সদর হাসপাতাল : অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেবা

মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের ভেতরে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। এসব থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় টেকা যায় না। এ অবস্থার মধ্যেই জরুরি, বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কয়েকজন স্বজন বলেন, এটা সদর হাসপাতাল। অথচ এর পরিবেশ এতটাই নোংরা যে এখানে এক মিনিট টিকে থাকা কষ্টকর। নিরুপায় হয়ে রোগী ও তাঁর স্বজনেরা কোনোরকমে এখানে সময় পার করছেন। তাঁরা বলেন, ২০০ শয্যার হাসপাতালের নিচতলায় মহিলা ও পুরুষ ওয়ার্ডের শয্যাগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অপরিচ্ছন্ন বিছানার চাদরেই রোগীরা শুয়ে আছেন।

মহিলা ওয়ার্ডের একাধিক রোগী বলেন, হাসপাতালের শয্যা দেখলে এতে কেউ থাকতে চাইবেন না। কিন্তু বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অপরিচ্ছন্ন শয্যায় রোগীরা থাকছেন। এসব শয্যায় থাকায় রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়বেন।

গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিন দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগ—দুই জায়গার পরিবেশই নোংরা। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। জরুরি বিভাগে যেখানে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়, সেই শয্যার নিচেই শৌচাগারের পানি এসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। নিচতলায় পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডের পাশ দিয়ে হাঁটলে শৌচাগার থেকে আসা দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসে।

বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী সায়মা আক্তার বলেন, মুন্সিগঞ্জের জেলা সদরের একমাত্র হাসপাতালের পরিবেশ যদি এমন হয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর অবস্থা কী, সেটা বুঝতে কারও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ হেলালউদ্দিন বলেন, ৫০ শয্যার জনবল দিয়ে ২০০ শয্যার হাসপাতাল চলছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও সুইপারের সংখ্যাও কম। এ জনবল দিয়ে হাসপাতালের পরিবেশ ঠিক রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন গতকাল দুপুরে প্রথম আলোকে বলেন, এখন একটা বাজে। সারা দিনে রোগীরা নোংরা করে ফেলেছে। সকালে একবার পরিষ্কার করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর আবার পরিষ্কার করা হবে।

সিভিল সার্জন শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি যখন পরিদর্শনে যাই, তখন হাসপাতাল খুবই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন দেখি। তারপরও বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব। হাসপাতালের শয্যাগুলোর অবস্থা আসলেই খারাপ। শিগগিরই কিছু নতুন শয্যা দেওয়া হবে।’

প্রথম আলো

Comments are closed.