কুয়াশায় দেরিতে পৌঁছাচ্ছে সাকার মরদেহবাহী গাড়ি

রাতে কুয়াশার কারণে যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মরদেহ চট্টগ্রামে পৌঁছাতে বিলম্ব হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাতে ঢাকা থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় কুয়াশার কারণে আস্তে আস্তে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। এটাই বিলম্বের কারণ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১২টা ৫৫ মিনিটে সাকা চৌধুরীর দণ্ড কার্যকর শেষে প্রায় দুই ঘণ্টা পর সেখান থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলানিউজের মুন্সীগঞ্জ করেসপন্ডেন্ট কাজী দীপু জানান, শনিবার (২১ নভেম্বর) দিনগত রাত ৩টা ১০মিনিটে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজ পার হয়ে ৩টা ২৫ মিনিটে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা অতিক্রম করে গাড়িটি।

আর ভোর রাত ৪টায় কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মেঘনা টোল প্লাজা অতিক্রম করে চান্দিনা হয়ে বুড়িচং দিয়ে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের পর চৌদ্দগ্রামের দিকে যায় সাকার মরদেহবাহী গাড়ি বহর।

ভোর পৌনে ৫টার দিকে মহাসড়কের চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড ও ৪টা ৪৯ মিনিটে গাড়িবহরটি উপজেলা সদর এলাকা অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, সঙ্গে ছিলেন চান্দিনা উপজেলা করেসপন্ডেন্ট রণবীর কিংকর।

মহাসড়কের ফেনী সীমান্তে সাকা চৌধুরীর মরদেহবাহী গাড়ি জেলা প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা বুঝে নেন বলে জানিয়েছেন ফেনীর স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সোলায়মান হাজারী ডালিম।

তিনি জানান, মরদেহবাহী গাড়িবহরটি রোববার ভোর সাড়ে ৬টা ৪০ মিনিটে ফেনীর মহিপাল পৌঁছায়। সেখান থেকে লালপুল, লেমুয়া হয়ে ধুমঘাট ব্রিজ অতিক্রম করে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

রাতে কিছুটা কুয়াশা থাকলেও ভোরে তা কেটে যায় বলে জানান ডালিম।

৬টা ৫০মিনিটে মীরসরাই করেসপন্ডেন্ট রিগান উদ্দিন জানান, গাড়ি বহরটি মীরসরাইয়ের দিকে আসছে। এরইমধ্যে গাড়িবহর গ্রহণ করতে মহাসড়কের চট্টগ্রাম সীমান্তে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

সীতাকুণ্ড সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ সিকদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘কুয়াশার কারণে রাতে আস্তে গাড়ি চালানো হয়েছে। এজন্য গাড়িবহরটি আসতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।’

এদিকে সাকার মরদেহ রাউজান পৌর এলাকার গহিরায় তার পারিবারিক নতুন কবরস্থানে দাফন করা হবে। এরইমধ্যে কবর খোঁড়া শেষ হয়েছে; এখন তার মরদেহের অপেক্ষায় আছেন স্বজনরা।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির দণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর আপিল করেন সাকা। তবে সর্বোচ্চ সাজার প্রেক্ষিতে আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১৮ নভেম্বর সেই আবেদন খারিজ করে ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

শনিবার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান সাকা। কিন্তু ক্ষমা পাননি তিনি। যদিও কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করে ছেলে হুম্মাম বলেছেন, তার বাবা প্রাণভিক্ষা চাননি।

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর

Comments are closed.