আট বছর ধরে ‘তৈরি হচ্ছে’ মুন্সীগঞ্জের ট্রমা সেন্টার!

মঈনউদ্দিন সুমন: মুন্সীগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত মানুষদের দ্রুত সেবা দিতে একটি ট্রমা সেন্টার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালে দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। এরপর পেরিয়ে গেছে আটটি বছর। কিন্তু এখনো নির্মাণকাজ শেষ হয়ে রোগীদের সেবা দেওয়ার উপযুক্ত হয়নি শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর এলাকার এ ট্রমা সেন্টার।

দফায় দফায় দরপত্র আহ্বান, নির্ধারিত স্থান পরিবর্তন, অর্থাভাব ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে দীর্ঘ আট বছরেও শেষ হয়নি এ এলাকার একটি মাত্র ট্রমা সেন্টার নির্মাণের কাজ।

শুরুতে ২০০৭ সালে লৌহজং উপজেলার মাওয়ায় ট্রমা সেন্টার নির্মাণের জন্য স্থান নির্ধারণ করে জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর। পরে সেখানে সুবিধামতো জায়গা না পেয়ে শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর এলাকায় সেন্টারটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথমভাগে তিন তলা পর্যন্ত নির্মাণ কাজের জন্য ২০০৭ সালেই তিন দফায় দরপত্র আহ্বান করে মুন্সীগঞ্জ জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর। তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে মেসার্স আবদুস সাত্তার নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ট্রমা সেন্টারের তিন তলা নির্মাণের কাজ পায়।

দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়ার প্রায় তিন বছর পর ২০১০ সালের ২৬ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর এলাকায় এর নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

তিনতলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণের পর সেখানে আরো কিছু বাড়তি কাজ যোগ করে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কিন্তু তা করতে অস্বীকৃতি জানায় মেসার্স আব্দুস সাত্তার। ফলে ট্রমা সেন্টার নির্মাণকাজের জন্য তারা অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। এরপর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়।

এ ট্রমা সেন্টার নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় দুই কোটি ৩২ লাখ টাকা। তবে এই তিনতলা ভবন তৈরি করতেই দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেয় মেসার্স আব্দুস সাত্তার।

এরপর ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে মুন্সীগঞ্জ জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর অবশিষ্ট কাজের জন্য আবার দরপত্র আহ্বান করে। টেক ঢাকা জোন নামে একটি প্রতিষ্ঠান প্রথমে নির্বাচিত হলেও অক্টোবর মাসে জানা যায়, তারা দরপত্র অংশগ্রহণকারী হিসেবে অযোগ্য। ফলে সেই মাসে আবারও দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত অধিদপ্তর।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে হাঁসাড়া ফাঁড়ির সার্জেন্ট মো. হাসান জানান, ২০১৫ সালজুড়ে এই মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩০ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছে। এই মহাসড়কে ট্রমা সেন্টার যাত্রা শুরু করলে আহত যাত্রীদের দ্রুত সেবা দেওয়া যাবে। বিশেষ করে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।

ট্রমা সেন্টার নির্মাণের এত দীর্ঘ সময় লাগার কারণ জানতে চাইলে মুন্সীগঞ্জ জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন বলেন, ‘আমি আসার পর থেকে ট্রমা সেন্টারের অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করার জন্য দ্রুত দরপত্র আহ্বানের কাজ করি। আশা করছি এপ্রিল নাগাদ আবার কাজ শুরু হবে। শিগগিরই সেন্টারের কাজ শেষ করা হবে।’

এ বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের সিভিল সার্জেন শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জ জেলা গণপূর্ত অধিদপ্তর আমাকে জানিয়েছে আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন করে পাইলিং সংখ্যা বৃদ্ধি, নতুন নকশায় কাজ করতে অপরাগতা জানিয়েছিল তাই চুক্তি বাতিল করা হয়।’

দ্রুত এই ট্রমা সেন্টারের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে বহু সাধারণ মানুষের উপকার হবে বলেও মন্তব্য করেন সিভিল সার্জন।

এনটিভি

Comments are closed.