টোকিও: জাপানে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন পিঠা উৎসব

রাহমান মনি: বাংলাদেশের খাদ্য সংস্কৃতির অনেকটা অংশজুড়ে রয়েছে পিঠাপুলি। শহরের যান্ত্রিক জীবনে অনেকটা ঘটা করে পিঠা উৎসব পালন করা হলেও গ্রাম বাংলার অতিথি আপ্যায়নে পিঠা ঐতিহ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কিছুটা আভিজাত্যের প্রতীক ও নতুন জামাই আপ্যায়নসহ বিভিন্ন পার্বণে রকমারি পিঠার ব্যবহার দেখা যায় হরহামেশাই।

এই পিঠা আবার অঞ্চলভেদে, বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন স্বাদে, ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন আমাদের বিক্রমপুর এলাকায় বিবিখানা পিঠা অঞ্চলভেদে কলিজা পিঠা নামে পরিচিত। আবার কুমিল্লায় মেরা পিঠা কেবল কুমিল্লা এলাকাতেই প্রসিদ্ধ। আবার পাটিসাপটা পিঠা সারা বাংলাদেশেই একই নামে সমধিক প্রসিদ্ধ। পিঠার নামের যেমন শেষ নেই, তেমনি স্বাদেরও।

ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল আয়তনের বাংলাদেশের সব অঞ্চলের পিঠার সমাহার ঘটেছিল জাপানের রাজধানী টোকিওতে। এ যেন পিঠার হাটবাজার। পিঠা উৎসব নামে ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন।

আর এই ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনটি করেছিল টোকিওর ওতা সিটি কামাতা মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ। আবার মসজিদ কমিটির সদস্য না হয়েও অনেকে পিঠা তৈরি করে নিয়ে এসেছেন। কেউবা পাঠিয়েছেন।

ওতা শহরকে বলা হয় জাপানের সিঙ্গাপুর। টোকিওর এই শহরটিতে রয়েছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হানেদা এয়ারপোর্ট। রয়েছে বিভিন্ন ভারী, মাঝারি এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অসংখ্য শিল্প কারখানা। টোকিওতে নিজস্ব ভবনে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এন. কে ইন্টারন্যাশনাল এই শহরেই অবস্থিত। ওতাবাসী প্রবাসী সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এখানে নিজস্ব জায়গায় গড়ে উঠেছে একটি মসজিদ যা কামাতা মসজিদ নামে পরিচিত। আর এই মসজিদ নির্মাণে এবং পিঠা উৎসব আয়োজন ও বাস্তবায়নে যাদের অবদান না বললেই নয়, তারা হলেন এমডি এস. ইসলাম নান্নু, সাঈদ চৌধুরী, গাজী হেলাল, শরীফ হোসেন, শফিকুল ইসলাম খান, শেখ মোঃ বদরুজ্জামান, সায়েম, মোঃ ময়েজ বশর, মোঃ রবিউল ইসলাম রবিন, তৌহিদুর রহমান, মোঃ রবিউল আলম লিংকন, মোঃ খোকন, মিল্টন, শাহাদত চৌধুরী এবং হক।

ওতাবাসী কর্তৃক আয়োজিত পিঠা উৎসব হলেও জাপানের সর্বস্তরের প্রবাসীর জন্য তা উন্মুক্ত ছিল। তাই সকলের অংশগ্রহণে পিঠা উৎসবটি হয়েছিল সকলের মিলনমেলায়। অন্যান্য কোনো আয়োজনে সাধারণত যাদের উপস্থিতি পরিলক্ষিত হয় না এমন অনেককেই দেখা গেছে পিঠা উৎসবে যোগ দিয়ে আনন্দে মেতে উঠতে।
আর এই উৎসবে বিভিন্ন মুখরোচক খাবার তৈরি করে যারা উৎসবকে মহিমান্বিত করেছেন তারা হলেন, পাটিসাপটা পিঠাÑইমাম হাবিব এবং খোকন; ভাপা পিঠাÑরবিন লিংকন এবং হারিস; খেজুরের গুড় দিয়ে পিঠা পায়েস-সুবর্ণা ইসলাম; লবঙ্গ পিঠাÑতাহমিনা আখতার মুক্তা; আন্তসা পিঠা এবং ঝিকিমিকি পিঠাÑনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক; চিতই পিঠাÑসুরাইয়া খান; খেজুর অন্তশাÑখাদিজা আকতার; বিস্কুট পিঠাÑমলি এবং পুলি পিঠাÑশারমীন আকতার। এছাড়াও স্বাধীন ভাবী বাসা থেকে বিবিয়ানা পিঠা বানিয়ে পাঠিয়েছেন।

১৪ ফেব্রুয়ারি রোববার কামাতা শোহিশা সেইকাৎসু সেন্টারে এই উৎসব সম্পন্ন করা হয়। দিনটি জাপানে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে থাকে। একই দিন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব বিদ্যাদেবী সরস্বতী পূজার আয়োজন করে থাকে।

rahmanmoni@gmail.com
সাপ্তাহিক

Comments are closed.