মুন্সীগঞ্জ হাসপাতালে অবহেলায় কোটি টাকার যন্ত্রপাতি

লাবলু মোল্লা: মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ব্যবহার না করায় তা অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হতে চলেছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো মাথাব্যথা। প্রতিনিয়ত শত শত রোগী এ যন্ত্রপাতি ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাধ্য হয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নিম্নমানের যন্ত্রপাতির সাহায্যে মোটা অঙ্কের টাকা ব্যয় করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। এতে তারা যেমন বঞ্চিত হচ্ছেন উন্নত চিকিৎসা থেকে অপর দিকে গুনতে হচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

১০০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে সু-চিকিৎসা ও নানাবিধ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সরকারিভাবে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের অর্থ পেডিক্সের সিআর মেশিন। যার দ্বারা হাড়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অপারেশন করা হয়। এ ছাড়াও রয়েছে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের চক্ষু পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য অর্থাল মসকপ ও অপারেটিভ মাইক্রোসকোপ এবং ইসিজি মেশিন। কিন্তু এগুলো ব্যবহার না করে কোনো রকম দায়সারা রোগী দেখছেন চিকিৎসকরা। রোগী এলেই তাদের বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগ নির্ণয়ের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, এ থেকে ডাক্তাররা কমিশন পেয়ে থাকেন। এতে গরিব রোগীদের খরচ হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এ সুযোগে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিক আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরা। জেলা শহরের প্রধান এ হাসপাতালে মোট ডাক্তারের পদ রয়েছে ৩৪ জন। কিন্তু ডাক্তার আছেন ১৭ জন। যাদের বেশির ভাগই থাকেন ঢাকায়। কোনো রকম ঘণ্টা মেপে শেষ করেন তাদের ডিউটি। এখানে অ্যানেস্থেশিয়া, অর্থপেডিকস সার্জন, শিশু বিশেষজ্ঞ, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞসহ বেশ কয়েকটি পদে ডাক্তার শূন্য। যে পরিমাণ টেকনিশিয়ান থাকার কথা তাও নেই এখানে। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় রোগীদের।

চিকিৎসা নিতে আসা একজন দুস্থ অসহায় মানিকের মা (৬৫) জানান, নিজের নাম অনেক আগেই ভুলে গেছেন। মানিক জন্মের পর তার নাম ধরে আর কেউ ডাকেনি, তাই মানিকের মা হিসেবেই সবাই চেনে তাকে। ভাড়া থাকেন শহরের দক্ষিণ কোর্টগাওয়ে। ডাক্তারের কাছে এসেছিলেন। কিন্তু ডাক্তার তাকে যত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কথা বলেছেন। যা হাসপাতালের পাশে একটি ক্লিনিকে অনেক টাকা লাগবে শুনে পরীক্ষা না করেই বাড়ি চলে যাচ্ছেন বলে জানালেন এ প্রতিবেদককে। এ রকম চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে ব্যর্থ হয়ে অনেকে অকালে ঝরে পড়ছেন মৃত্যুর কোলে।

হাসপাতালে পড়ে থাকা যন্ত্রপাতির কথা স্বীকার করে ওটি ইনচার্জ হামিদা বেগম বলেন, এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের জন্য ডাক্তার ও টেকনিশিয়ান নেই। এগুলো থাকলেই কি মানুষের রোগ পরীক্ষা করা যায়। এ দিকে হাসপাতালে লাশের পোস্টমর্টেমের সময় স্বজনরা পড়েন বিপাকে। স্বজনরা মোটা অঙ্কের টাকা না দিয়ে লাশ নিতে পারেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কারণ অনেক সময় ডোম লাশ কাটার পর সেলাই না করে রেখে দেন। অনেকের ধারণা ডোমের সঙ্গে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাখাওয়াত হোসেনের সখ্য রয়েছে। ডোম অনেক সময় একটি লাশের জন্য ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চেয়ে থাকেন। কমপক্ষে তাকে ১০-১৫ হাজার টাকা দিতে হয়। অনেক সময় বিশ হাজার টাকাও নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সাখাওয়াত হোসেন দায় সারা গোছের কথা বলে জানান, হাসপাতালে কোনো অনিয়ম নেই। যন্ত্রপাতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ সব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তবে ডাক্তারদের বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী পাঠানোর ব্যাপারে তিনি জানেন না। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

বিডি-প্রতিদিন

Comments are closed.