শ্রীনগরে সরকারী রাস্তা তৈরির নামে ৩৪ লাখ টাকা হরিলুট!

৬ মাসের নির্মান কাজ ৫ বছরে সমাপ্ত
আরিফ হোসেন: শ্রীনগরে সরকারি রাস্তা তৈরির জন্য প্রকল্পের ৩৪ লাখ টাকা হরিলুট করেছে সাজ এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার আটপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন ও একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ নেতা শাহাদাৎ হোসেন। তাদের প্রতিষ্ঠানটি ইউএনআর জিডিপি-মুন-১১২ প্রকল্পে ২০১০ সালে ৬ মাস মেয়াদে ( ১ মার্চ-২০ সেপ্টেম্বর ২০১০) কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। এর পর ১০% সিকিউরিটি মানি ও মাত্র ৮৭ হাজার চারশ টাকা পারমরমেন্স সিকিউরিটি মানি জমা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি উপজেলার কল্লিগাও- পূর্ব দেউলভোগ রাস্তা পুন: নির্মানের কাজ শুরু করে। কাজ শুরুর পর নানা অজুহাত দেখিয়ে চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে বারবার সময় বৃদ্ধি করে ৬ মাসের স্থলে প্রায় ৫ বছর পর ২০১৫সালের অগাস্ট মাসে উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে দায়সারা ভাবে কাজটি বুঝিয়ে দেয়।

এর আগেই প্রকল্পের ৩৪লাখ টাকার সিংহভাগ ও পারফরমেনন্স সিকিউরিটি মানির পুরোটাই মেসার্স সাজ এন্টারপ্রাইজ উত্তোলন করে নেয়। প্রতিষ্ঠানটি কাজের শুরুতেই প্রি ওয়ার্ক কম দেখিয়ে কয়েক লক্ষ টাকা মাটি ভড়াটের নামে হরিলুট করে। রাস্তার ঢালু থেকে মাটি উত্তোলনের ফলে কাজের শুরুতেই রাস্তাটি ঝুকিপূর্ণ হয়ে পরে। এসময় স্থানীয় জনতা কাজে বাধা দিলে ঠিকাদাররা রাজনৈনতিক প্রভাব খাটিয়ে কারো তোয়াক্কা না করে কাজটি নাম মাত্র সম্পাদন করে।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় সূত্র জানায়, ৯শ ৮৫ মিটার দৈর্ঘ্য রাস্তাটির প্রাক্কলিত ব্যায় ৩৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। বুধবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ওই রাস্তাটি নির্মান কাজ মাত্র ৫মাস আগে শেষ হলেও এর অবস্থা একেবারেই নাজুক। পায়ে হাঁটা দায়। অথচ প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্ণধার শাহাদাৎ হোসেন এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন প্রকৌশল অফিসকে ম্যানেজ করে অবশিষ্ট কাজ না করেই জামানতের প্রায় ৮লাখ টাকা উত্তোলনের পায়তারা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এব্যাপারে ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আইয়ূব আলী খান জানান, আমাকে না জানিয়ে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভতভাবে গোজামিল দিয়ে কাজ করে টাকা লুটপাট করেছে। আমি এর কিছুই জানিনা। ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশিদ জানান, আগেই ভালো ছিল। এ রাস্তা এখন আমাদের গলার কাটা। কল্লিগাও গ্রামের ষাটোর্ধ আ: আজিজ জানান, এরাস্তা দিয়ে কোন অসুস্থ মানুষ তো দূরের কথা সুস্থ মানুষও চলাচল করতে পারেনা। অথচ দুই গ্রামের জন্য রাস্তাটি খুব দরকার। প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ রাস্তাটির নির্মাণ কাজ উদ্ভোধন করেন। কিন্তু বিল্লাল চেয়ারম্যান তার নিজের ইউনিয়ন হওয়া সত্বেও লোভ সামলাতে পারেনি। মোবারক হোসেন জানান, বিল্লাল হোসেন চেয়ারম্যান পদে না থেকেই হরিলুট করেছে আর ভবিষ্যতে চেয়ারম্যান হলে যে কি করবে তা আল্লাহই জানে।

উপজেলা প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ এ বিষয়ে উপ-সহকারি প্রকৌশলী আব্দুল মমিনকে জেলা একচেন্স বরাবর চিঠি ইস্যু করতে বলেন। ১৫দিন অতিবাহিত হলেও রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তা কোনো পদক্ষেপ নেননি। এ রাস্তাটির বিল সংক্রান্ত কোন ফাইলপত্র উপজেলা কার্যালয়ে নেই বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। এব্যাপারে সাজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক বিল্লাল হোসেন খান বলেন, পুনরায় টেন্ডার হবে। আরও টাকা পেলে রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও উপজেলার বাড়ৈগাঁও হাই স্কুল মোড় থেকে মসজিদ ও প্রাইমারি স্কুলে যাওয়ার একমাত্র কাঁচা সড়কটিতে ইটের সলিং করার দায়িত্ব পান । কিন্তু বর্তমানে ওই রাস্তাায় ইটের লেশ মাত্র নাই।

Comments are closed.