প্রার্থী বাছাইয়ে পক্ষপাতিত্ব?

মুন্সিগঞ্জ ও মীরকাদিম
মুন্সিগঞ্জ ও মীরকাদিম পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন মনোনয়নপ্রত্যাশী। এদিকে আজ সোমবার দুই পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

প্রার্থী বাছাই-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার কেন্দ্রীয় নির্দেশে তৃণমূল থেকে প্রার্থী বাছাই কমিটি জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে বৈঠকে বসে। সাত সদস্যের কমিটির সদস্য সাংসদ মৃণাল কান্তি দাস অসুস্থতার জন্য সেখানে থাকতে পারেননি। সমিতির কার্যালয়ে দুই পৌরসভায় মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আবেদন নিয়ে হাজির হতে বলা হয়। মনোনয়ন বাছাই কমিটির সদস্য ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফসার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা থেকে একমাত্র জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মহিউদ্দিনের ছেলে ফয়সাল বিপ্লব মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করেন। তাই কমিটি তাঁকে দলের প্রার্থী নির্বাচন করে।

আর মীরকাদিম পৌরসভা থেকে সম্প্রতি আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া বর্তমান পৌর মেয়র শহীদুল ইসলাম ও জেলা আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহমেদ মনোনয়ন চান। বাছাই কমিটি পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সম্পাদককে নিয়ে ভোটের আয়োজন করে। এতে ১৫ জন ভোটারই শহীদুলকে ভোট দেন।
তবে বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তকে পক্ষপাত বলে শনিবারই পৃথক প্রেস ব্রিফিং করেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ জেলা কমিটির সভাপতি রেজাউল ইসলাম, শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাতাব উদ্দিন ও জেলা আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মনসুর আহমেদ। রেজাউল ও মাহতাব সাংসদ মৃণালের সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিতি।

মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে রেজাউল ইসলাম শনিবার বলেন, ‘আমি ও আমার ছোট ভাই আবেদন নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টার সময় জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে গেলে তাঁরা আমাকে আবেদনের সময় শেষ হয়ে গেছে বলে সেখানে ঢুকতে দেননি। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির ছেলেকে নেওয়ার জন্যই তাঁরা এই নাটক করেছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমার আবেদন নিয়ে যদি বাদও করে দিত, তাতে আমার দুঃখ ছিল না। এখন আমাকে সংগত কারণে তাঁদের অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হচ্ছে।’

শনিবার সন্ধ্যায় একটি রেস্তোরাঁয় বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে প্রেস ব্রিফিং করেন মাহতাব উদ্দিন। তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই দিন রাত আটটার দিকে মনসুর আহমেদ মীরকাদিমের একটি কমিউনিটি সেন্টারে প্রেস ব্রিফিং করে বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ করেন।

এদিকে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন বর্তমান মেয়র শহর বিএনপির সভাপতি এ কে এম ইরাদত ও তিনবারের নির্বাচিত কাউন্সিলর শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম। ২০-দলীয় জোট থেকে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান মনোনয়ন চাইবেন। মুজিবুর রহমান বলেন, ‘জোট মনোনয়ন দিলে অবশ্যই নির্বাচন করব।’

মীরকাদিমে দলীয় মনোনয়ন চাইছেন পৌর বিএনপির সভাপতি জসিমউদ্দিন, তাঁর ভাই জেলা বিএনপির সদস্য মিজানুর রহমান এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আজগর বলেন, সোমবার মুক্তারপুরে দলীয় সভায় মুন্সিগঞ্জ ও মীরকাদিমে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

প্রথম আলো

Comments are closed.