জলদস্যুর আক্রমনে ২ জেলে গুরুতর আহত

‘জাল যার, জলা তার’ সরকারের এ নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গালি দেখিয়ে এবার নদী ভাগ করে নিয়েছেন মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মার চরের হামিদ মাদবরের ছেলে ফারুক মাদবর। এর পূর্বে স্থানীয় মুরব্বিদের কাছে নদী ভাগ করে দিতে দাবী জানালে সেখানে পাত্তা না পেয়ে এবার নিজেই সীমানা নির্ধারণ করে নদী ভাগ করে নিয়েছেন ইলিশ মাছ ধরার জন্য। নিজের জেলে নৌকা না থাকলেও জেলেদের প্রতি জুলুম নির্যাতন করে নদী ভাগ করে নিয়ে স্থানীয় জেলেদের মাছ ধরতে দিচ্ছেন না। ভূমি দস্যুতার পরে এবার তিনি শুরু করেছেন জলদস্যুতা। তার অত্যাচারে স্থানীয় জেলেরা পদ্মায় ইলিশ ধরতে পারছেননা। সিবোট দিয়ে নদীতে পাহাড়া দিচ্ছে ফারুক মাদবরের লোকজন। নদীতে মাছ ধরতে গেলেই জেলেদের প্রতি চালানো হয় আক্রমন।

গত শুক্রবার নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে জেলেরা পদ্মায় জাল ফেলতে পারেনি। ফারুক মাদবর ও তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে জেলেদের উপর হামলা চালিয়েছে। এতে মো. মোস্তফা মাঝি (৪৫) ও শাহীন মোল্লা (৩৫) নামে দুই জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন। মোস্তফার একটি হাত ভেঙে গেছে। আর শাহীন মোল্লা গুরুতর আহত অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তিনি চিরতরে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে বলে তার চিকিৎসক জানিয়েছেন। নিজের জাল না থাকলেও ফারুক মাদবর তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পদ্মা দখলে নিতে মাসাধিকাল ধরে চেষ্টা চালিলে যাচ্ছেন। অন্য এলাকার জেলেদের এনে সে পদ্মায় মাছ ধরাচ্ছেন। আর এসব জেলেদের জালে আটকা পড়া মাছ বিক্রির টাকা থেকে সে শতকরা ২০ টাকা করে চাঁদা হিসেবে নিচ্ছেন। ফারুক মাদবরের অত্যাচারে অতিষ্ট জেলেদের একটি প্রতিনিধি দল সোমবার স্থানীয় এমপি অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলির ঢাকার পল্টনের বাসায় তাঁর সাথে দেখা করে এর প্রতিকার চেয়েছেন।

স্থানীয় ইলিশ ধরা জেলেদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, প্রায় এক মাস ধরে তারা পদ্মায় ঠিকমত ইলিশ ধরতে পারছেন না ফারুক মাদবরের হুমকি ধমকি আর অত্যাচারে। ফারুক মাদবরের নিজের কোন জেলে নৌকা নেই। জালও নেই। তিনি মাওয়া মৎস্য আড়তের একজন আড়তদার। আড়তদারীর টাকাতে সে সন্তুষ্ট নয়। তার দৃষ্টি পড়ে পদ্মা নদীর ইলিশ ধরা জেলেদের উপর। প্রথমে জেলেদের নিকট চাঁদা দাবী করলেও স্থানীয় জেলেরা তাকে চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে দূর দূরান্ত এলাকার জেলেদের এনে পদ্মায় মাছ ধরাতে নামিয়ে দেন। এতে স্থানীয় জেলেদের সাথে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ফারুক মাদবর শতকরা ২০ টাকা কমিশন নিয়ে অন্য এলাকার জেলেদের দিয়ে মাছ ধরিয়ে চাঁদাবাজির কমিশন হিসেবে প্রতিদিন মোটা টাকা কামিয়ে নিচ্ছেন।

জনকন্ঠ

Comments are closed.