একুশে পদক ছাত্র ইউনিয়ন ও লেনিন

প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণে দেয়ার ক্ষেত্রে তাকে অবহেলা করা হচ্ছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার একুশে পদক দেওয়ার অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার ইচ্ছে থাকলেও আমন্ত্রণপত্র না পাওয়ায় সেখানে যেতে পারেননি তিনি।

আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটির নয়জনের একজন ‍এ নেতা নিজেকে ‘ক্ষমতাহীন’ বলেও উল্লেখ করেছেন।

শনিবার বিকেলে তিনি এমনই আক্ষেপ ও দুঃখবোধের একটি স্ট্যাটাস পোস্ট করেছেন তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে।

শুধু এই অনুষ্ঠান নয়, এমন আক্ষেপের কথা জানিয়েছেন অমর একুশে গ্রন্থমেলায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের যোগদানের বিষয়েও। অবশ্য, গ্রন্থমেলার অনুষ্ঠানে ‘বলে-কয়ে’ আমন্ত্রণলিপি সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন বলেও স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, “আজ একটা স্মরণীয় দিন ছিল। আজ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একুশে পদক প্রদান করেছেন। আমি সাধারণত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকি। কিন্তু একুশের অনুষ্ঠান হলে ভিন্ন কথা। এবার খুব ইচ্ছে ছিল অনুষ্ঠানে যাব। আমার খুব প্রিয় ও ঘনিষ্ঠ কয়েকজন একুশে পদক পাওয়ায় আগ্রহটা বেশি ছিল।”

লেনিন লিখেছেন, “ক্ষমতাসীন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য হলেই যে আমন্ত্রণলিপি পাব, এমন কোনো কথা নেই। ক্ষমতাহীন হলে যা হয়! বাংলা একাডেমির কার্ড ১ তারিখের আগের রাতে বলে-কয়ে সংগ্রহ করতে হয়েছে। বুঝতে পারছি না ইদানীং প্রায়ই এমনটি ঘটছে!’

২০১৬ সালে একুশে পদক পাওয়া অনেকের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের স্মৃতিচারণা করে লেনিন তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, “সেই ১৯৬৫ থেকে মফিদুলের সঙ্গে পরিচয় ও বন্ধুত্ব। মুক্তিযুদ্ধকালে একসাথে ছিলাম অবরুদ্ধ বাংলাদেশে। একসাথে ছাত্র ইউনয়ন, কমিউনিস্ট পার্টি করতাম। একসময়ে কমিউনিস্ট পার্টি ছেড়েছি। আমি আওয়ামী লীগে যোগ দেই, মফিদুল আর কোনো দল করেনি। আমাদের বন্ধুত্ব এখনো অটুট।”

আরও লিখেছেন, ‘জ্যোতি প্রকাশ দত্ত, হায়াৎ মামুদ, হাবিবুল্লাহ সিরাজী আমার আত্মার আত্মীয়। শাহীন সামাদ ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়নে ছিল। ১৯৭৩-এ আমরা তাকে বার্লিন দশম বিশ্ব যুব উৎসবে নিয়ে গিয়েছিলাম। ওরা সবাই একুশে পদক পাওয়ায় আমি গর্বিত। অনুষ্ঠানে যাওয়ার কার্ড না পাওয়ায় যাওয়া হয়নি।”

স্ট্যাটাসের বিষয়ে জানতে চাইলে নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, “সরকারি কাজই এমন। একুশে অনুষ্ঠানের আমার নামে ইস্যু করা কার্ড এসেছে অনুষ্ঠানের পরের দিন। অনেক মন্ত্রণালয়ের অনু্ষ্ঠানের কার্ড পাই অনুষ্ঠানের তিন দিন পর। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তব্যে অবহেলার কারণে এগুলো হয়েছে। এর সঙ্গে রাজনৈতিক দল বা আওয়ামী লীগের কোনো সংযোগ নেই।”

বেসরকারি আমন্ত্রণপত্রের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটে উল্লেখ করে লেনিন বলেন, “কয়েক দিন আগে আবুল মাল আবদুল মুহিতের আত্মজীবনীমূলক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পেয়েছি অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার ঘণ্টা তিনেক পরে।”

ঢাকাটাইমস

Comments are closed.