রফতানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে : শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের রফতানি আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে বর্তমান সরকার বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের নজরুল ইসলাম চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আজ সংসদে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় রফতানি খাতকে অগ্রাধিকার খাত হিসেবে চিহ্নিত করে রফতানি কার্যক্রম সহজীকরণও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে নতুন রফতানি নীতি-২০১৫-২০১৮ জারি করেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য মূলত ৬টি পণ্য যথা- তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাতপণ্য, হিমায়িত খাদ্য, হোম টেক্সটাইল এবং কৃষি ও কৃষিজাত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এই নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণের জন্য ফার্নিচার শিল্প, জাহাজ শিল্প, আগর উড ও আতর, হীরা, পাঁপড় ইত্যাদি নতুন নতুন পণ্যকে রফতানি পণ্যের ঝুড়িতে অন্তর্ভুক্ত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টায় চীন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় উল্লেখযোগ্য প্রায় সকল পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার অর্জিত হয়েছে। এছাড়া ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে অস্ত্র ব্যতিত সকল পণ্যে, ভারতে সকল পণ্যের এবং চিলিতে সকল পণ্যের ওপর শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, সরকারের সক্রিয় প্রচেষ্টায় জাপানে নিট পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে জাপান সরকার জিএসপি সুবিধার রুলস অব অরিজিন ৩ স্তর থেকে ১ স্তরে আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, নগদ সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার ফলে কৃষিজাত পণ্য ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হিমায়িত চিংড়ি, আলু, হস্তশিল্পজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের রফতানি উত্তোরত্তর বৃদ্দি পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে নতুন বাণিজ্যিক উইং-এ কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া ইস্তাম্বুল ও কুনমিং-এ বাণিজ্যি উইং স্থাপনের বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

তিনি বলেন, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক চুক্তির ক্ষেত্রে ৪৫টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি রয়েছে। সর্বশেষ কুয়েতের সাথে ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ১টি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বর্তমানে জর্ডান, তাজিকিস্তান, আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, রাশিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চিলি, আজারবাইজান ও চেক প্রজাতন্ত্র এই ১০টি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য দেশের রফতানিযোগ্য ও রফতানি সম্ভাবনাময় পণ্যের নতুন রফতানি বাজার অন্বেষণ এবং বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাণিজ্য প্রতিনিধিদল সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, কুয়েত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাম্বিয়া, মোজাম্বিক, চেক প্রজাতন্ত্র ও জার্মানি সফর করেছে।
তিনি বলেন, নতুন নতুন বাজার অন্বেষণ, পণ্য পরিচিতি ও বহুমুখীকরণের উদ্যোগের আওতায় ২০১২-২০১৩ অর্থবছর থেকে মোট ৯০টি মেলায় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রীকে কো-চেয়ারম্যান করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে গঠিত সোস্যাল কমপ্লায়েন্স ফোরাম ফর আরএমজি’র নিয়মিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি, সময়মত বেতন ও ওভারটাইম প্রদান, অগ্নি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো ইত্যাদি বিষয়ে কমপ্লায়েন্স প্রতিপালন সংক্রান্ত গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের আওতায় বেসরকারি স্পেশাল ইকনমিক জোন হিসাবে মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া এলাকায় বিজেএমইএ এবং চীনের যৌথ উদ্যোগে গার্মেন্টস শিল্প পার্ক এবং নারায়ণগঞ্জ জেলার শান্তিরচর এলাকায় ‘নিট পল্লী’ স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক ও কর্মচারীদের দক্ষতা উন্নয়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১০ থেকে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, চা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ শিল্পের সাথে জড়িত বিভিন্ন সংস্থাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে চা বোর্ড যথাযথ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। চা-এর রফতানি বাজার সম্প্রসারণ এবং গুণগত মান বৃদ্ধিতে চা বোর্ড সচেষ্ট রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ৬টি খাত ভিত্তিক পণ্য বহুমুখী করার জন্য বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল বিভিন্ন কর্মকা- পরিচালনা করছে এবং এ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। তাছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রীর নেতৃত্বে রফতানি উন্নয়নকল্পে একটি টাস্কফোর্স কমিটি কার্যকর রয়েছে।

তিনি বলেন, রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার কতিপয় পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে নগদ সহায়তা প্রদান করছে এবং স্বল্প সুদে ঋণ সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, রফতানি বাজার সম্প্রসারণ ও সুদৃঢ়করণের লক্ষ্যে রফতানিকারকদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা, একক প্রদর্শনী ও থিম ভিত্তিক মেলায় অংশ গ্রহণের সুযোগ প্রদান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, নতুন নতুন বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রাপ্তি এবং অশুল্ক বাধা দূরীকরণের লক্ষ্যে নানামুখী প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে পৃথিবীর অনেক দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের রফতানি বাণিজ্যে গুটি কয়েক পণ্যের ওপর নির্ভরশীরতা কমিয়ে ফার্নিচার শিল্প, জাহাজ শিল্প, আগর উড ও আতর, কাটা ও পলিশ করা হীরা, পাঁপড় ইত্যাদি পণ্য রফতানিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তাছাড়া দেশের কাঁচামাল উৎপাদন এলাকায় উপযুক্ত মানের আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা সম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ‘এক জেলা এক পণ্য কর্মসূচি’ গ্রহণ করা হয়েছে, যা পুনঃমূল্যায়ন ও জোরদার করা হবে।

বাসস

Comments are closed.