এবং টোকিও

রাহমান মনি: টোকিওতে টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্ট এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল টোকিও মেট্রোপলিটান সরকারের বৃহৎ ক্যাম্পেইন ‘এবং টোকিও’। প্রথমবারের মতো এ আয়োজনের নাম দেয়া হয়েছিল ‘অ্যাম্বাসাডর এবং টোকিও’ অর্থাৎ দূতগণ এবং টোকিও।

১৪ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার তারকা সমৃদ্ধ হোটেল শেরাটন মিয়াকে-এ সান্ধ্যাকালীন এ আয়োজনে ১৫৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত/ দূতালয় প্রধান/ প্রতিনিধি ছাড়াও দেশি বিদেশি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কর্পোরেট প্রধান এবং জাপানসহ বিশ্বের বড় বড় শহরগুলোর প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার জাপান প্রতিনিধিগণ।

এবং টোকিও ক্যাম্পেইন ও শুভেচ্ছা বক্তব্যে টোকিও মেট্রোপলিটান গভর্নর মাসুযোয়ে ইয়োইচি সকলকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের আহ্বানে সাড়া দেয়ার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধন্যবাদ জানান।

শুভেচ্ছা বক্তব্যের শুরুতেই গভর্নর মাসুযোয়ে স্বপ্নের সুন্দর শহর টোকিও গড়ে তোলার জন্য বিদেশি বন্ধুদের পরামর্শ অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা কামনা করে বলেন, বিশ্বের অন্যান্য মেগাসিটির সঙ্গে টোকিওর পার্থক্য যেন নির্ণয় করা যায় এবং এই পার্থক্যটা যেন সার্বিকভাবেই ফুটে ওঠে সেরকম একটি মেট্রোপলিটান শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। এ পার্থক্য হবে খাদ্য সংস্কৃতি, শিক্ষা বাসস্থান, জীবন যাত্রা, প্রযুক্তি, চারুকলা, শিল্পকলা, সাহিত্য মোটকথা বিশ্বের অন্যান্য মেট্রোপলিটান শহর এবং টোকিও।

মাসুযোয়ে বলেন, আর কিছুদিন পরই আমার দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্ণ হবে। এরই মধ্যে আমরা বেশ কিছুই পদক্ষেপ/ উদ্যোগ হাতে নিয়েছি যার মধ্যে ২০২০ সালে টোকিও অলিম্পিক এবং প্যারা অলিম্পিক, ২০১৯ সালে বিশ্বকাপ রাগবি টোকিওতে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ব আসর দুটির আয়োজক টোকিও। আসর দুটিকে সাফল্যজনক গড়ে তুলতে জাপানে অবস্থানরত বিদেশি বন্ধুদের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। অংশ নেয়া দেশগুলো থেকে আগত প্রতিযোগী কর্মকর্তা, দর্শক এবং মিডিয়া প্রতিনিধিরা যেন মনে করতে পারেন অনন্য শহর এবং টোকিও। অন্যান্য আসর থেকে পার্থক্যটা কোথায়।

মেয়র মাসুযোয়ে বলেন, আগামী সেশন থেকে টোকিও’র বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ শিক্ষাদান পদ্ধতি চালু করা হবে ২০২০ টোকিও অলিম্পিক এবং প্যারা অলিম্পিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দিয়ে গড়ে তোলা হবে, যাতে করে আগত দেশগুলোর অতিথিদের ভলান্টিয়ার সার্ভিস বিশ্ব মানের হয়, এই ব্যাপারে আমি আপনাদের উদাত্ত আহ্বান জানাবো, দূতাবাসগুলো যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সে দেশ সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেন। এতে করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট দেশ সম্পর্কে যেমন জানতে পারবে তেমনি প্রতিযোগিতায় সাপোর্টারও তৈরি হবে। শিক্ষার্থীরা যদি কোনো দেশ সম্পর্কে জানতে পারে, তাহলে তাদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। এই আগ্রহ থেকে একপর্যায়ে সাপোর্টার তৈরি হয়।

এরপর মেয়র মাসুখোয়ে ২০২০ সালে অনুষ্ঠিতব্য টোকিও অলিম্পিক এবং প্যারা অলিম্পিক সার্থক করে তোলার জন্য বিভিন্ন কমিটি ও সাব কমিটির প্রধানদের সকলের সামনে পরিচয় করিয়ে দেন। মোট ১৩ জন প্রতিনিধি প্রধানদের ঘোষণা দেন মাসুযোয়ে।

টোকিওর মেয়র মাসুযোয়ে ইয়োইচি নববর্ষে জাপানি সংস্কৃতি (কধমধসর-ইরৎধশর বা সৃষ্টিকর্তার কৃপা লাভে এবং তার উদ্দেশ্যে বলীয়ান হয়ে) অনুযায়ী নববর্ষে টোকিও’র খাদ্য সংস্কৃতি অন্যতম জাপানি মদ এর প্যান্ডেলার উদ্বোধন করেন। এ সময় মেয়রের সঙ্গে ৭টি দেশের রাষ্ট্রদূত সমবেতভাবে জাপানি ট্রাডিশনাল পোশাক পরে এবং সমবেত কণ্ঠে উদ্বোধনী ঘোষণা দেন।

৭টি দেশের রাষ্ট্রদূতরা হলেন পাপুয়া নিউগিনির রাষ্ট্রদূত ঐ. ঊ. গাব্রিয়েল জন ক্লোরো দুসাভা, ইসরাইলের রাষ্ট্রদূত রুই কাহালফ, নামিবিয়ার রাষ্ট্রদূত সোফিয়া-নামুপা নামগোমরা, ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে আরানহা কররিয়া দোলাগো, আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন কেনেডি, কোস্টারিকার রাষ্ট্রদূত লাউরা এসকুইভ্যাল মোয়া এবং কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূত চেয়া কিমথা।

রাষ্ট্রদূতদের পক্ষ থেকে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত আন্দ্রে আরানহা কররিয়া দো লাগো, টোকিওর মেয়রের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।
সবশেষে জাপানিজ ডিশ্ -এ নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অতিথিরা জাপানি সংস্কৃতির বিভিন্ন স্টল ঘুরে জাপানি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্যা এফেয়ার্স ড. জীবন রঞ্জন মজুমদার বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিনিধিত্ব করেন।

অনুষ্ঠানে এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকার বিভিন্ন সংস্কৃতি এবং টোকিও সংস্কৃতি ধারণকৃত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

rahmanmoni@gmail.com

সাপ্তাহিক

Comments are closed.