বিদায়ী শীতে ধলেশ্বরী তীরে সুরের মেলা

“আনন্দলোকে মঙ্গলোকে বিরাজও সত্যসুন্দরও…” রবি ঠাকুরের কালজয়ী গানের শুরুতেই সন্ধ্য নামে। তাল লয় আর সঠিক কণ্ঠে মঞ্চভর্তি শিক্ষার্থীদের গাওয়া এই গান উপস্থিত হাজারো দর্শককে নিয়ে যায় অন্য জগতে। বিদায়ী শীতের শান্ত ধলেশ্বরীর একেবারে তীর ঘেষা মঞ্চ থেকে বেজে উঠছিল সুর। ছড়িয়ে পরছিল চারিদিক। গানগুলোর এতবেশী দ্যুতি ছড়াচ্ছিল যা শুধু উপস্থিতি দর্শকরাই অনুধাবান করেছেন।

মুন্সীগঞ্জের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ পিপিআই রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের একাদশের ছাত্রী সুচতা মোদির কণ্ঠে “চোখের আলোয় দেখেছিলাম চোখের বাহিরে… দর্শকের হাতালিই বুঝিয়ে দেয় তারা কত বেশী মুগ্ধ। দশম শ্রেনীর ছাত্রী বৃষ্টি রানী কুন্ডু আর জাতীয় কবি নজরুলের “মোর ঘুমো ঘোরে কে এলেগো….” করতালির মাত্রা আরও বাড়ে। নবম শ্রেণীর ছাত্র আলভির কণ্ঠে “তোমার বাড়ির রংয়ের মেলায় দেখেছিলাম বাইসকোপ…”। একাদশের স্বর্ণালীর কণ্ঠে ভেসে আসে “মিলন হবে কত দিনে…”।

এছাড়া নানা গানের সাথে নিত্য, হাসির বিশ্ব সংবাদ পাঠ, দুই বন্ধুর চাকরীর ভাইবা থেকে বেশ আনন্দ দেয়। সবশেষে শিক্ষার্থীদের অভিনয়ে “সংগদোষ” নাটক সচেতন করে তোলে সকলকে। ততক্ষণে প্রকৃতিতে শিশির বিন্দু ছড়াচ্ছে। ধলেম্বরীর বুক চিরে যাচ্ছে লঞ্চসহ নানা আকৃতির নৌ যান। ধলেশ্বরী-শীতলক্ষ্যা আর মেঘনার মিলন মেলাটির মঞ্চের অদূরে তাই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের যাত্রীরাও ঝিলিকের মত উপভোগ করেছেন এই সুরের আসর।

পুরো এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সঞ্চালনাও করে শিক্ষার্থীরা। একাদশের ক্যাথি ও জিসানে উপস্থাপনায় উঠে আসে দেশজ সংস্কৃতি তথা বাঙালি নানা অনুসঙ্গ। নদী, ঋতু, প্রকৃতি, ঐতিহ্য কিছুই বাদ যায়নি। তাই সোমবার রাতে মুন্সীগঞ্জের পিপিআই (প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. ইয়াজউদ্দিন) রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের নবম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উচু মানের একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করে বসন্তের আগমনী বার্তা নিয়ে বাড়ি ফিরে। অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মেজর গাজী তাওহীদুজ্জামানের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক সুখেন চন্দ্র ব্যানার্জী, অধ্যাপক প্রবীর কুমার গাঙ্গুলী, গজারিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান রেফায়েতউল্লাহ খান তোতা ও প্রেসক্লাব সভাপতি মীর নাসিরউদ্দিন উজ্জ্বল। এই অনুষ্ঠান কমিটির আহ্বায়ক প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক কো-অর্ডিনেটর ফারহানা মির্জ বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতায় গড়েতোলার জন্যই মান সম্মত আয়োজন। আর প্রথম পর্বের সঞ্চালক প্রভাষক রহমতউল্লাহ জুয়েল বলেন, শিক্ষার্থীদের এভাবে তৈরীর চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে পুথিগত বিদ্যার বাইরেও নিজের সংস্কৃতি লালন করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক আর সুধীজনের উপস্থিতিতে আসরটি ঝিলিক ছিল মনে রাখার মত।

জনকন্ঠ

Comments are closed.