আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্তপ্ত বিবাদ

মুন্সীগঞ্জ জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উত্তপ্তকর পরিস্থির সৃষ্টি হয়েছে। টঙ্গীবাড়ি থানার ভেতরে যুবলীগ কর্মী নাহিদ খানের সাথে ওসির হাতাহাতি প্রসঙ্গ নিয়ে এমনটি হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষের এই সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শেখ লুৎফর রহমানের সাথে অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস এমপি, টঙ্গীবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ ও টঙ্গীবাড়ি আওয়ামী লীগের সভাপতি জগলুল হালদার ভুতুর সাথে এই উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল রুলিং দিয়ে সভাপটিতে এই বিষয়ে আলোচনা বন্ধ করার অনুরোধ জানালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

গত ২৪ অক্টোবর থানায় একটি সালিশ চলাকালে ওসি (তদন্ত) মেহেদী হাসানের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে যুব লীগ কর্মী নাহিদ খানের। এই নিয়ে টঙ্গীবাড়ি থানায় পুলিশ এসল্ট মামলা হয়েছে। মামলা নং ১৫ (১০) ১৫।

সভায় টঙ্গীবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ ঐ দিনে ঘটনা উত্থাপন করে তা তা মিসাংসার প্রস্তাব করেন। এতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হালিম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এমন ফোরামে ঘটনার সঠিক বিবরণ উল্লেখ না করে পুলিশে দায়ী করায় ঘটনা দুঃখ জনক। এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এই ঘটনায় পুলিশ এসল্ট মামলা হয়েচে। এটি আইনানুযায়ী সমাধান হবে।

সদর আসানের সাংসদ অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের উক্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার পর পুলিশ যা করেছে তা নিয়েও মামলা হতে পরতো। আর ঐ আসনে সাংসদ হলে আমি তাই করতাম। আর পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করার সময় এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শেখ লুৎফর রহমান সাংসদের বক্তব্যের বিরোধীতা করেন। তিনি বলেন, নাহিদ খান আওয়ামী লীগ বা তার অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতা বা কর্মী নন। তার জন্য কেন এত কিছু হচ্ছে, নাহিদ খান সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ।

পরবর্তীতে এর বিরোধিতা করেন অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস এমপি, টঙ্গীবাড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ ও টঙ্গীবাড়ি আওয়ামী লীগের সভাপতি জগলুল হালদার ভুতু। অ্যাডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস এমপি প্রশ্ন করেন নাহিদ খানের বিরুদ্ধে এর আগে কি কোন এমন অভিযোগে মামলা বা জিডি আছে? আলহাজ শেখ লুৎফর রহমান বলেন, তার সে এতই ভয়ঙ্কর তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ তো দূরের কথা মুখেও বলতে মানুষ ভয় পায়। টঙ্গীবাড়ি আওয়ামী লীগের সভাপতি জগলুল হালদার ভুতু বলেন, আপনি এখন বলছেন নাহিদ খানকে বলছেন দলের কেউ নয়, কিন্তু আপনার (শেখ লুৎফর রহমান) ছবি দিয়ে যখন ফেস্টুন সাটিয়েছে তখন কেন প্রতিবাদ করেননি। এখন আপনার বিপক্ষে বলে এত কথা। এমনর সময় শহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আরিফুর রহমান টেবিল চাপরিয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এই মামলায় নাহিদ খান এখনও পলাতক রয়েছে।

এছাড়া সভায় মুন্সীগঞ্জের গ্যাস সঙ্কট, যানজট, পরিবেশ দূষণ, অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, অগ্নিকান্ড, গায়ে হলুদের নামে উগ্রতা, মাদ্রাসায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জনকন্ঠ

Comments are closed.