প্লাস্টিক শিল্পখাতে ১শ’ কোটি ডলার আয় সম্ভব

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু জানিয়েছেন,ব্যবসায়ীরা নীতি সহায়তা পেলে প্লাস্টিক শিল্পে রপ্তানি আয় থেকে ১শ’ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। আর তা ২০২১ সালের মধ্যেই ।

বুধবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ১১তম আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক মেলা-২০১৬’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

৪দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস্ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ) এবং তাইওয়ানের প্রতিষ্ঠান চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনাল।

আমির হোসেন আমু বলেন, সরকার প্লাস্টিক শিল্পের উন্নয়নে শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০১০ সালের জাতীয় শিল্পনীতিতে একে অগ্রাধিকার শিল্পখাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।২০১৬ সালের জাতীয় শিল্পনীতিতেও এখাতকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

বিপিজিএমইএ চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, অর্থ প্রতিমন্ত্রী, এম. এ মান্নান এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, চ্যান চাও ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া প্লাস্টিক ফোরামের জেনারেল সেক্রেটারি কল্লাম চেন প্রমুখ।

প্লাস্টিক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি বিকাশমান শিল্পখাত উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, কাঠের বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার দেশে-বিদেশে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। বাংলাদেশে গুণগতমানের প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

দেশে বর্তমানে প্লাস্টিক পণ্য ব্যবহারের পরিমাণ শতকরা ২০ ভাগ হারে বেড়ে চলেছে। ইতোমধ্যে দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫,০৩০টি প্লাস্টিক ইন্ডাষ্ট্রি গড়ে ওঠেছে। এখাতে সরাসরি ৫ লক্ষ এবং পরোক্ষভাবে ১৩ লক্ষ লোক কাজ করছে। এখন অভ্যন্তরীণভাবে ১৮ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। এখাত রাষ্ট্রীয় কোষাগারে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে থাকে।

তিনি বলেন, রপ্তানি প্রবৃদ্ধির সুযোগ কাজে লাগাতে বর্তমান সরকার পরিবেশবান্ধব সবুজ প্লাস্টিক শিল্পখাত গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্যে আমরা মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানের ধলেশ্বরী ব্রীজের পশ্চিম পাশে বড়বর্ত্তা মৌজায় ৫০ একর জমির ওপর একটি প্লাস্টিক শিল্পনগরি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এ প্রকল্প প্রস্তাব ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। ১৩৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে এ শিল্পনগরির ৩৭০টি প্লটে কম-বেশি ৩৬০টি প্লাস্টিক শিল্প ইউনিট স্থাপন করা হবে।

এসব শিল্প ইউনিটে ১ হাজার ৮০০ নারীসহ মোট ১৮হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে। এটি দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক এ মেলায় বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের ৩ শতাধিক প্লাস্টিক পণ্য, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং সামগ্রী, যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবনকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ

Comments are closed.