শিক্ষার্থী অপহরণের মিথ্যা মামলা কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে আসছে

বিনোদপুরে কলেজ শিক্ষার্থী অপহরণের চেষ্ঠার নেপথ্যের কারণ কি। এই নিয়ে নানা রকমের কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। বৃহস্পতিবার আসলে কি ঘটে ছিল। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এখানে যে ঘটনাই ঘটে থাকুক না কেন। প্রকৃত সত্যে মামলার বাদি গোপন করেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। শুধুমাত্র মামলাকে শক্ত করতে ও প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও ঘায়েল করতে মামলায় নানা রকমের রংয়ের মসলা মাখানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

যে মেয়েকে নিয়ে মুলত এতো ঘটনা, সেই মেয়েকে এই মামলা থেকে আড়াল করা হয়েছে। আর যে মেয়ে ঘটনার সাথে আদৌ জড়িত নয় তাকে মামলায় মূখ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাছাড়া ঘটনার দিন সেই মেয়ে বাড়িতেই ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। তা হলে আসলে এই মামলার গতি কি।

বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় পঞ্চসার ইউনিয়নের বনিক্যপাড়ায় ইউনিয়ন আ’লীগের সভা ছিল। ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আলমগীর এই সভার ডাক দেন। মুলত ইউনিয়ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে ইচ্ছুক প্রার্থীরাসহ ইউনিয়নের আ’লীগসহ অংগ সংগঠনের নেতারা এখানে মিলিত হন। আলমগীর এখানে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান। তাছাড়া এডভোকেট গোলাম মাওলা তপন, আব্দুস সাত্তার ও কাজল নির্বাচন করতে চান।

আর এই অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইকরাম হোসেন তুর্য্য সদর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আসিক উপস্থিত ছিলেন বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। সেখান থেকে রাত ৯টায় তারা বাড়ি ফিরে আসে। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে আলমগীরের চাউলের আড়ৎ থেকে একটি ভোটার আইডি কার্ড ফটো কপি করার জন্য সেখানে তুর্য্য যায়। তাছাড়া একটি হলুদের অনুষ্টানে তাকে যেতে হবে বলে তার বেশ তাড়া ছিল। কিন্তু আড়তে এই সময় উপস্থিত হয় মিজানুর রহমান। তুর্য্যরে সাথে মিজানের কথা কাটাকাটি চলতে থাকে।

মিজানের এক বোন হিরা দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজে পড়ে। তার বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে তুর্য্যর বন্ধু আসিক তার মাকে নানা রকমের কথা বলেছে। এই নিয়ে তার মধ্যে জালাময় বাক্য বিনিময় হতে থাকে। এই সময় এখানে উপস্থিত হন রুবেল। সে দেখতে পায় মিজান মোবাইলে তাদের কথা বার্তা রেকর্ড করছেন। এই বিষয়টি তুর্য্যকে জানালে সে মিজানের কাছ থেকে মোবাইলটি নিয়ে আসার চেষ্ঠা করেন। এই সময় মিজান চাউল মাপার কাটা দিয়ে তুর্য্যর হামলে পরে। বিষয়টি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পরলে উত্তোজিত এলাকাবাসি পাল্টা মিজানের ওপর হামলে পরে।

এলাকার মুরুব্বিরা ছুটে এসে তাদেরকে ছাড়িয়ে আনে। এরপর তুর্য্য তার বন্ধুর বাড়ির গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে চলে যায়। সেখানে ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতারা এই বিষয়টি শুনে উত্তোজিত নেতারা রাত প্রায় ১১টার দিকে মিজানের বাড়িতে যায়। কেচি গেইটে গেট আটকানো থাকায় তারা জানালার দিকে ঢিল ছুড়ে মারে। এতে জানালার কাঁচ ভেঙ্গে যায়।

এখানে ঘটনা রাত ১১টার দিকে। অথচ মামলায় ঘটনা দেখানো হলো রাত ৯টার সময়। আর ঘটনার সূত্রপাত হচ্ছে হিরাকে নিয়ে। হিরা থাকে দিনাজপুরে। হিরার ছোট বোন হচ্ছে মম। সে এদিন মম বাড়িতে ছিল বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অথচ মামলায় মমকে অপহরণের চেষ্ঠা করা হয়েছে আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মম’র সাথে অভিযোগকারীদের কোন সর্ম্পক নেই বলে খবর চাউর হচ্ছে। তা হলে কেন মম’কে এই মামলার উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হল।

বিক্রমপুর সংবাদ

Comments are closed.