পিকআপ চালককে তিন দিন ধরে আটকে রেখে লাখটাকা দেন দরবারের অভিযোগ!

শ্রীনগরে হাইওয়ে থানা
আরিফ হোসেন: ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের শ্রীনগর উপজেলার হাসাড়া হাইওয়ে থানায় চার হাজার বোতল যৌন উত্তেজক অবৈধ এনার্জি ড্রিঙ্ক ও পিকআপ সহ এক চালককে তিন দিন ধরে আটকে রেখে লাখ টাকা দেন দরবারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জেনে মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় সাংবাদিকরা থানায় উপস্থিত হলে তড়িঘড়ি করে জব্দকৃত মালামাল সহ ওই পিকাআপ চালককে সিরাজদিখান থানায় সোপর্দ করা হয়।

হাসাড়া হাইওয়ে থানার এসআই জাহেদুল হক ও থানায় আটক পিকআপ চালক রুহুল আমীন (৩৮) জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারী ভোর রাতে হাসাড়া হাইওয়ে পুলিশ ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের চালতি পাড়া এলাকা থেকে চার হাজার বোতল অবৈধ এনার্জি ড্রিংকসহ একটি হলুদ রংয়র পিকআপ ( ঢাকা মেট্রো ন ১৪-৩৯৮৪) আটক করে । এসময় পিকআপের চালক মাদারীপুর এলাকার রুহুল আমীন (৩৮) কে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

অপর একটি সূত্র জানায়, মালামাল সহ রুহুল আমীনকে আটকের পর পরই তাকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় ছুটে আসেন এনার্জি ড্রিংকের মালিক মাদারীপুর বিসিক এলাকার আব্দুল্লাহ ফুড এন্ড কেমিক্যাল কোম্পানীর লোকজন। ছেড়ে দেওয়ার জন্য থানার ওসি তাদের কাছে এক লাখ টাকা দাবী করেন। মালিক পক্ষ প্রথমে বিশ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য রাজি হয়। গত তিন দিনে তা পঞ্চাশ হাজার টাকায় পৌছে। কাউকে আটকের ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে সোপর্দ করার বিধান থাকলেও দেন দরবারের কারনে ওসি পিকআপ চালককে সিরাজদিখান থানায় সোপর্দ না করে তিন দিন ধরে নিজের থানায় আটকে রাখেন। এমনকি ওসি বিষয়টি হাইওয়ে পুলিশের উর্ধতন কাউকে অবহিত করেননি।

এব্যাপারে হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ ডেরিক ইষ্টেফান কুইয়া জানান, টাকার বিনিময়ে দেন দরবারের বিষয়টি সঠিক নয়। তবে তিন দিন কেন আটকে রাখা হয়েছে এব্যাপারে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি। হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি মল্লিক ফখরুল ইসলাম বলেন বিষয়টি সম্পর্কে তিনি কিছু জানেননা। তবে খোজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

শ্রীনগর,মুন্সীগঞ্জ

২৩/২/১৬

Comments are closed.