শ্রেণিকক্ষ–সংকট, ক্লাস করতে হয় দাঁড়িয়ে

মুন্সিগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়
মুন্সিগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ-সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। আসন-সংকটের কারণে গাদাগাদি করে বসার পরও অনেক সময় দাঁড়িয়েও ক্লাস করতে হয় শিক্ষার্থীদের। রয়েছে শিক্ষক-সংকটও।

১৯৬৮ সালে জেলা সদরের মধ্য কোর্ট গাঁও এলাকায় ৭৩ শতাংশ জমির ওপর স্থাপিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। কিন্তু এই বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ১৫টি শ্রেণিকক্ষ। এ কারণে প্রায়ই ছাত্রীদের আসন সমস্যায় পড়তে হয়। আসন পূর্ণ হয়ে গেলে তারা দাঁড়িয়ে ক্লাস করে।

বিদ্যালয় সূত্র জানায়, ৬০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা। আর এখানে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ১৭ জন। অথচ শিক্ষার্থীদের অনুপাতে শিক্ষক থাকার কথা ২২ জন।

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির আরও কিছু সমস্যা রয়েছে। একটি কমনরুমের অভাবে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গ্রন্থাগার থাকলেও সেটির কোনো গ্রন্থাগারিক নেই। এ কারণে প্রায়ই বন্ধ থাকে গ্রন্থাগার। মেয়েদের প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যালয়ের পশ্চিম ও পূর্ব দিকে সীমানাপ্রাচীর নেই।

অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, তাদের ক্লাসে শতাধিক ছাত্রী। কোনো দিন ৮০ জন এলেও বেঞ্চে চাপাচাপি করে বসতে হয়। দাঁড়িয়ে ক্লাস করতে হয় অনেককে। আর সবাই ক্লাসে এলে তো কষ্টের সীমা থাকে না।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, পড়াশোনার মান দিন দিন উন্নতি হলেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন তেমন হচ্ছে না। ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয়ের পাসের হার ৯২ শতাংশ। ২০১৪ সালে ছিল ৯১ দশমিক ৩০ শতাংশ। গত বছর জেএসসিতে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২১ শতাংশ।
জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আক্তার হোসেন ঢালী বলেন, ‘আমাদের কমপক্ষে আরও পাঁচটি শ্রেণিকক্ষ ও পাঁচজন শিক্ষক দরকার। সীমানাপ্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা-সংকটে ভুগতে হয়। এত সব সমস্যার পরও আমাদের বিদ্যালয়ের পাসের হার অনেক ভালো।’

প্রথম আলো

Comments are closed.