মাথা থেকে বুলেট ‍উদ্ধার: হিমুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা

ভাইয়ের অভিযোগ
জাতীয় ছাত্রসমাজের সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ মিজানুর রহমান হিমুকে আগে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে তার মাথায় গুলি করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক ডা. প্রদীপ বিশ্বাস।

তিনি বলেন, ‘হিমুর মাথা থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। শ্বাসরোধে হত্যার পর তাকে গুলি করা হয়।’

রাজধানীর রূপনগর ইস্টার্ন হাউজিং বরইতলার একটি খালি প্লট থেকে রবিবার সকালে হিমুর লাশ উদ্ধার করেন পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মান্নান। তিনি জানান, লাশের মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এছাড়া লাশের পাশ থেকে জিআই তার উদ্ধার করা হয়।

হিমু মুন্সিগঞ্জ সিরাজদিখানের উত্তর রাঙামারিয়া এলাকার আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি ওয়ারীর লালমিল স্ট্রিটের ২৬/৪নং বাসায় ভাড়া থাকতেন।

হিমুর মেঝ ভাই হাবিবুর রহমান জানান, হিমুর মরদেহ প্রথমে বনানীর জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে নেওয়া হবে। সেখান থেকে মুন্সিগঞ্জে নেওয়া হবে মরদেহ।

তিনি আরও জানান, হিমু ২০১২-১৩ সাল পর্যন্ত জাতীয় পার্টির অঙ্গসংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের আহ্বায়ক ছিলেন। পরে সে আর রাজনীতিতে সক্রিয় ছিল না।

ভাই হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ জন্য তিনি আলতাফ হোসেন মন্টু নামে একজনকে দায়ী করেছেন।

তিনি জানান, অনেক আগে মলি নামের এক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক হয় হিমুর। মলির বাবা আলতাফ হোসেন মন্টু তাদের সম্পর্ক মেনে নেননি। পরে অপর এক ছেলের সঙ্গে মলির বিয়ে দিয়ে দেন। এরপর মলি আমেরিকায় চলে যায়। আমেরিকায় চলে যাওয়ার পরও মলির সঙ্গে হিমুর যোগাযোগ ছিল।

২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে আলতাফ হোসেন হিমুর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেন। মামলায় তাকে এক মাস জেলও খাটতে হয়। কিন্তু মলি আমেরিকায় থাকায় পরে আদালত তাকে মামলা থেকে খালাস দেন।

হিমু জেল থেকে বের হয়ে ওই বছরের ডিসেম্বর মাসে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় আলতাফ হোসেনের বিরুদ্ধে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করেন।

ভাই হাবিবুর রহমান আরও জানান, হিমু ১০ বছর আগে লাবণ্য নামে এক মেয়েকে বিয়ে করে। তাদের সংসারে মাহী নামে নয় বছর বয়সী একটি সন্তান আছে। ছয় মাস আগে লাবণ্য হিমুকে তালাক দিয়ে ছেলেকে নিয়ে লক্ষ্মীবাজার এলাকায় বসবাস শুরু করেন। এদিকে, চার মাস আগে মলি আমেরিকা থেকে দেশে আসে। দেশে আশার পর মলি ও হিমু বিয়ে করে। মলি এক মাস থেকে আবারও আমেরিকায় চলে যায়।

হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, মলিরর বাবা আলতাফ হোসেন বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে হিমুকে তিনি পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, হিমু ২০১৩ সালের শেষ পর্যন্ত জাতীয় ছাত্রসমাজের আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ছাত্রসমাজের কাউন্সিল হলে তিনি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটের মাধ্যমে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত করার কথা থাকলেও দলের মতের ভিত্তিতে সভাপতি সিলেকশন করা হয়। এরপর অভিমান করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলের বাইরে ছিলেন।

দ্য রিপোর্ট

Comments are closed.