যারা ফিরে আসেনি…

মেছের আলী: ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। একই সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তি ঘটে। দীর্ঘ নয় মাস স্বাধীনতা যুদ্ধ চলার পর ১৬ ডিসেম্বর পাক সেনাপতি রণক্ষেত্রে পরাজয় মেনে নিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

যেসব বাঙালী সেনাবাহিনীতে চাকরিরত অবস্থায় ক্যান্টনমেন্ট ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন কিন্তু নিজ নিজ বাড়িতে, পরিবারবর্গের কাছে সংবাদ পাঠিয়ে ছিলেন এবং পরবর্তীতে স্বাধীনতাযুদ্ধ শেষে তাদের মধ্যে অসংখ্য সেনা সদস্য পরিবার, পিতা-মাতা তথা বাড়িতে আর ফিরে আসেননি। তাদের অনেকের সন্ধান আজও জানা যায়নি। ওইসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধানে পরবর্তীতে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সব সরকার কর্তৃক তা আশা করাটা কঠিন ছিল।

গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সরকার বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার হারিয়ে যাওয়া নিখোঁজ শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সন্ধান নিতে দেশের সব স্থানে গণকবর চিহ্নিত করে ওইসব এলাকার লোকজন অথবা নামফলক হতে নাম সংগ্রহ করে জাতীয় সব পত্রিকায় প্রকাশ করার ব্যবস্থা নিতে পারে। যেমন মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর থানার অন্তর্গত কয়কীর্তন গ্রামের আমিনুল ইসলাম কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে সেনা সদস্য থাকাবস্থায় ১৯৭১ সালে মার্চ মাসে কোন এক তারিখে ক্যান্টনমেন্ট ত্যাগ করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে সংবাদ পাঠিয়ে ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ওরফে আমিনুল হক আজও ফিরে আসেননি। গণকবর ও বধ্যভূমির অনুসন্ধানের ব্যবস্থা নেয়া জরুরী, সব জেলার ডিসিদের প্রতি ও থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারদের প্রতি উক্ত বিষয়ে জরুরী নির্দেশনা দিতে পারে স্বরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

শ্রীনগর, মুন্সীগঞ্জ
জনকন্ঠ

Comments are closed.