প্রায় ৫ শতাধিক কারখানায় তৈরী হচ্ছে অবৈধ কারেন্ট জাল!

সুমিত সরকার সুমন: মুন্সীগঞ্জে সদর উপজেলার পঞ্চসার, রামপাল ইউনিয়ন ও মিরকাদিম পৌরসভায় মোট ৫ শতাধিক ছোটবড় জাল তৈরীর কারখানা রয়েছে। এইসব কারখানায় দিনে রাতে তৈরী হচ্ছে অবৈধ কারেন্ট জাল। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঝে মধ্যেই কারেন্ট জাল কারখানায় অভিযান চালিয় বিপুল পরিমানের কারেন্ট জাল জব্দ, কারখানা সীলগালা করার পরেও বন্ধ হচ্ছেনা কারেন্ট জাল তৈরী।

স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত এক বছরে এই পর্যন্ত ১০ টি কারখানা ভ্রাম্যমান আদালত কারেন্ট জাল তৈরীর কারণে সীলগালা করেন। উচ্চ আদালত থেকে এর মধ্যে ৫ টি কারখানা খুলে দেয়ার আদেশ নিয়ে আসলে সেইসব কারখানা খুলে দেওয়া হয়। এতে করে বন্ধ হচ্ছে না জাল তৈরী।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও সদর উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সুত্রে জানাযায়, সদর উপজেলার পঞ্চসার, রামপাল ইউনিয়ন ও মিরকাদিম পৌরসভায় মোট ৫ শতাধিক ছোটবড় জাল তৈরীর কারখানার প্রায় সবগুলোতে কারেন্ট জাল তৈরী করা হয়। গত – এক বছরে মুন্সিগঞ্জে ভ্রাম্যমান আদালত ২৩ টি কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে ২৩ জনকে আটক করেন। এদের মধ্যে ৫ জনকে কারগারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। বাকী ১৮ জনকে বিভিন্ন অংকের অর্থ জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। এই কারখানাকে মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৫০ টাকা জরিমাণা করা হয়। এইসব কারখানা থেকে মোট আটক করা হয় ৫ কোটি ৫২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ মিটার কারেন্টজাল।

সর্বশেষ ভ্রম্যমান আদালত গত রোববার (৭ ফেব্রুয়ারী) মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মিরকাদিম পৌরসভার মিরাপাড়া কবরস্থান সংলগ্ন পূরবী ফিশিং নেট কারখানায় অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ২০ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করেছে। এদিকে ভ্রাম্যমান আদালতের পাশাপাশি নদীতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান কারেন্ট জাল জব্দ করেন।

সর্বশেষ চলতি বছরের গত ২৯ জানুয়ারী গজারিয়া উপজেলা স্টেশনের কোস্টগার্ড সদস্যরা মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ৪ কোটি ৬৫ লাখ মিটার কারেন্ট জালসহ ৩ জনকে আটক করে। জব্দকৃত কারেন্ট জালের বাজার মূল্য প্রায় ৯৩ কোটি টাকা বলে সে সময়ে কোস্টগার্ড কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের জানিয়েছিল। তবে গত এক বছরের আটককৃত এইসব কারেন্ট জালের মুল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে আটককৃত এইসব কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।

সরেজমিনে মুক্তারপুরের বিভিন্ন কারখানা ঘুরে দেখা যায়, কারখানায় দিনে ও রাতে তৈরী হচ্ছে কারেন্ট জাল। পঞ্চসার ইউনিয়নের কাশিপুর, মালির পাথর,দয়াল বাজার, আধারিয়াতলা, মুক্তারপুর, বিসিক, মাদবরবাড়ী এলাকায় ১০/১২ টি কারখানায় ঘুরে দেখা যায় কারেন্ট জাল তৈরীর দৃশ্য। বড় বড় কারখানার পাশপাশি বসতঘরের অর্ধেক অংশ জুড়েও জাল তৈরীর মেশিন বসিয়ে কারেন্ট জাল উৎপাদন করা হচ্ছে। এলাকাবাসী জানায়, যখন অভিযান হয় তখন অন্যরা টের পেয়ে গিয়ে কারেন্ট জাল তৈরী বন্ধ রাখে।

তারা চলে যাওয়ার পরে আবার শুরু করে জাল তৈরী। মুন্সিগঞ্জ জাল কারখানা সমিতির সহ-সভাপতি ও পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা উচ্চ আদালতে এই অন্যায় অভিযানের বিরুব্ধে রীট করেছি। ইতিমধ্যে আমাদের সীলগালা কৃত ৫ টি কারখানা খুলে দিতে উচ্চ আদালত আদেশ দিয়েছে। সেই আদেশে খুলে দেয়া হয়েছে। এই ৫ টির মধ্যে তার নিজেরও একটি কারখানা রয়েছে বলে স্বীকার করেন।

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাজাদা খসরু বলেন, কারখানাগুলো এতোটাই ঘনত্ব যে,কারখানায়গুলোতে অভিযান চালালে দ্রুত খবর ছড়িয়ে পরে। এই সময়ের মধ্যে সকলে সতর্ক হয়ে যায় আমাদের জনবল কম। তাই আমাদের র‌্যাব ও ভ্রাম্যমান আদালতের উপর নির্ভর করতে হয়।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট এ কে এম শওকত আলম মজুমদার বলেন, আমরা জালসহ আটক করছি। কারখানা সীলগালাও করছি। উচ্চ আদালতে থেকে তারা আবার কারখান খুলে দেয়ার আদেশও নিয়ে আসছে। কারেন্টজাল কারখানা বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে ও থাকবে।

বিডিলাইভ

Comments are closed.