ আড্ডাবাজ, যা তিনি বিভিন্ন স্থানে উল্লেখও করেছেন (যেমন হাউকাউ হাউস) বন্ধুহীন থাকতে পারে না। প্রায় প্রতিটির আড্ডার মধ্যমণি আশির আহমেদ দেখিয়ে দিয়েছেন, যে রাঁধতে পারে সে চুলও বাঁধতে পারে। তার মতো মেধাবী ছাত্ররা সাধারণত সারাক্ষণই বই নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু আশির আহমেদ পড়াশুনা ঠিক রেখে আড্ডা দিতে আরও বেশি পছন্দ করেন।

যেমনটি একমত হতে পারিনি জাপানিদের হাসির দৈন্যতা নিয়ে। নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, জাপানিরা কারণে অকারণে হাসে। আর বেশি দিন বাঁচার এটাও একটা কারণ। অনেক সময় একা একাও হাসে। আর টিভির সামনে বসলে তো কথা-ই নেই। হাসবে তো হাসবেই আবার টেবিলও চাপড়াবে যেমন বাংলাদেশে সাংসদরা টেবিল চাপড়ান।

জাপানের মিডিয়া কাহিনিতে আশির আহমেদ জাপান এবং বাংলাদেশের মিডিয়া কভারেজ এবং মিডিয়ার দায়বদ্ধতার পার্থক্যটা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন। এখানকার মিডিয়া সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে মানবিক দিকগুলো তুলে ধরা হয়। নয়জন নিখোঁজের জন্য বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক পরাক্রমশালী দুটি দেশের রাষ্ট্রের কর্ণধারকে মাথানত করতে বাধ্য করেছিল মিডিয়া। বাংলাদেশ হলে তো আল্লাহর মাল আল্লাহ নিয়ে গেছেন কিংবা বেডরুম (সাগর-রুনি), রাস্তা (ইলিয়াস আলী) বা অফিস রুম (দীপন) পাহারা দেয়া সম্ভব নয়। আর যেহেতু পাহারা দেয়া সম্ভব নয় তাই বিচারের আওতায় (অপরাধীদের) আনাও সম্ভব নয়। তাছাড়া উচিতও হবে না। এত কিছুর পরও কিন্তু জাপান মিডিয়া প্রভাবমুক্ত নয়। তবে তা আমেরিকার প্রভাব। আমেরিকার স্বার্থবিরোধী কোনো সংবাদ জাপানের মিডিয়ায় খুঁজে পাওয়া যাবে না যেটা বাংলাদেশে অহরহ। বিশেষ করে রাজনীতিবিদদের মুখের বুলিতে। এদিক দিয়ে বাংলাদেশ মিডিয়া স্বাধীন বৈ কি!

জাপানের টয়লেট সিস্টেম যে বিশ্বসেরা তা আশির আহমেদ-এর কাহিনিতেও ফুটে উঠেছে। আমি নিজেও পৃথিবীর অনেক শহর ঘুরেছি, আমেরিকার ২৩টি অঙ্গরাজ্য ঘোরার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু জাপানের মতো এত উন্নত সচরাচর কোথাও চোখে পড়েনি। এখানকার পাবলিক কিংবা বিনোদন কেন্দ্রের টয়লেটগুলো অনেক দেশের তারকাসম্বলিত হোটেলের টয়লেট থেকে বেশি ঝকঝকে এবং মনোরম পরিবেশে।

জাপানের বাইরে যে সমস্ত বাংলাভাষী পাঠক রয়েছেন তারা ড. আশির আহমেদ-এর জাপান কাহিনি পাঠ করলে যে সার্বিক বিষয়ে সম্যক জ্ঞান লাভ করবেন শুধু তা-ই নয়, সেই সাথে রপ্ত করতে পারবেন কিছু জাপানি ভাষা। অত্যন্ত দক্ষতার সাথেই তিনি জাপানি ভাষা ব্যবহার করেছেন পাঠকের কৌতূহল সৃষ্টিতে। জানতে পারবেন জাপানের নেংটু হয়ে গোসল করার সংস্কৃতি সম্বন্ধেও, যা তিনি হট স্পি, কাহিনিতে রম্য বর্ণনা দিয়েছেন। পাঠক একইভাবে জানতে পারবেন জাপানের বাড়িভাড়ার বিড়ম্বনা, জাপানের মাফিয়াচক্রের সাংগঠনিক কার্য প্রক্রিয়ার কথা, বৃদ্ধদের বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহের কথা, বয়স্কদের বিড়ম্বনার কথা, জাপানে সেলিব্রেটিদের কথা। এক কথায় বইটির নামকরণ ‘জাপান কাহিনি’ নামকরণের সার্থকতা খুঁজে পাবেন পাঠক। এখানে আশির আহমেদ মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন। যেমনটি পরিচয় দিয়েছেন বইটি উৎসর্গ করার ক্ষেত্রে।

জন্মদাত্রী মাকে উৎসর্গ করার পাশাপাশি অত্যন্ত সুচারুভাবে বাবাকেও বঞ্চিত না করে বাবা-মায়ের ভালোবাসার কথাও পাঠকদের জানান দিয়েছেন।
আমি নিশ্চিত, জাপান কাহিনি একবার পাঠ শুরু করলে শেষ অবধি না পড়া পর্যন্ত কেউ হাতছাড়া করতে চাইবেন না। একটি বই-ই হতে পারে ভালো বন্ধু। বিনোদনের সাথী, জ্ঞান ভাণ্ডার এবং সময় কাটানোর ভালো মাধ্যম ‘জাপান কাহিনি’ তার প্রকৃত উদাহরণ।

rahmanmoni@gmail.com
সাপ্তাহিক

Comments are closed.