সন্তানের কলমে বাবার গৌরব গাঁথা

‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’
বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে দেওয়ান লালন আহমেদ-এর ‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’। বইটি প্রকাশ করেছে দাঁড়কাক প্রকাশনী, প্রকাশক- সঞ্জীব পুরোহিত।

তরুণ প্রজন্মের মুক্তিযুদ্ধ দেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু তাই বলে তো থেমে নেই মুক্তিযুদ্ধ দর্শন। হ্যাঁ, দর্শন বলা যেতে পারেই, শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতিতে মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে। আছে চলচ্চিত্র, নাটকে মুক্তিযুদ্ধের অমর কাহিনী। গল্প-উপন্যাসেও ঘটেছে এর বিস্তৃত। কিন্তু একথা ঠিক যে, মুক্তিযুদ্ধের কলেবর এতো বড় ও মহান, যা কোনো নাটক-সিনেমা, গল্প উপন্যাসের ক্যানভাসে পুরোপুরি ধারণ করা অসম্ভব। তাই এর নানা দিক ও বিষয় নিয়ে দীর্ঘ চার দশক জুড়েই চলছে শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টি। সেই ধারা অফুরান! এরই ধারাবাহিকতায় দেওয়ান লালন আহমেদ তার বাবার মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে উপজীব্য করে লিখেছেন, ‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’।

দেওয়ান লালন বলেন, সবার জীবনেই বাবা একটি পরম নির্ভরতার নাম, আমার বাবার মত এমন লাখো বাবার লাখো সন্তান আছে, আমরা সবাই কি যার যার বাবার কথা ভাবি? হয়ত ভাবি, হয়ত ভাবি না! আমার সমগ্র জীবনধারায় বাবার যে অবদান তার কোন প্রতিদান বা শোধ হয় না। এই বইটির মাধ্যমে অল্পবিস্তর চেষ্টা করেছি নিজের ভিতরে থাকা বাবার প্রতি ঋণের বোঝা কিঞ্চিত লাঘব করতে যেখানে ভিত্তি হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ।

একজন বীর-মুক্তিযোদ্ধা, একজন ন্যায়পরায়ণ দয়াবান বাবা যিনি সারাটি জীবন সাদামন ধারণ করেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে এমন অনেক বাবা আছেন যাদের অবদান যাদের ত্যাগ তিতিক্ষা কেউ জানে না, হয়ত ইতিহাসে তাদের নাম থাকবে না কিন্তু এমন লোকের সংখ্যায় বেশি । কুলি, মুটে, মজুর, থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আমলা সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দেশমাতৃকার লড়াই এ, আর তা নিজ নিজ স্থান থেকে আমাদের প্রত্যেকের উচিত শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করা এবং নতুন প্রজন্মকে তা উপলব্ধি করানো।

হয়ত বাবা বেঁচে থাকলে আরও গুছিয়ে আরও তথ্যবহুল আরো ঘটনাবহুল কিছু যোগ করতে পারতাম। ‘বাবার চোখে মুক্তিযুদ্ধ’ বইটিতে আমি চেষ্টা করেছি বাবার কাছে শোনা ঘটনাগুলোকে উল্লেখ করে সেই সময়ের সেই এলাকাগুলোর মুক্তিযুদ্ধের তথ্যগুলোর সাথে যোগসূত্র আনতে। যে সেক্টরের অধীনে যে সাবসেক্টরে বাবা ছিলেন সেগুলোর কাঠামো, কর্মপরিকল্পনা, জনবল, বিন্যাস, এরিয়া, যুদ্ধ কৌশল ও অর্জনসহ সেক্টর কমান্ডারের মহান কীর্তিকে শ্রদ্ধা জানাতে তার জীবনীকে উল্লেখ করে জাতির কাছে তাঁর অবদানকে কিঞ্চিত তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এছাড়া সাদামনের মানুষ হিসেবে বাবার সাথে আমার জীবনধারায় তার প্রভাব ও প্রকৃত মানুষ করে তোলার ক্ষেত্রে তার দর্শন তুলে ধরেছি।

অমর একুশে গ্রন্থমেলায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় নজরুল মঞ্চে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, রেলওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন, আনন্দ আলোর সম্পাদক রেজানুর রহমান প্রমুখ।

বইটি পাওয়া যাচ্ছে লিটল ম্যাগ চত্বরে দাঁড়কাকের ২৯ নম্বর স্টলে। এছাড়া নজরুল মঞ্চের পেছনে ডিএমপির স্টল, আনন্দ আলোর ৭২ নম্বর স্টলে বইটি পাওয়া যাচ্ছে। মূল্য ১৫০ টাকা।

উল্লেখ্য, দেওয়ান লালন আহমেদ ১৯৭৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম মোঃ নুরুল ইসলাম দেওয়ান এবং মাতা মরহুমা রওশন আরা বেগম। দেওয়ান লালন আহমেদ ১৯৯৪ সালে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলস হাইস্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাস করে ভর্তি হন ঢাকার স্বনামধন্য নটরডেম কলেজে। ১৯৯৬ সালে নটরডেম কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পাস করেন। এরপরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকার ও রাজনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। ২০০৫ সালে ২৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে পুলিশ ক্যাডারে যোগদান করেন। দেশবিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। তিনি সহকারী পুলিশ সুপার ময়মনসিংহ, সহকারী পুলিশ সুপার মুন্সীগঞ্জ, সহকারী পুলিশ সুপার শিল্প পুলিশ গাজীপুর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০১২ সালের জুন মাসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতি লাভ করে সহঃঅধিনায়ক হিসেবে চট্রগ্রাম আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে যোগ দেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন আইভরিকোস্টে ডেপুটি কমান্ডার হিসাবে বাংলাদেশ আর্মড পুলিশ ইউনিট-এর নেতৃত্ব দেন। এক বছরের শান্তিরক্ষা মিশন শেষে তিনি জাতিসংঘ পদক অর্জন করেন।

সাইবার ক্রাইম ডিটেকশনের প্রতি দেওয়ান লালন আহমেদ-এর বিশেষ আগ্রহ এবং কমিউনিটি পুলিশিং-এর ওপর গবেষণা কর্ম `Community Polocing in Bangladesh : an innovative Approach towards Social Peace and Stability’ শিরোনামে পুলিশ স্টাফ কলেজ জার্নাল, ভলিউম-২, ইস্যু-২, অক্টোবর ২০১৫’ সালে প্রকাশিত হয়েছে।

লেখক অবসরে লেখালেখি নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তার লেখা গল্প-কবিতা-প্রবন্ধ দেশের জাতীয় পত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের মুখপত্র ‘ডিটেক্টিভ’ পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন। স্ত্রী ফারজানা গাজী, পুত্র দেওয়ান তিওম নুর ও কন্যা সেহলা তায়িবাহ আশানাকে নিয়ে তার পরিবার।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.