জাপান : ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করল ছাত্রদল জাপান শাখা। সংগঠনের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ছাত্রদল জাপান শাখা এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। ১০ জানুয়ারি অজি হোকু তোপিয়া হলে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাপান শাখার সাধারণ সম্পাদক মীর রেজাউল করিম রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সহসভাপতি আলমগীর হোসেন মিঠু।

আবুল খায়ের কোরান তেলাওয়াত দিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদল জাপান শাখার সভাপতি সাদেকুল হাসান বাবলু। সভাটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুজাহেদুর রহমান জুয়েল।

দিবসটির তাৎপর্যে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কাউসার খান, সফিকুল ইসলাম, মো. মাসুদ পারভেজ, শাকিল আলম, রকিব ভূইয়া জনি, তৌহিদুল ইসলাম হেলাল, আবুল খায়ের, মো. মনির হোসেন, সাফি রায়হান, জুয়েল পাঠান, রবিউল আলম, তৌহিদুল আলম রিপন, হায়দার হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, নুর খান রনি, ফয়সাল সালাউদ্দিন তুষার, জসিমউদ্দিন, আলমগীর হোসেন মিঠু, মীর রেজাউল করিম রেজা, কাজী সাদেকুল হাসান বাবলু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, জাতির ক্লান্তিলগ্নে ত্রাণকর্তা হিসেবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল গঠন করে গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারা প্রচলন শুধু শুরুই করেননি, ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সকলের রাজনৈতিক অধিকারও। মাত্র তিন মাসের মাথায় তিনি উপলব্ধি করেছিলেন ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে হলে শিক্ষিত যুব সমাজকে কাজে লাগাতে হবে। আজকের যুব সমাজই আগামী দিনের সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশ পরিচালনা করবে। আর সঠিক নেতৃত্ব দিতে প্রয়োজন শিক্ষিত সমাজের। এই উপলব্ধি থেকে ১৯৭৯ সালের ১ জানুয়ারি গঠন করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দেশের মেধাবী এবং চৌকস ছাত্রদের নিয়ে সেদিন ছাত্রদল যাত্রা শুরু করেছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার হাত ধরে এবং তার সঠিক দিক নির্দেশনায়।

দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়ার সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না তার প্রমাণ আমরা দেখেছি ৮০’র দশকে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে। আমাদের পূর্বসূরি আমানউল্লাহ্ আমান, খায়রুল কবির খোকনদের নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছিল স্বৈরাচার এরশাদের পতন এবং নিরপেক্ষ ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছিল স্বৈরাচারদের পরোক্ষ সহযোগী বা দোসর আওয়ামী লীগকে।

সেই দিনের সেই পরোক্ষ সহযোগী আওয়ামী লীগ আজ প্রত্যক্ষ স্বৈরাচারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আজ তাদের সহযোগী তাদেরই পূর্বসূরি এরশাদ। ইতিহাস থেকে তারা উভয়ে কোনো শিক্ষা নেননি।

বক্তারা আরও বলেন, আজ আবার সময় এসেছে সঠিক নেতৃত্ব দেবার। সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে, গণতন্ত্র হত্যাকারী, ভোটের অধিকার হরণকারীদের হটিয়ে দিয়ে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেবার। একমাত্র ছাত্রদলই পারবে তা ফিরিয়ে দিতে। জেগে উঠতে হবে ছাত্রদলের প্রতিটি নেতাকর্মীদের।

বক্তারা সদ্য সমাপ্ত পৌরসভার ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যারা এতদিন ভোট চুরির কথা কেবল শুনেছিলেন তারা প্রত্যক্ষ করেছে ভোট চুরি কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি? ২০১৪ নির্বাচনে অংশ না নেয়ার যুক্তি পৌরসভার নির্বাচনে খালেদা জিয়া দিতে সক্ষম হয়েছেন। মানুষ এখন বুঝতে পেরেছেন। তাদের এই উপলব্ধিকে কাজে লাগিয়ে ছাত্রদলকে পুনরায় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয় আলোচনা সভা থেকে।

rahmanmoni@gmail.com
সাপ্তাহিক

Comments are closed.