আ.লীগের কোন্দলের সুযোগ নিতে চায় বিএনপি

শেখ মো. রতন: নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচারে মাঠে নেমে পড়েছেন। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় দুটি পৌরসভা রয়েছে। এর একটি মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও অন্যটি মিরকাদিম পৌরসভা।

জেলা শহরের পুরাতন কাচারিতে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম চলছে। মিরকাদিম পৌরসভার চেয়ে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভায় এখন জেলাবাসীর দৃষ্টি। ইতিমধ্যে এ পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছে- সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার।

স্থানীয় অনলাইন পত্রিকায় এবং সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রার্থিতার ঘোষণা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এ ছাড়া ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ নির্মাণ করে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।

সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের সমর্থন আদায় করতে ও দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়-ঝাপ শুরু করে দিয়েছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সমর্থিত একজন ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সমর্থিত একজন সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী প্রচার চালাচ্ছেন। একই দল থেকে দুই নেতা প্রচারে থাকায় নেতা-কর্মীরা বিরোধে জড়িয়ে পড়ছেন।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সমর্থিত হাজী মো. ফয়সাল বিপ্লব ও মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাভোকেট মৃণাল কান্তি দাস সমর্থিত রেজাউল ইসলাম সংগ্রামের শুভেচ্ছা ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণে ছেয়ে গেছে গোটা পৌর-এলাকা।

স্থানীয় বিএনপি আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বিরোধ পর্যবেক্ষণ করে প্রার্থী মনোনয়নের কৌশল নিয়ে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। গত পৌর নির্বাচনের মতো আসন্ন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বিরোধের সুযোগ নিয়ে বিএনপি নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে যাচ্ছে।

এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের বড় ছেলে এবং গত পৌর নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী হাজী মো. ফয়সাল বিপ্লব। তিনি মুন্সীগঞ্জ পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক আগে থেকেই এলাকায় জনসংযোগসহ একাধিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।

যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে জনগণ তাকেই পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচিত করবেন বলে রাইজিংবিডির কাছে ফয়সাল বিপ্লব আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) নিয়ে নানান পরিকল্পনায় কাজ করছে দলের আরেকটি অংশ। এরই ধারাবহিকতায় গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের দিনে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগে যোগ দেন ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ জেলা শাখার সভাপতি রেজাউল ইসলাম সংগ্রামসহ তার নেতা-কর্মীরা।

এরপর থেকেই রেজাউল ইসলাম সংগ্রাম মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রচার শুরু করার পাশাপাশি দলীয় নেতাদের সঙ্গে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।

দলের মনোনীত প্রার্থিতার দৌঁড়ে হাজী মো. ফয়সাল বিপ্লব এগিয়ে থাকলেও তাকে মেয়র হতে না দেওয়ার জন্য বিরোধী গ্রুপ নানা পরিকল্পনা শুরু করেছে। মৃণাল কান্তি দাসের সঙ্গে ফয়সাল বিপ্লবের বাবার বিরোধ থাকায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জেলা শহরের চায়ের স্টল থেকে গোটা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের মুখে-মুখে চাওর রয়েছে।

গত পৌরসভা নির্বাচনে মৃণাল কান্তি দাস ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছুজ্জামান আনিছের প্রকাশ্য বিরোধিতার কারণে মো. ফয়সাল বিপ্লব পরাজিত হয়েছিলেন। এ কারণে গত নির্বাচনের পর থেকেই বিরোধ আরো জটিল রূপ ধারণ করে।

এবারও আওয়ামী লীগের ভোট দুই ভাগ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ সুযোগ নিয়ে গত নির্বাচনের মতো আসন্ন পৌর নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী জয়ী হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে যাবেন। এ কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের বিরোধের সুযোগ কাজে লাগাতে নির্বাচনে অংশ নেওয়া ও চূড়ান্ড প্রার্থী ঘোষণায় অপেক্ষায় রয়েছে বিএনপি জেলা নেতৃত্ব।

বিএনপির দলীয় প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র এ কে এম ইরাদত মানু। এ ছাড়া শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম দলীয় প্রার্থী হওয়ার জন্য নেতাদের সমর্থন আদায়ে লবিং চালাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগ নেওয়া ও ভোট ব্যাংকে এগিয়ে থাকার হিসাবে বর্তমান মেয়র এ কে এম ইরাদত মানু বিএনপির দলীয় প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছেন।

এ পৌর সভায় জামায়াত ইসলামী কখনোই প্রার্থী দেয়নি। এবারও তারা প্রার্থী দিচ্ছে না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে তারা বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে এবারও নির্বাচনী প্রচারে থাকবে।

রাইজিংবিডি

Comments are closed.