স্বাধীনতার ৪৩ বছরেও ভাতা পায়নি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আমির খান

সুমিত সরকার সুমন: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার তাতীকান্দি গ্রামের মো: আমির খাঁন মুক্তিযুদ্ধের ৪৩ বছরেও পায়নি সরকারী সহায়তা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ২নং সেক্টরে কুমিল্লা, আগরতলা , বাগমারি, ব্রাক্ষনবাড়িয়া, ভৈরব এলাকায় তিনমাস যুদ্ধ করে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। কুমিল্লা থেকে যুদ্ধের জন্য নরসিংদীর ঘোড়াশালে আসার পর ঘোড়াশাল ব্রীজটি গ্রেনেট মেরে ব্রিজটি গুড়িয়ে দেয় পাকা বাহিনীর সদস্যরা। সে সময় মো: আমির খাঁন পিতামৃত- মো: মহিজউদ্দিন খাঁন এর বাম পা গ্রেনেডের আঘাতে উড়ে যায়।

তখনকার সময় তাকে সংগীয় যোদ্ধারা ঢাকার মগবাজারের হলি ফ্যামেলী হাসপাতালে ভর্তি করে । দীর্ঘ ১১ মাস চিকিৎসা শেষে নিজ গ্রামের বাড়ীতে ফিরে আসে যুদ্ধাহত এই মুক্তিযোদ্ধা। এর এক বছর পর সরকার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারীভাবে রাশিয়া পাঠায় মুক্তিযোদ্ধা আমিরকে। রাশিয়ায় ২ মাস পনেরো দিন চিকিৎসাধিীন থাকার পর তার নকল পা স্থাপন করা হয়। শুরু হয় তার সংসার যুদ্ধ তিনি কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে তিনি বাকপ্রতিবন্ধী। বিভিন্ন সময়ে অভাব অনটনের কারনে পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করতে হয় তাকে।

পরে জমি হারিয়ে অন্যের জমিতে কাজ করে সংসার চালাতে হতো আমিরের। তার সংসারে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে আছে। মেয়েরা শ্বশুড় বাড়ীতে আর ছেলেরা বিবাহ করে যার যার সংসার নিয়ে ব্যস্ত। সে তার স্ত্রী মালেকা বেগমের উপার্জন আর গ্রামের লোকের দেয়া সাহায্যের উপর নির্ভর করে চলে তার সংসার। স্বাধীনতার পর একাধিকবার বিভিন্ন সরকারের পালাবদল হলেও ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মো: আমির খাঁনের।

মুক্তিযোদ্ধা আমির খাঁন জানান, আমার যে পা টি দেখছেন সেটি রাশিয়া থেকে চিকিৎসা করানোর সময় দিয়েছিল। আমি ১৯৮২ সাল থেকে চার স্তরে ভাতা পাইতাম। কিন্তু দু:খের বিষয় হল ১৯৯৫ সালে আমার বাড়ীতে আগুন লাগিয়া আমার ঘরবাড়ী পুরে ছাই হয়ে যায় তখন আমার ভাতাকার্ড, চেকবই, সনদসহ মূল্যবান কাগজপত্র আগুনে পুঁড়ে নষ্ট হয়।

পরে আমি অনেক চেষ্টা করে আবারো আমার চেকবই সংগ্রহ করি ১৯৯৯ সালে। আর এ কাগজগুলো পূনরায় উদ্ধার করতে পঙ্গু পা নিয়ে ঢাকা শহরে শতবার গিয়েছিলাম। পরে জানতে পারি আমার নামের জায়গায় অন্যের নাম জালিয়াতি করে বসানো হয়েছে। আমি শত চেষ্টা করেও আর আমার নাম লিখাতে পারিনাই। আমার সরলতার সুযোগ নিয়ে অসাধু কর্মকর্তারা আমার নাম বাদ দিয়ে সেখানে অন্যের নাম লিখে ফেলে।

যুদ্বাহত মুক্তিযোদ্বা আমির বলেন, যুদ্ধে পা হারিয়ে দেশকে স¦াধীনতা এনে দিয়েছি কিন্তু দেশের সরকার আমার জন্য কিছুই করে নাই। প্রতিবছর ১৬ ডিসেম্বর আসলে আমাকে একবার স্মরন করে , পরে সারা বছর আমার কোন খবর রাখেনা কেউ। সরকারের কাছে আমার দাবী আমি যদি দেশের জন্য কিছু করে থাকি তাহলে যেন শেষ বয়সেও আমি যেন আমার স¤œান নিয়ে মরতে পারি।

বিডিলাইভ

Comments are closed.